আমার সিদ্ধান্তেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ: আসিফ নজরুল
ঢাকা
মঙ্গলবার
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:
ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত তারই ছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত
আসিফ নজরুলের দাবি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ এবং খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি প্রতিবেদনে ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের তিনটি কারণ তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ দলে মুস্তাফিজের থাকা, বাংলাদেশি সমর্থকদের অবাধ চলাচল এবং বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি।
বিকল্প ভেন্যুতে খেলার চেষ্টা
আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ দল যাতে অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলতে পারে, সে জন্য তারা বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করেছিল। কিছু দেশ থেকেও সমর্থন পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
তার দাবি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে নেওয়ার বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
‘আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম’
আসিফ নজরুল বলেন, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে সেই আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তার মতে, সিদ্ধান্তটির পেছনে তিনটি বিষয় ছিল—দেশের মর্যাদা, ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস বাংলাদেশ তখন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিল।
ভারতের সঙ্গে ‘সমমর্যাদার’ সম্পর্ক চান
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ছোট দেশ হওয়ায় বাংলাদেশকে কেউ ইচ্ছেমতো অপমান করবে এবং বাংলাদেশ তা নীরবে মেনে নেবে—এমন প্রত্যাশা ঠিক নয়।
তার ভাষ্য, তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চান, তবে সেটি হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে; কোনো পক্ষের কাছে মাথা নত করে নয়।
তারারদেশ নিউজ