সরকারি ভাতা পেয়েও ‘খেপ’ খেলছেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা, সতর্ক করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

0
Aminul-68616db41d59c
image_pdfimage_print

ঢাকা

মঙ্গলবার

১১ আগস্ট ২০২৬ ইং

২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পোর্টস ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

জাতীয় দলের হয়ে খেলতে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাওয়ার পরও স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নেওয়া কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের প্রথমে সতর্ক করা এবং প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

 

সম্প্রতি জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলার স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত ‘খেপ’ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শেখ মোরছালিন, ফয়সাল আহমেদ ও রাকিব হোসেনের নাম আলোচনায় এসেছে। প্রতিমন্ত্রী নিজেও টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে এমন ম্যাচে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের অংশ নিতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

 

সোমবার রাতে ঢাকার কালশীতে একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমিনুল হক বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান।

 

আগে সতর্কতা, পরে ব্যবস্থা

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ‘খেপ’ ম্যাচ খেলার বিষয়টি তিনি বাফুফের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রথম পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরও প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হবে।

 

সরকার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি হিসেবে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা দিচ্ছে উল্লেখ করে আমিনুল হক প্রশ্ন তোলেন, এই সুবিধা পাওয়ার পরও স্থানীয় পর্যায়ের এসব ম্যাচে অংশ নেওয়া কতটা যুক্তিসংগত।

 

তাঁর মতে, জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়ের নিজের পেশা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

চোটের ঝুঁকিও বড় কারণ

 

স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচে জাতীয় দলের ফুটবলারদের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ চোটের সম্ভাবনা। এসব ম্যাচে মাঠের মান, খেলার পরিবেশ এবং প্রতিপক্ষের সক্ষমতা পেশাদার ফুটবলের মতো নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় খেলোয়াড়দের ইনজুরিতে পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

 

একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের সামান্য চোটও পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচ কিংবা ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জাতীয় দলের প্রস্তুতি ও পেশাদার দায়িত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

 

বাফুফের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

 

এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

 

প্রথম পর্যায়ে সতর্ক করার নীতিতেই এগোতে চান তিনি। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

 

জাতীয় দলের ফুটবলারদের স্থানীয় ‘খেপ’ ম্যাচে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এখন বাফুফের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *