মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারিতে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা

মঙ্গলবার

১৮ আগস্ট ২০২৬ ইং

৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা চালুর ফলে চাঁদাবাজি ও সড়ক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে মহাসড়ক

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হবে।

 

নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সড়কের সাইন-সিগন্যাল অমান্য করার মতো ঘটনা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।

 

অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

 

জরিমানা পরিশোধ হবে ডিজিটাল মাধ্যমে

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিকবার জরিমানা হলে নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও বিআরটিএর বিধি অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

 

পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে

 

প্রাথমিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটো ফাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ব্যবস্থাটি পরিচালনার সময় যেসব সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি সামনে আসবে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে চালক ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাবে।

 

চাঁদাবাজি বন্ধেও প্রযুক্তির ব্যবহার

 

মহাসড়কে পরিবহন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যামেরার মাধ্যমে সড়কের কার্যক্রম রেকর্ড হওয়ায় এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

 

মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশের কোনো সদস্যের মাধ্যমে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও তা নজরদারির আওতায় আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ

 

মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, এসব যানকে শৃঙ্খলার আওতায় আনার চেষ্টা করা হলেও মহাসড়কে নন-মোটরাইজড যান ও থ্রি-হুইলার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

তারারদেশ নিউজ