১৮ আগস্ট দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন, সামনে এনবিআরের সংস্কার ও ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য
ঢাকা
বৃহস্পতিবার
১৩ আগস্ট ২০২৬ ইং
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:
প্রায় তিন বছর পর আবারও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসবে দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সম্মেলনে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৃথক আয়োজন থাকবে। রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সংস্কার এবং মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কৌশলও আলোচনায় আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।
৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর।
এনবিআরের নতুন নেতৃত্ব আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি অভিন্ন টিম হিসেবে কাজের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে দূরত্ব কমানো, মনোবল বাড়ানো এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করাও এবারের সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রায় দেড় হাজার অতিথির অংশগ্রহণ
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, তালিকা তৈরি ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দিতে ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক কার্যক্রম তদারকিতে ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও করা হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
বিকেলের পর সম্মেলনের কিছু স্টল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে রাজস্ব সংগ্রহ ও রাজস্বের আওতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হবে।
এনবিআরের কাঠামো নিয়েও আসতে পারে ঘোষণা
সম্মেলন ঘিরে এনবিআরের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও নতুন কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
বিশেষ করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। বর্তমান সরকার সেগুলো সংসদে পাসের জন্য উপস্থাপন না করায় অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। বর্তমানে ওই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়বস্তু যাচাই-বাছাই করতে একটি কমিটি কাজ করছে।
কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধার দাবিও উঠবে
সম্মেলনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি রয়েছে।
একই সঙ্গে এনবিআর সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে থাকা নেতিবাচক ধারণা কমানো, রাজস্ব ব্যবস্থার কার্যক্রম আরও সহজভাবে তুলে ধরা এবং করদাতাদের রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার বিষয়গুলোও সম্মেলনের আলোচনায় থাকবে।
এর আগে ২০২৩ সালে প্রথমবার রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করেছিল এনবিআর। প্রায় তিন বছর পর আয়োজিত দ্বিতীয় সম্মেলনটি তাই শুধু কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক সমাবেশ নয়, বরং রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সংস্কারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তারারদেশ নিউজ


