ব্রিকসে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার চীন-রাশিয়া-ভারতের

0
IMG_20260913_195015_996
image_pdfimage_print

ঢাকা

রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তারারদেশ নিউজ:

 

নয়াদিল্লিতে দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন শেষ হয়েছে। রোববার সম্মেলনের শেষ দিনে চীন, রাশিয়া, ভারতসহ জোটের সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির আহ্বান মোদীর

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জোটটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সদস্য দেশগুলোর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।

 

মোদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি এই জোটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

 

বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে পুতিন

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ব্রিকস একটি নতুন ও তুলনামূলকভাবে ন্যায্য বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

 

অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিয়ম ও শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। নিয়মহীন বিশ্বকে তিনি ট্রাফিক সিগন্যালবিহীন একটি মোড়ের সঙ্গে তুলনা করেন।

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে যৌথ উদ্বেগ

 

সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর আগে মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরে সংঘাতের বিষয়ে মতৈক্য হয়নি।

 

তবে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর এবারের সম্মেলনে নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দিতে সক্ষম হন। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে ভারসাম্যের চেষ্টা ভারতের

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করছে ভারত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত রাশিয়ার দিকেও ঝুঁকছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সদস্য দেশগুলোর ভূমিকা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

 

তারারদেশ নিউজ

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *