শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে নিশ্চিত করা কঠিন: রিজভী

0
rizvi-BNP
image_pdfimage_print

ঢাকা

সোমবার

১০ আগস্ট ২০২৬ ইং

২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশেষ প্রতিনিধি| তারারদেশ নিউজ:

 

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনকে ঘিরে অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, কোনো দেশেই নির্বাচনকে শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু হিসেবে নিশ্চিত করা সহজ নয়।

 

সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার।

 

রিজভী বলেন, নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলেও ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখতে হবে। ভারতেও নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে বলে উদাহরণ দেন তিনি।

 

তাঁর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য ও শব্দচয়নে সংযমের প্রয়োজনীয়তা। সরকার এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষের নেতাদের দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে উসকানিমূলক শব্দ ব্যবহার হলে তা দলের কর্মীদের মধ্যেও সংঘাতের মানসিকতা তৈরি করতে পারে।

 

দলীয় শৃঙ্খলার দাবি

 

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তাঁর দাবি, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর নোটিশসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নিজের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারলে সেটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত।

 

বিরোধী দলের সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক

 

সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের দায়িত্ব হলেও সেই সমালোচনার ধরন নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী।

 

তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্যের ভুল তুলে ধরার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডও পর্যালোচনা করতে হবে।

 

রাজনীতিতে ‘উল্টে দেব’ বা ‘পাল্টে দেব’ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যার পরিণতিতে সাধারণ কর্মীরা সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়ে।

 

বিচারব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

 

বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রসঙ্গও আলোচনায় আনেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর মতে, নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনা থাকলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর বিচারকদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত।

 

বাংলাদেশে অতীতে বিচারকদের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর মতে, বিচারকের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকবে আইন ও সুবিবেচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়া।

 

সংলাপে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *