২০২৭ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার ‘নাটক’ আর দেখতে চাই না: সারজিস

ঢাকা

মঙ্গলবার

২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং

১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বর্ষায় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লোকদেখানো তৎপরতার সমালোচনা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

তিনি বলেন, বর্ষা শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা অনেকেরই মনে থাকবে না। কিন্তু ২০২৭ সালে আবার নগর ডুবে গেলে হাঁটু বা কোমরসমান পানিতে নেমে ছবি তোলার মতো কর্মকাণ্ড দেখতে চান না তাঁরা।

 

সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের একটি হোটেলে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। সভাটি চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

 

জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ

 

সারজিস আলমের বক্তব্য, বর্ষা শেষ হয়ে গেলে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ভুলে যেতে পারেন। তাঁর আশঙ্কা, আগামী বর্ষায় একই পরিস্থিতি আবারও দেখা দিতে পারে।

 

এনসিপির এই নেতা বলেন, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় সাময়িক তৎপরতার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।

 

রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ

 

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেন।

 

তাঁর দাবি, রাউজানে দলীয় বিরোধ, দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং গুলির ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

 

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে প্রশ্ন

 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি পাঠানোর বিষয়েও অভিযোগ তোলেন সারজিস আলম।

 

তিনি দাবি করেন, পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগকে কেন্দ্র করে একটি নতুন সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে, যেখানে অতীতের একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন।

 

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলেন সারজিস। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নথি বা নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ নেই।

 

দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি

 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তাঁর দাবি, বর্তমান বেতন কাঠামোয় অনেক সরকারি কর্মচারীর মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

 

তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করেন।

 

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনশক্তি রপ্তানি ও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে এনসিপির নেতাদের এসব বক্তব্য মূলত সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা ও পরিবর্তনের দাবিকে সামনে এনেছে।

 

তারারদেশ নিউজ