অতীতে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, বর্তমানে আবার তাদের কর্মকাণ্ডে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে

ঢাকা

রবিবার

৯ আগস্ট ২০২৬ ইং

২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

 

দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথে কোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বাধা গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

 

রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে ঘর হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অপরিহার্য। অস্থিরতা তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমবে এবং নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে।

 

চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানার বড় উপস্থিতি রয়েছে। তাই বিনিয়োগের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা চট্টগ্রামের মানুষ ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন।

 

রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ

 

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী রাজপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

 

তিনি বলেন, অতীতেও একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। বর্তমানে তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। উন্নয়নের এই প্রক্রিয়ায় যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

 

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী এক দশকের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

 

আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এতে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা বাড়বে।

 

বিএনপির ৩১ দফা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

 

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি এখন দলীয় কর্মসূচির সীমা ছাড়িয়ে জনগণের প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করাকে সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রমকে উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের বিপুল জনশক্তিকে অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তর করা গেলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব।

 

বাংলাদেশের সঙ্গে একই সময়ে স্বাধীন হওয়া কয়েকটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশও এখন দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পথে আর কোনো বাধা গ্রহণ করা হবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

হেফাজত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

 

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরের অংশ হিসেবে রোববার বিকেলে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

 

পরে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তারারদেশ নিউজ