হাসপাতালে মজুত স্যালাইন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, রোগীর কেনা স্যালাইনের টাকা ফেরত

ঢাকা

রবিবার

২৩ আগস্ট ২০২৬ ইং

৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীকে হাসপাতালের মজুত থাকা স্যালাইন না দেওয়ার ঘটনা দেখতে পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নার্সের পরামর্শে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হওয়া এক রোগীর সেই খরচ নিজে পরিশোধ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

 

মজুত থাকা স্যালাইন বাইরে থেকে কেনানোর অভিযোগ

 

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর নজরে আসে, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে তা দেওয়া হয়নি। নার্সের পরামর্শে রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হয়।

 

ঘটনাটি জানার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীর কাছ থেকে স্যালাইন কেনার টাকা জেনে সেই অর্থ নিজেই পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে বিনা মূল্যে সরবরাহযোগ্য স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

চিকিৎসকের দেরিতেও ব্যবস্থা

 

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় একজন চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে কর্মস্থলে আসেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনে এমন অবহেলার অভিযোগে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে রোগীদের কাছ থেকে হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার বিষয়ে বেশির ভাগ প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক ছিল বলে জানান তিনি।

 

২৫০ শয্যার হাসপাতালে খাবার বরাদ্দ ১০০ শয্যার

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে খাবারের বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ শয্যার বিপরীতে। এই অসামঞ্জস্য দূর করতে খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

প্রতি রোগীর জন্য খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে রোগীদের খাবারের মানও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।

 

৯ হাজার ৫০০ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ

 

স্বাস্থ্য খাতে জনবলসংকট মোকাবিলায় বড় পরিসরে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ নার্স এবং ২ হাজার ৫০০ ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবলও এই নিয়োগের আওতায় থাকবে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো এবং রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

 

জেলা পর্যায়ে বাড়বে ডায়ালাইসিস সুবিধা

 

কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে জেলা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস বেড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে এই সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ৬০টি মেশিন তিন শিফটে পরিচালিত হলে প্রতিদিন প্রায় ১৮০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা পেতে পারেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার

 

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় প্রসূতিদের জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি বিশেষ শয্যা থাকবে। পাশাপাশি নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড, আধুনিক আলট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাবসহ নয়তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবার মান ও পরিধি বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

 

তারারদেশ নিউজ