তারেক রহমানের দিল্লি সফরে ঢাকার শর্ত, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে গুরুত্ব

ঢাকা

সোমবার

১৭ আগস্ট ২০২৬ ইং

২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের আগে বাংলাদেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে রেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি।

 

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ঢাকার পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সফরের জন্য একটি অনুকূল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব শর্তের বিষয়ে ভারত এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

 

সফরের তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা

 

ভারতের পক্ষ থেকে ২১ আগস্ট তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। পাশাপাশি আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

ভারতীয় সরকারি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলন, দুই আমন্ত্রণই বহাল রয়েছে। তবে সফরের সময় নির্ধারণের বিষয়টি এখন ঢাকার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

 

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার অবস্থান

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করছেন। তবে সফরের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

ঢাকার অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ায় সফরকে ঘিরে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ চেয়েছে। দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় তুলেছে ঢাকা।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

 

দিল্লির অবস্থান কী

 

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ দেশটির প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং তাঁর বক্তব্যকে ভারত সমর্থনও করেনি বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

 

দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও পানিবণ্টনের মতো দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।

 

তবে দুই দেশই উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে। ফলে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু সফরের আগে প্রত্যর্পণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা কতটা সম্ভব হয়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

 

তারারদেশ নিউজ