গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা: রিজভী

ঢাকা

মঙ্গলবার

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি | তারারদেশ নিউজ:

 

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট—সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বৈশ্বিক পরিস্থিতিও সংকটের জন্য দায়ী

 

রিজভী বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

তার দাবি, বাংলাদেশের আমদানি করা এলএনজির বড় একটি অংশ এ পথ দিয়ে আসে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এলএনজি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে।

 

সংকট মোকাবিলায় ৪০ হাজার কোটি টাকার উদ্যোগ

 

রিজভী জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুত গ্যাস আমদানির জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

 

একই সঙ্গে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

 

লকডাউনের নামে রাজপথ দখল গ্রহণযোগ্য নয়

 

রিজভী বলেন, সরকারের উদ্যোগকে পাশ কাটিয়ে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের নামে কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখল করে রাখার হুমকি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

তবে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

আগের সরকারের বিদ্যুৎখাতের অনিয়মের অভিযোগ

 

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন অনিয়মের প্রভাবও বর্তমান সংকটে রয়েছে। তার দাবি, আগের সরকার এমন কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছিল যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে।

 

এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

সমালোচনার পাশাপাশি সমাধানের পথ দেখানোর আহ্বান

 

রিজভী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল সরকারের সমালোচনা করলে শুধু সমস্যা তুলে ধরলেই হবে না; সংকট সমাধানের পথও দেখাতে হবে। বিরোধী দলেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রয়োজন রয়েছে।

 

একই সঙ্গে সরকারকে সংকট মোকাবিলায় নেওয়া উদ্যোগ আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

 

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার তাগিদ

 

দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। উচ্চ আদালত, গণমাধ্যম, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থের বাইরে রেখে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

 

তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

তারারদেশ নিউজ