দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: রাষ্ট্রপতি

0
IMG_20261018_153528_701
image_pdfimage_print

ঢাকা

রবিবার

১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং

২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেষ্ঠ প্রতিবেদক | তারারদেশ নিউজ:

 

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সেগুলোকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।

 

রোববার ১৮ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এ উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। দেশের সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

 

রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপতি

 

বক্তব্যে রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় এবং ১৯৭৩ সালে তা ধ্বংস করা হয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় মন্দিরটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মন্দিরটিকে আগের ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

 

দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি দুর্গোৎসবের সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।

 

অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পণা রায় দাস, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *