বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিমুল মাহমুদ| তারারদেশ নিউজ:
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রায় দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সংকটের কারণ চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
মঙ্গলবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার আশা
গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলেও দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের পরিস্থিতির কাছাকাছি ফিরে আসবে।
তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের উদ্যোগ
গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে টার্মিনালটি স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে বলে তিনি জানান।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালটি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
অস্থিতিশীলতা না করার আহ্বান
ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে সরকারকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ জন্য সরকার স্বল্পমেয়াদি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।
গণমাধ্যমকে তথ্য তুলে ধরার আহ্বান
সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সঠিকভাবে জানতে পারলে তা দেশবাসীর কাছেও যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারারদেশ নিউজ