প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে নতুন বার্তা, সম্পর্কোন্নয়নে দিল্লির আগ্রহ!

0
2365560-68ec0cca1c82f-69300f4096f0a-694b7f460822a-694f7a0a7694e
image_pdfimage_print

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে নতুন বার্তা, সম্পর্কোন্নয়নে দিল্লির আগ্রহ!

ঢাকা
২০আগস্ট ২০২৬ইং
০৫ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ :

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। সফরটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ভারত সফরে গেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক ও মর্যাদাপূর্ণ অভ্যর্থনা দেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠকের আয়োজন নিয়েও আলোচনা চলছে।

সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগস্টের শেষ দিকে সফরটি হতে পারে। আবার সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে সেপ্টেম্বরেও সফর হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেই বেশি গুরুত্ব

বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দুই দেশের সরকারপ্রধানের সরাসরি বৈঠক। বহুপক্ষীয় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বাইরে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হলে সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হবে।

এ ধরনের বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পানি বণ্টন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

ব্যবসায়ী মহলেও আগ্রহ

সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলেও ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে সরকারি ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছে।

বৈঠকগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়লে অর্থনৈতিক সম্পর্কও আরও গতিশীল হতে পারে।

ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতা দীনেশ ত্রিবেদীও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, অতীতের মতপার্থক্যকে পেছনে রেখে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রত্যাশার জায়গায় পানি ও সীমান্ত

ঢাকার কাছে ভারত সফরের সম্ভাব্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

পানি বণ্টনের পাশাপাশি সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও আলোচনায় আসতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ৫৪টি অভিন্ন নদী নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক নৈকট্য ও অর্থনৈতিক নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দিকে নেওয়া উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অবশ্য এক ধরনের ভিন্নমতও রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সফরের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আগে শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, জাতীয় স্বার্থ ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রশ্নে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ভারত সফর নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছে।

নতুন বাস্তবতায় সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ

কূটনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরের মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হলে উভয় পক্ষকেই আস্থার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ রেখে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোতে বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

 

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *