জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত পলাতক আসামী মেজর মোজাফফরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর।

ঢাকা,
১৭ জুলাই ২০২৬ ইং,
০২ শ্রাবণ ১৪৩৩বঙ্গাব্দ,
বিশেষ প্রতিবেদক:

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় জড়িত মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ডিবি অভিযানে গ্রেফতার।

গ্রেফতারের পর মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার, রাত ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, মোজাফফর হোসেন অবসরপ্রাপ্ত ছিলেন না। ফলে সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে।

এই হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশ নেওয়া তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফর অন্যতম বলে অভিযোগ আছে। মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।

জিয়াউর রহমানকে গুলি করে মেজর মোজাফফর, ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন।

হত্যাকা-ের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সেসময় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মঞ্জুর নিহত হন। বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক আদালতে সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করা হয়। ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে দ- দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন। অবশেষে তাকে আটক করা হলো।