গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের গুরুতর অভিযোগ, ‘পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে’

ঢাকা

শনিবার

২২ আগস্ট ২০২৬ ইং

৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।

 

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর দাবি করেন, এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারার পর তাঁকে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে তাঁর জীবন বদলে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

 

সম্পর্কের বিষয়টি জানার দাবি

 

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম ওই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর।

 

এরপর ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। ওবায়দুরের দাবি, ওই সময় গাজী নজরুল সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

অর্থ ও চাকরির প্রস্তাবের অভিযোগ

 

ওবায়দুর বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রথমে তাঁকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। পরে তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

 

ওবায়দুরের দাবি, তিনি বিষয়টির বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন।

 

বিভিন্ন স্থানে সাক্ষাতের দাবি

 

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর দাবি করেন, ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তিনি গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে তাঁদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান ওবায়দুর।

 

হামলা ও মামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

 

ওবায়দুরের ভাষ্য, ১৩ জুলাই রাতে তিনি ওই তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে যান। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়।

 

ওবায়দুর দাবি করেন, সেদিন রাতে বাসায় ফেরার পর ওই তরুণীর বাবা ও আমিনুর তাঁর ওপর হামলা করেন এবং তাঁকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

 

ঘটনার পর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, মামলাটি পরে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত থেকে জামিন পান।

 

ওবায়দুরের বিরুদ্ধেও মামলা

 

অন্যদিকে, গত ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় বাদী হয়েছেন তরুণীর মা ও ওবায়দুরের বোন।

 

মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।

 

হুমকির অভিযোগ

 

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর আরও দাবি করেন, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মা ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কারণে অন্যত্র অবস্থান করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান ওবায়দুর। তিনি ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

 

তবে সংবাদ সম্মেলনে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

 

তারারদেশ নিউজ