‘৭ আগস্ট’: আগুনের ভেতর থেকে স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে দ্বিতীয়বার বের হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরলেন রাহুল

0
FB_IMG_1786295702462
image_pdfimage_print

ঢাকা

রবিবার
৯ আগস্ট ২০২৬ ইং
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

২০২৪ সালের ৭ আগস্টের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন রাহুল। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ৫ আগস্ট রাতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দিনের মধ্যেই সেই ভবনেও আগুন দেওয়া হয়। স্ত্রী, শিশুপুত্র এবং বন্ধুর মেয়েকে নিয়ে ভবনের তৃতীয় তলা থেকে জীবন বাঁচাতে বের হওয়ার সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।

রাহুল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ‘আগুনের ভেতর থেকে’ স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে বের হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় কোথাও আশ্রয় পাচ্ছিলেন না। ভয় ও দ্বিধার কারণে অনেকেই তাঁদের আশ্রয় দিতে চাইছিলেন না।

তবে একজন বন্ধু রাত আড়াইটার দিকে তাঁদের নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন বলে জানান রাহুল। তাঁর দাবি, ৫ আগস্ট নেওয়া সেই আশ্রয়ও দুই দিন স্থায়ী হয়নি। ভবনের নিচের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে সেখানে আগুন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গ্যারেজে থাকা দুটি গাড়ি এবং দ্বিতীয় তলাতেও আগুন দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রাহুল বলেন, তাঁরা তখন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁরা।

পোস্টে তিনি লেখেন, স্ত্রী, নিজের শিশুপুত্র এবং বন্ধুর মেয়ের হাত ধরে মৃত্যুর জন্য দাঁড়িয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আগুনের তাপে ভবনের মেঝে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে সেখানে দাঁড়িয়েও থাকা যাচ্ছিল না বলে জানান তিনি।

সেই অভিজ্ঞতায় ধোঁয়ার ভয়াবহতাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন রাহুল। তাঁর ভাষায়, সেদিন তিনি উপলব্ধি করেন—সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর ‘দৈত্যের’ নাম ধোঁয়া। কালো ধোঁয়ায় তাঁর শিশুপুত্র নীল হয়ে গিয়েছিল এবং শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে ধোঁয়া ঢুকে শ্বাসনালীতে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করছিল বলে বর্ণনা করেন তিনি।

এ সময় বন্ধুর মেয়ের সাহসের কথা উল্লেখ করে রাহুল বলেন, তাঁর সাহসের ওপর ভর করেই তাঁরা অলৌকিকভাবে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান। সেই মেয়ের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। রাহুল লিখেছেন, এখন আর তাঁকে শুধু ‘বন্ধুর কন্যা’ হিসেবে দেখেন না; নিজের কন্যা হিসেবেই মনে করেন।

ভয়াবহ সেই মুহূর্তের একটি সংলাপ এখনও তাঁর কানে বাজে বলেও উল্লেখ করেন রাহুল। তাঁর স্ত্রী উর্মিলা তখন ফ্যাঁসফেঁসে ও গোঁঙানোর মতো কণ্ঠে বলেছিলেন—‘রাহুল, আমি আর পারছি না।’

পরবর্তীতে কয়েকজন বন্ধু তাঁদের অন্য একটি আশ্রয়ে নিয়ে যান বলে জানান তিনি। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তাঁকে মোট নবম আশ্রয়ে থাকতে হয়েছে। এখনও স্থায়ীভাবে ঘর বাঁধতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের বর্তমান জীবনকে ‘উড়ছি আর ঘুরছি, পৃথিবী দেখছি, বাউলের বেশে, মানুষ ভালোবেসে’—এভাবে বর্ণনা করেছেন রাহুল।
পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, এটিই তাঁর প্রথমবারের মতো এই অভিজ্ঞতাগুলো লিখতে শুরু করা। ভবিষ্যতে সবকিছু লিখবেন এবং সেখানে সত্য কথাই বলবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এতে অনেকের কাছে তিনি অপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও জানান। তবে সত্য প্রকাশ না করলে পূর্বপুরুষ ও আগামী প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিটি রবিন আহসান-এর একটি পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাহুল।
নোট: এই প্রতিবেদনে বর্ণিত আগুন, হামলা ও আশ্রয়কেন্দ্রের ঘটনার বিবরণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *