সংসদীয় দলের সভায় আবেগাপ্লুত মির্জা ফখরুল: ভোট চাইলেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে
ঢাকা
১৯ আগস্ট ২০২৬ইং
০৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
মাহমুদ নয়ন | তারারদেশ নিউজ :
জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বারবার কেঁদে ফেলেন। নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে ঘিরে সভাকক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভার শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও ভোট দেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল। বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা চান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সংসদীয় দলের সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি।’ এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য—এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বহু বছর ধরে তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন, কখনো হাল ছাড়েননি। তাকে কারাবন্দীও করা হয়েছে। সেই সময়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারেক রহমানকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত করতে বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ করে সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই।