হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ কোথায়?
ঢাকা
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চলছিল। এর মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের পতন ও গণঅভ্যুত্থানের সমালোচনা করেন। ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তাঁর এমন বক্তব্যে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঢাকার আপত্তি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য বা উসকানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না পান।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া।
তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলাদা। এটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও কার্যক্রমের বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
দিল্লির ইতিবাচক বার্তায় ফিরতে পারে আস্থা
বিশ্লেষকদের মতে, নয়াদিল্লি যদি শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে ইতিবাচক ও স্পষ্ট বার্তা দেয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অর্থনৈতিক সম্পর্কেও রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরতা
রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক পারস্পরিক নির্ভরতা সহজে কমার নয়। দুই দেশের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ালেও দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।
শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকই হতে পারে সমাধানের পথ
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশের জাতীয় স্বার্থের কারণে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে সৃষ্ট কূটনৈতিক জট নিরসন, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করাই হতে পারে অচলাবস্থা কাটানোর বাস্তবসম্মত পথ।
তারারদেশ নিউজ