প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে ৩০ কর্মসূচি, ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

0
IMG_20260924_215039_728
image_pdfimage_print

ঢাকা

বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রয়েছে। সফরকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

 

জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি ছিল জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মূল কর্মসূচি। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ ও সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া উল্লেখযোগ্য।

 

মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব, সরকারের নীতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

 

জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও রোহিঙ্গা সংকট

 

সফরে জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। সেখানে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সৌরশক্তির প্রসারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

 

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো, স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ানো এবং দ্রুত ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

 

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে পাঁচটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তাঁর ভাষ্য, সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত এবং প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

 

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। দেশগুলো হলো পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতি।

 

এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক

 

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, বিশ্বব্যাংক, গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রায় ২৫ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ, আর্থিক খাতের সংস্কার ও ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গে বৈঠকে বিমানের বহর সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

 

জাতিসংঘে বক্তব্য ও প্রতিনিধিদলের কার্যক্রম

 

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলে ৩৫ জন সদস্য ছিলেন। এর বাইরে নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরে ছিলেন। চার দিনে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় ৪০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটিতে বক্তব্য দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

 

জাইমা রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ নিয়ে ব্যাখ্যা

 

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ নিয়েও ব্যাখ্যা দেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাঁর ভাষ্য, জাইমা রহমান জাতিসংঘের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে সরাসরি নিয়োগ পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও মানবসম্পদ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

 

মাহদী আমিন আরও দাবি করেন, পি-৩ পদে জাইমা রহমানের নিয়োগ তাঁর শিক্ষা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে এবং এর আর্থিক সুবিধাও জাতিসংঘ বহন করে।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *