অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামায়াতের গুমের মামলাকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ সানজিদার
ঢাকা
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং
১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের গুমের অভিযোগের তদন্ত ও বিচারকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম।
তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ব্যক্তিদের অভিযোগ একইভাবে গুরুত্ব পায়নি। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের তদন্তের অগ্রগতি জানতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
১৫০টির বেশি অভিযোগ জমা দেওয়ার দাবি
সানজিদা ইসলাম জানান, ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে প্রায় ১৫০টি গুমের অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগে এক যুগের বেশি সময়ের তথ্য-উপাত্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় এক বছর তিন মাস সময়ে এসব অভিযোগের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি তাঁরা দেখতে পাননি।
তিনি বলেন, গুমের বিচার হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সব ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রেই সমানভাবে বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
জামায়াতের তিন মামলার প্রসঙ্গ
সানজিদা ইসলাম বিশেষভাবে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুমের তিনটি মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এর মধ্যে মীর আহমাদ বিন কাসেমসহ কয়েকজনকে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার অভিযোগের মামলা এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ কয়েকজনকে ডিজিএফআইয়ের জেআইসিতে গুমের অভিযোগের মামলাও রয়েছে।
দুটি মামলাতেই সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।
দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না: চিফ প্রসিকিউটর
সানজিদার অভিযোগের পর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গুমের শিকার হয়ে থাকলে তাঁর ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সব গুম পরিবারের প্রতি সমানভাবে সহানুভূতিশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২৫০ পরিবার গুমের শিকার হওয়ার প্রমাণ
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে এখন পর্যন্ত ২৫০টি পরিবার গুমের শিকার হয়েছে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলেও তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়ার পাশাপাশি যেসব স্থান থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়েছিল, সেগুলোও চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বর্তমানে পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা গুমের ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করছেন। বিপুলসংখ্যক অভিযোগ থাকায় তদন্ত শেষ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হলেও দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তারারদেশ নিউজ