১৮০ দিনে সরকার ব্যর্থ, দেশে পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো ফিরছে: নাহিদ ইসলাম
ঢাকা
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬ ইং
৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনকে অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার সময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে ফিরে যাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চবিষয়ক উপকমিটি সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে।
তিন অগ্রাধিকারেই ব্যর্থতার অভিযোগ
নাহিদ ইসলামের উপস্থাপিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল।
এনসিপির দাবি, ছয় মাসের বাস্তবতায় এই তিন ক্ষেত্রেই সরকার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে এবং কৃষকেরাও বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম এবং বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেটের সক্রিয়তা নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
এনসিপির মূল্যায়নে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সংস্কার ও বিচার নিয়ে প্রশ্ন
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার পরবর্তী সময়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মতো উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জুলাইয়ের সহিংসতার বিচার, নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধী দল ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
বিরোধী রাজনৈতিক দল, মত ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মামলা বাড়ছে বলে দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে হামলাকারীদের পরিবর্তে হামলার শিকার ব্যক্তিদেরই আইনি হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
পুলিশকে আবার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ জোরদারের ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে দেশের পাঁচ থেকে ছয়টি বিভাগে লংমার্চ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।
সরকার বর্তমান নীতিতে অগ্রসর হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ভারত প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পানির ন্যায্য হিস্যা, পুশ-ইন বন্ধ এবং শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের বিচারিক অবস্থানের প্রতি সম্মান দেখানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এসব বিষয়ে অগ্রগতি না ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তারারদেশ নিউজ