শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
img-20260810-wa0009-20260810151926-msn1rv4guk226ap-20260810155433~2
image_pdfimage_print

ঢাকা

সোমবার

৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং

২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বাড়ে।

 

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

 

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আদর্শ রোল মডেল। শিক্ষকেরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

আধুনিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে প্রথাগত শিক্ষাপদ্ধতির পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার সিলেবাস আধুনিকায়নের পাশাপাশি মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’ প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই চালুর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প নয়, বরং শিক্ষকের শক্তি হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি ‘একজন শিক্ষক, একটি ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের কথাও জানান।

 

শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্য

 

শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের পার্থক্য কমিয়ে সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কারে সরকারের লক্ষ্য হলো সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার। কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনকেও শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

 

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব

 

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, মেধাবী মানুষদের শিক্ষকতা পেশাকে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।

 

এ ছাড়া শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতার অর্থ যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

জাতীয় দিবসে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ

 

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আমন্ত্রিতদের তালিকায় চলতি বছর থেকে নীতিমালার ভিত্তিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, একজন শিক্ষক কর্মরত থাকুন কিংবা অবসর জীবন কাটান—তাঁর পেশাগত মর্যাদার কারণে আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মাননীয়।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *