আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলাম: ইশরাক হোসেন

0
IMG_20261018_154455_538
image_pdfimage_print

ঢাকা

রবিবার

১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং

৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, হামলার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

 

হামলার আশঙ্কার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালানোর আশঙ্কার কথাও জানানো হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য হামলা ও জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।

 

অভিযানে ছয়জন আটক, মাদক ও সরঞ্জাম জব্দের দাবি

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছিলেন প্রতিমন্ত্রী। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভাও করেছেন বলে জানানো হয়।

 

প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাবি, ১৭ অক্টোবরের কর্মসূচিতে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করার পর তাদের উপস্থিতি ও সহায়তায় কয়েকটি সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী আস্তানা উচ্ছেদ এবং হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, ধারালো অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে জব্দ করা মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষার ফল এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি

 

অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ছবি ও সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত তথ্য প্রকাশ করে অভিযানের প্রেক্ষাপট, পুলিশের ভূমিকা এবং আটকের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরেনি।

 

তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

 

বিজ্ঞপ্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *