বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

0
IMG_20260903_200218_495
image_pdfimage_print

ঢাকা

বৃহস্পতিবার

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ  | তারারদেশ নিউজ:

 

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রপ্তানি ও বিনিয়োগে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণের লক্ষ্য

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে চলতি দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

 

একই সঙ্গে বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রবেশদ্বারে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে শিল্পখাত

 

তারেক রহমান বলেন, পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

 

তিনি বলেন, এমন শিল্পকারখানা প্রয়োজন, যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সেই কর্মসংস্থান মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

 

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

 

সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশীদারত্ব জরুরি

 

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো চাপের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ একা মোকাবিলা করতে পারে না। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পকে জ্বালানি নিরাপত্তার বিনিয়োগ বললেন

 

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পকে শুধু একটি জ্বালানি প্রকল্প হিসেবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় বিনিয়োগ।

 

আইডিবির সঙ্গে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রকল্পটি দুই পক্ষের অংশীদারত্বের একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান

 

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ডের (আইসিএফ) পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ও আইডিবির কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

আইডিবির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যাশা

 

বাংলাদেশ আইডিবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দুই পক্ষের সম্পর্ক শুধু অর্থায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর ভিত্তি হলো আস্থা, সংহতি ও অভিন্ন লক্ষ্য।

 

জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সদস্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আইডিবি আরও কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *