হেফাজতের ৯ দফায় হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধের দাবি, গুরুত্ব পেয়েছে শাপলা ও জুলাইয়ের বিচার
ঢাকা
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬ ইং
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ প্রতিনিধি | তারারদেশ নিউজ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ধর্মীয় বিষয়, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা, বিচার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘হেযবুত তওহীদ’ নামের সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি। হেফাজতের দাবি, সংগঠনটির কর্মকাণ্ড ইসলামকে বিকৃত করছে এবং দেশের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছে সংগঠনটি।
কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি কার্যকরের দাবি
হেফাজতের নয় দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি কার্যকর করা।
সংগঠনটির দাবি, দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এর পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ হচ্ছে না। এ কারণে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কওমি শিক্ষার এই ডিগ্রিকে যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
হেফাজতের মতে, স্বীকৃতির কার্যকর বাস্তবায়ন হলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির সুযোগ বাড়বে।
আগের দাবির কিছু পরিবর্তন
২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারের কাছে সংগঠনটি একাধিকবার নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরে।
এবারের নয় দফায় আগের কিছু দাবি নেই। এর মধ্যে সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের দাবিটিও বাদ পড়েছে।
হেফাজতের পক্ষ থেকে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিএনপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে এখনো কোনো বিল সংসদে উত্থাপিত হয়নি; সংশ্লিষ্ট বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে।
শাপলা চত্বর ও জুলাইয়ের বিচার
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে হেফাজত।
একই সঙ্গে ২০২১ সালে মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সময় সহিংসতা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিও নয় দফায় রাখা হয়েছে।
হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব বিষয়ে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়াকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
দীর্ঘদিনের দাবিগুলোও রয়েছে
নতুন দাবির পাশাপাশি হেফাজতের দীর্ঘদিনের কয়েকটি অবস্থানও নয় দফায় রয়েছে। এর মধ্যে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা, শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কথিত মিশনারি তৎপরতা বন্ধ এবং হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে।
২০১৩ সালের পর থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় ছিল হেফাজতে ইসলাম। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও সংগঠনটি ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল।
বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দেওয়া নয় দফায় সংগঠনটির পুরোনো দাবির পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা ও বিচারসংক্রান্ত বিষয়গুলোও যুক্ত হয়েছে।
ফলে দাবির সংখ্যা ১৩ থেকে ৯-এ নেমে এলেও হেফাজতে ইসলামের দীর্ঘদিনের প্রধান অবস্থানগুলোর বেশির ভাগই নতুন তালিকায় বিভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তারারদেশ নিউজ


