প্রধানমন্ত্রীর হাতে রক্তমাখা জাতীয় পতাকা তুলে দিলেন জুলাই আহত আজিজুর

0
jagonewsimage-2-ms7htq5xsd4jgkm-20260730183526
image_pdfimage_print

ঢাকা

০৫ আগষ্ট ২০২৬ ইং
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিমুল মাহমুদ | তারাদেশ নিউজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত হওয়া ছাত্রদল নেতা শেখ আজিজুর রহমান

মাথায় গুলির ক্ষত। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন। জুলাই আন্দোলনের মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় মাথার রক্ত বন্ধ করতে যে জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন, সেই পতাকা রক্তে ভিজে গিয়েছিল। সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শেখ আজিজুর রহমান।

গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জুলাই আন্দোলনে আহত আজিজুর।

এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণ হলো। তার ইচ্ছা ছিল, রক্তক্ষরণ ঠেকাতে মাথায় বাঁধা সেই জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেবেন। আজ তিনি সেই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

আন্দোলনে নিহতরা ‘জুলাই শহীদ’, আহতরা ‘জুলাইযোদ্ধা’র পরিচিতি পাবেন।

সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আজিজুরকে সাক্ষাতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনেন। আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন, অটোরিকশা চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানোর বিষয় এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আজিজুরের জীবনসংগ্রামের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে ব্যথিত করে।

তিন ক্যাটাগরিতে আরও ৭১৩ জুলাইযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ
সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শেখ আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন। এটিকে তিনি জীবনের স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

আজিজুর বলেন, এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

আজিজুর রহমান মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী বিএন‌পির দলীয় প‌রিচয় থাকায় অনেক জুলাইযোদ্ধা বঞ্চিত এত ত্যাগ ও অবদান থাকার পরও ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও তিনি জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্টিয়ারিং ধরতে হয়েছে। জীবনের দুটি বছর কেটেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।

লে. কর্নেল (অব) কামাল আকবর / গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের ১১৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে
আহত অবস্থায় মাথার গুলির ক্ষত ঢাকতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। রক্তে ভিজে যায় সেই পতাকা। তবু তিনি রাজপথ ছাড়েননি। ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *