চীনের জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ
ঢাকা
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং
১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জে-১০ সিই যুদ্ধবিমানসহ সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
জে-১০ সিই নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে
তথ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের উদ্যোগ চলছে।
জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি নেগোসিয়েশন বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে। অনুমোদনের জন্য সেটি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বাজেটের ওপর নির্ভর করছে বাস্তবায়ন
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাফালের সঙ্গে সক্ষমতার তুলনা
জে-১০ সিই-এর সক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল।
তিনি বলেন, রাফালকে ৪.৫ প্রজন্মের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং জে-১০-এর সঙ্গে বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এর সক্ষমতার তুলনা বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে যুদ্ধের সময় কোন বিমান কীভাবে বা কার মাধ্যমে ভূপাতিত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ভিন্ন দাবি ও বিশ্লেষণ রয়েছে। ফলে উপদেষ্টার বক্তব্যটি সরকারের অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করাই সমীচীন।
তুলনামূলক কম দামের দাবি
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনের তৈরি যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর মতে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ব্যয় ও সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বিবেচনা করছে সরকার।
জে-১০ সিই কেনার পাশাপাশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সংগ্রহের উদ্যোগও চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধ ও নজরদারি সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
তারারদেশ নিউজ


