বিএনপির পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সবসময় জনবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা

সোমবার,
১০ আগস্ট ২০২৬ইং,
২৬ শ্রাবন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

বিএনপির সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সবসময়ই জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারে ঘোষিত ৩১ দফার বিভিন্ন লক্ষ্য ও রূপরেখার সঙ্গে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মৌলিক বিষয়ে যথেষ্ট সামঞ্জস্য রয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিতে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজির অন্যতম মূল দর্শন হচ্ছে—‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’। বর্তমান সরকারের নীতিতেও একই ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তার প্রতিফলন রয়েছে।
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ

দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বাংলাদেশকে ঋণ ও আমদানিনির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে সৃষ্ট দুর্বলতা কাটিয়ে দেশকে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশ পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় এসডিজি বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যেই সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘের এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

পাঁচ স্তম্ভে উন্নয়ন পরিকল্পনা

সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভে’ দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা এবং এসডিজি বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন’—এই তিন ধাপের কৌশল গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক স্থিতিশীলতা অর্জন থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনা হবে।

ফ্যামিলি, কৃষক ও ই-হেলথ কার্ড

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠনের পরদিন থেকেই সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হয়েছে।

নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, নিম্নআয়ের পরিবার এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তা, কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান সরকারপ্রধান।

এর পাশাপাশি ক্রীড়া কার্ড চালু এবং দেশের বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিন গ্রামে পরীক্ষামূলক ‘এসডিজি ভিলেজ’
এসডিজির স্থানীয় বাস্তবায়ন পরীক্ষার অংশ হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচিত গ্রামগুলো হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর। এসব গ্রামে একসঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ, শিক্ষার্থীদের স্কুল পোশাক, মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রামভিত্তিক পর্যটন, নীল অর্থনীতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান, ‘এক গ্রাম এক পণ্য’, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোর ফলাফল ও প্রভাব মূল্যায়নের পর দেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্যোগটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি অনুসরণযোগ্য উন্নয়ন মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ
এসডিজি বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো নিজেদের অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করে বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র’ গড়ার প্রত্যয়
আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি থাকবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে সর্বজনীন করে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায্যতা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে।

জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক, গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

২০২৩? নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে সবাইকে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রী ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।