দিল্লির চাপ সামলাতে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র বিক্ষোভকে হাতিয়ার করছে বিজেপি
ঢাকা
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬ ইং
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক| তারারদেশ নিউজ:
দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি এবার ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিপেটার ঘটনাকে রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণের হাতিয়ার করেছে।
ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের জলকামান ও লাঠিচার্জের ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার সরব হয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন চত্বরেও সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও স্লোগান দেখা যায়।
বিজেপির দাবি, ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তবে বিরোধীদের পাল্টা অবস্থান, ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সরাসরি প্রশাসনিক সম্পর্ক নেই এবং তিনি বরং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন।
নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন
ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং পুরো ঘটনার তদন্তভার ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর।
সোমবার শিক্ষার্থীরা ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিমুখে মিছিল করলে পুলিশ তাদের ঠেকাতে জলকামান ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র মাহাতো কয়েক দিন ধরে অনশন করছেন। সোমবারের কর্মসূচির পর অসুস্থ হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংসদে মুখোমুখি সরকার-বিরোধী শিবির
ঝাড়খণ্ডের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরে বিজেপি ও এনডিএর সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ করেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি দাবি করে আসছে।
দিল্লির আন্দোলন ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ, সেখানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং পেলেট গানসহ বিভিন্ন ধরনের শক্তি প্রয়োগ করেছে। এই অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে আসছে বিরোধীরা।
এর ফলে টানা তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
রাহুলের অবস্থান
ঝাড়খণ্ডের ঘটনার পর রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।
পরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবেও তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোকে এসব দাবি গুরুত্ব দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য
ঝাড়খণ্ড সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ দাবি ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে এখনো সমঝোতা হয়নি। এর একটি হলো নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের তদন্ত সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা এবং অন্যটি বিতর্কিত দুটি পরীক্ষা বাতিল করা।
এই দুই দাবিকে কেন্দ্র করেই সরকার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
রাজ্যে বিরোধী অবস্থানে থাকা বিজেপি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
এদিকে দিল্লির শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে ঘিরে বিরোধীদের চাপ এবং ঝাড়খণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির পাল্টা অবস্থান ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিন ঘনিয়ে আসায় দুই পক্ষের এই সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারারদেশ নিউজ