সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এক কোটি বাংলাদেশির জীবন-জীবিকা হুমকিতে

0
IMG_20260924_215039_728
image_pdfimage_print

ঢাকা

বৃহস্পতিবার

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

 

এক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকিতে

 

বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের শত শত নদী সাগরে গিয়ে মিশেছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ পানির কাছাকাছি বসবাস করে। ফলে দেশের ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধি উপকূলীয় পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

 

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা

 

প্রধানমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ।

 

আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ, তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

 

তারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

পাশাপাশি সবুজ শিল্প, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, জাতীয় কার্বন বাজার এবং বন, জলাভূমি ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষায় কাজ করার কথা জানান তিনি।

 

বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান

 

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো একা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা করতে পারবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

 

তিনি চারটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন—

 

  • – বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে কমানো;
  • – জলবায়ু অভিযোজনের জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা;
  • – ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার দেওয়া;
  • – জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে এখনই আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *