গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক, ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা
বৃহস্পতিবার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতা বজায় রাখা এবং জনগণের দুর্ভোগকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়া এবং পরবর্তীতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার কারণে জ্বালানি খাত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংকট কাটাতে সরকারের উদ্যোগ
তারেক রহমান জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও স্বাবলম্বী করার বড় পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
লংমার্চ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে উসকানি সৃষ্টি না করে সংকট উত্তরণে সরকারের পাশে থাকা উচিত।
তার ভাষ্য, লংমার্চের মাধ্যমে যদি গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে সরকারই সবার আগে এমন কর্মসূচি আয়োজন করত।
রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতার আহ্বান
সংসদে বক্তব্যের শেষভাগে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও রুচিশীল ভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পরিবারে যে ভাষা বা শব্দ ব্যবহার করতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, তা জনপরিসরেও ব্যবহার করা উচিত নয়। রাজনৈতিক গালিগালাজের সংস্কৃতি বন্ধ করে গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে বিরোধী দলসহ সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে ঐক্যের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রপন্থি শক্তিগুলোর নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং শহীদদের ত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিতে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খেলাপি ঋণ কমেছে দাবি প্রধানমন্ত্রীর
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া যায়। বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে তা ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া গত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারারদেশ নিউজ


