সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: তারেক রহমান

ঢাকা

মঙ্গলবার

২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং

৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেকে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ধর্মীয় পরিচয়ের আগে নাগরিক পরিচয়

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—যে ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় বাংলাদেশি। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও সুযোগ পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

 

মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে ছিল ঐক্যের চেতনা

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, এসব সংগ্রামে মানুষের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেখানে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না।

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আহতদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মের ভিত্তিতে পার্থক্য করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং সবাই মিলেমিশে থাকবে।

 

সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তাঁর মতে, নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

 

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

তারারদেশ নিউজ