চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা

শনিবার

২২ আগস্ট ২০২৬ ইং

৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এসব অপরাধীকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

 

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলায় আহত নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

চিকিৎসকের ওপর হামলা, চাঁদার দাবির অভিযোগ

 

গত ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা হয়। হামলায় তাঁর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে।

 

আসাদুর রহমানের দাবি, হামলার আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নাম ব্যবহার করে তাঁর কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। হামলার পরও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, দুজনকে ঢাকা থেকে এবং আরেকজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।

 

ধনাঢ্য ব্যক্তি ও পেশাজীবীরা লক্ষ্যবস্তু

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধনাঢ্য ব্যক্তি, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীকে লক্ষ্য করে প্রথমে বার্তা পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। পরে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

 

তিনি বলেন, এ চক্রের মূল হোতা হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির পর কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সংগঠিত করে চাঁদাবাজির কার্যক্রম শুরু করেন। বিভিন্ন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কথিত গডফাদারদের নাম ব্যবহার করে ভয় দেখানো হতো বলেও জানান তিনি।

 

পুলিশের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

 

চাঁদাবাজির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, শুধু চাঁদাবাজদের তালিকাই নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকলে তাঁদেরও শনাক্ত করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের প্রশংসা করলেও জানান, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র পুরোপুরি নির্মূল করতে আরও অভিযান প্রয়োজন।

 

৫০০ হাসপাতালে নিরাপত্তায় আনসার

 

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

 

কোনো চিকিৎসক তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করলে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

 

অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার চিকিৎসক এ কে এম আমিনুল হকের সঙ্গেও দেখা করতে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে যান।

 

তারারদেশ নিউজ