হত্যার হুমকি মামলায় জামিন সালমান এফ রহমান এর

0
IMG_20260824_180510_444
image_pdfimage_print

ঢাকা

সোমবার

২৪ আগস্ট ২০২৬ ইং

৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

 

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। সালমান এফ রহমানের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, মামলার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য।

 

যে অভিযোগে মামলা

 

২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থাকে (পিবিআই)।

 

মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়।

 

ঋণ সুবিধা নিয়ে চাপ দেওয়ার অভিযোগ

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিআইএফএফএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে ফরমানুল ইসলামকে সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় অঙ্কের ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘তিস্তা সোলার’ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় ফরমানুল ইসলাম এতে সম্মতি দেননি।

 

এ ছাড়া ২০০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ডে আগাম বিনিয়োগ এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়ার চাপ দেওয়ার অভিযোগও মামলায় রয়েছে।

 

পর্ষদ সভায় মারধরের অভিযোগ

 

মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের একটি পর্ষদ সভায় ফরমানুল ইসলামের সঙ্গে আসামিদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ সময় তাঁর দাপ্তরিক মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চাবি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁকে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তদন্তে ছয়জন অভিযুক্ত

 

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ রানা ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তে মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

 

এর আগে আব্দুর রউফ তালুকদার, আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, বিআইএফএফএলের সাবেক কোম্পানি সচিব মো. মনিরুল ইসলাম খান এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান। মামলার আরেক আসামি সাজ্জাদুল হাসান এখনো পলাতক বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

 

তদন্ত শেষে পিবিআই জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মারধর, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত তা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *