আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

0
IMG_20261018_160125_574
image_pdfimage_print

ঢাকা

রবিবার

১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং

২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সশস্ত্র বাহিনী গঠনের লক্ষ্য

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

 

তাঁর মতে, একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না। শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ, জনগণের আস্থা এবং কমান্ড কাঠামোর কার্যকারিতাই একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তির ভিত্তি।

 

তিনি বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড কেবল একটি পতাকা নয়; এটি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। এই সম্মান অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ নিতে হয়।

 

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পর চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের প্রতিরোধের ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

 

জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাসদস্যদের সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে সেনাসদস্যদের ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস।

 

প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার

 

বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

 

এ বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়োপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষাশিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

দুর্যোগ মোকাবিলা ও শান্তিরক্ষা মিশনে ভূমিকা

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

 

সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান

 

অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়। ইউনিটগুলো হলো ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *