সাক্ষরতার পরের ধাপ দক্ষতা, লক্ষ্য হবে আত্মনির্ভরতা: তারেক রহমান
ঢাকা
বুধবার
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:
সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
শুধু পড়া-লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় সাক্ষরতা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাক্ষরতার ধারণা শুধু পড়া, লেখা ও গণনার মৌলিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, জীবনদক্ষতা ও পরিবেশ-সচেতনতাও যুক্ত হয়েছে।
তার মতে, মানুষের উন্নয়ন, পৃথিবীর সুরক্ষা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির সংযোগস্থলেই আধুনিক সাক্ষরতার অবস্থান।
শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট
তারেক রহমান জানান, সবার জন্য কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের মেয়াদে এ বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানবিক ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তোলায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা জানান তিনি।
সাক্ষরতার পরের ধাপ দক্ষতা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতার পরবর্তী ধাপ হবে দক্ষতা এবং দক্ষতার লক্ষ্য হবে আত্মনির্ভরতা ও কর্মসংস্থান। এজন্য সাক্ষরতা কার্যক্রমকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।
বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষাবঞ্চিত নারী ও গৃহিণীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল সাক্ষরতার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কাউকে পেছনে না রাখার অঙ্গীকার
শিশু, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মূলধারায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।
মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব
শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের চর্চা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তার মতে, আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য শুধু দক্ষ কর্মী নয়, মানবিকতা ও ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন দায়িত্বশীল নাগরিকও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান
শিক্ষা ও সাক্ষরতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তারারদেশ নিউজ


