কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে ১০ বছরের পরিকল্পনা প্রকাশ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা
রোববার
১৬ আগস্ট ২০২৬ ইং
১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:
বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাটে ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর স্থানীয় মানুষের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাঁর দাবি, আগের সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
রাজপথের বিশৃঙ্খলা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান
সরকার যখন দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, তখন একটি পক্ষ এই সুযোগে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি এ ধরনের তৎপরতার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং কোনোভাবেই যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার কথা বলেন।
‘দেশের মালিক জনগণ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি জনগণকে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
খাল খনন থেকে কৃষি ও মৎস্য খাতে সুবিধা
কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকেরা সেচের পানির সুবিধা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে এসব জলাশয়ে মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা কৃষি ও মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।
নারীদের উচ্চশিক্ষায় বিনামূল্যে পড়াশোনার পরিকল্পনা
নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া দেশের ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড
সামাজিক সুরক্ষা ও জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশ পুনর্গঠনের কাজে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর আরও কর্মসূচি
পাকুন্দিয়ায় কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদীর কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
পরে বিকেল ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, অনুদান প্রদান ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ছাড়ার কথা রয়েছে।
তারারদেশ নিউজ


