নদীভাঙন ও বাঁধ রক্ষায় ‘বিন্না ঘাস’ ব্যবহারের ওপর জোর পানিসম্পদমন্ত্রীর

ঢাকা

রোববার

১৬ আগস্ট ২০২৬ ইং

১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট| তারারদেশ নিউজ:

 

নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও বাঁধের মাটি ক্ষয় ঠেকাতে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হিসেবে ‘বিন্না ঘাস’ ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

 

রোববার রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে ‘বিন্না ঘাস পলিসি ফর বাংলাদেশ’ বিষয়ক এক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কেন গুরুত্ব পাচ্ছে বিন্না ঘাস

 

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে শক্তভাবে মাটিকে ধরে রাখে। ফলে বৃষ্টির পানি, নদীর ঢেউ ও স্রোতের কারণে সৃষ্ট ক্ষয় কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

নদীর তীর, বাঁধের ঢাল, হাওরাঞ্চল এবং অন্যান্য ক্ষয়প্রবণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এই ঘাস রোপণ করা হলে মাটির স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

 

তাঁর মতে, কম খরচে প্রাকৃতিক উপায়ে মাটি রক্ষার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের মতো নদী ও জলাভূমিপ্রধান দেশে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

 

শুধু কংক্রিটনির্ভর সমাধান নয়

 

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।

 

এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু কংক্রিটের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, বিন্না ঘাস এ ধরনের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার একটি কার্যকর উপাদান হতে পারে।

 

নদী ও বাঁধ সংরক্ষণে নতুন পদ্ধতির ভাবনা

 

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নদী, খাল, বাঁধ ও জলাধার সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ক্ষয়প্রবণ এলাকায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে নীতিগতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

সভায় বুয়েটের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বিন্না ঘাসের বৈশিষ্ট্য, সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এর উপকারিতা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।

 

বাংলাদেশে প্রতিবছর নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের কারণে বিপুল পরিমাণ জমি ও অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ে। এমন বাস্তবতায় কম ব্যয়ে প্রকৃতিনির্ভর পদ্ধতিতে মাটি রক্ষার এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে নদীতীর ও বাঁধ সংরক্ষণে নতুন একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে।

 

তারারদেশ নিউজ