সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ঢাকা

বৃহস্পতিবার
৬ আগষ্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিমুল মাহমুদ |তারারদেশ নিউজ:

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দেশের নৌ নিরাপত্তা ও নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও বিকাশে তাঁর অবদান আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের বিরাহিমপুরে।
তিনি এমন একটি পরিবারে জন্মেছিলেন যেখানে শিক্ষা, আইন ও জনসেবার ঐতিহ্য ছিল। তাঁর বাবা আহমদ আলী খান ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। শৈশব থেকেই তিনি শৃঙ্খলা, শিক্ষা ও দায়িত্ববোধের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।

সালে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন। কঠোর প্রশিক্ষণ, অধ্যবসায় ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে তিনি দ্রুত একজন দক্ষ নৌ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হন।
তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভাল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। গানারি, টর্পেডো ও নৌ যুদ্ধকৌশলে তিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।

ব্যক্তিজীবনে মাহবুব আলী খান ছিলেন পরিবারপ্রিয় মানুষ।তিনি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে বিয়ে করেন। তাদের দুই কন্যা শাহিনা খান বিন্দু, ডা. জোবাইদা রহমান।

সন্তানদের মধ্যে ডা. জোবাইদা রহমান বাংলাদেশের পরিচিত একজন চিকিৎসক, যিনি পরবর্তীতে তারেক রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

স্বাধীনতার পর মাহবুব আলী খান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পুনর্গঠন, সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৯ সালে তিনি নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং পেশাদারিত্বে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়।

সামরিক জীবনের পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। সততা, শৃঙ্খলা ও গভীর দেশপ্রেম তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত।

তাঁর জীবন ছিল শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ। বাংলাদেশের নৌবাহিনীর ইতিহাসে তাঁর নাম একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়।

১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরের একটি বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (CMH) তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে ঢাকার বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন মহল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছে।তিনি বাংলাদেশের নৌ প্রতিরক্ষা কাঠামো গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থপতি হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।