ব্যক্তির অপরাধে কোম্পানি বন্ধ করা যাবে না: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ঢাকা
রোববার
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:
কোনো ব্যক্তির দুর্নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হলে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থার ওপর পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতি আবেগের ওপর নয়, আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।
রোববার জাতীয় সংসদে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিলামে না তুলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ব্যক্তি ও কোম্পানির পরিচয় আলাদা
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক খাত পরিচালনায় নির্দিষ্ট আইন ও নীতি রয়েছে। কোনো ব্যক্তির পরিচয় এবং একটি প্রতিষ্ঠানের আইনি পরিচয় এক বিষয় নয়।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা ও বিচার হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কার্যক্রমও বন্ধ করে দিতে হবে।
আইনের সুযোগ থাকলে ঋণ পুনঃতফসিল
অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে ঋণ দিচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আইনি সুযোগ রয়েছে, তারা সেই সুযোগ নিতে পারবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান এ সুযোগ পাওয়ার যোগ্য নয়, তারা তা পাবে না।
তিনি বলেন, কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত দুর্নীতির বিচার চলবে এবং এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
‘কোম্পানি একটি পৃথক আইনি সত্তা’
অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, এমনকি শাস্তিও হতে পারে। কিন্তু কোম্পানি একটি পৃথক আইনি সত্তা হওয়ায় তার কার্যক্রমকে ব্যক্তির অপরাধের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা উচিত নয়।
তাঁর মতে, কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে কর্মরত মানুষের চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রতিষ্ঠানের দায় ও ঋণ পরিশোধের বিষয়ও তৈরি হয়। ফলে কোনো ব্যক্তির কারণে একটি কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১.৪৭ লাখ কোটি
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে—৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকে ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ, রূপালী ব্যাংকে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ, সোনালী ব্যাংকে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ, বেসিক ব্যাংকে ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।
মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা
অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।
জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমাতে রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভর্তুকি একযোগে প্রত্যাহারের নীতি নেই
উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ বা অর্থায়ন নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সব ধরনের ভর্তুকি একযোগে প্রত্যাহারের কোনো নীতি সরকারের নেই। কৃষি, খাদ্য ও বিদ্যুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
২০১০-২৪ সময়ে আড়াই টনের বেশি স্বর্ণ জব্দ
সংসদে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চোরাচালানিদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫১৮ কেজি ৬৬৮ গ্রাম স্বর্ণ এবং ৩৭৭ কেজি ৩৪৮ গ্রাম রৌপ্য জব্দ করা হয়েছে।
তারারদেশ নিউজ