ইউনেস্কোর এডুকেশন স্টিয়ারিং কমিটিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

ইউনেস্কোর এসডিজি৪, এডুকেশন হাই লেভেল স্টিয়ারিং কমিটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে হাই লেভেল সেগমেন্ট অব ২০২১ গ্লোবাল এডুকেশন মিটিংয়ে তাকে সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের।

এসডিজি ৪ অর্জনে সদস্য দেশগুলোর কার্যক্রম জোরদার করা ও সহযোগিতা করার জন্য নতুন করে এই হাই লেভেল স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্বের প্রত্যেক অঞ্চল থেকে দুইজন করে সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী তাকে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করায় সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানান।




বিশাল সিলেবাসের পরীক্ষা আর হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

০৭নভেম্বর, ২০২১ ইং,
২৮ কার্তিক , ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। নতুন পাঠ্যক্রমের আরেকটি উদ্দেশ্যে হচ্ছে শিক্ষা হবে আনন্দময়। সারাক্ষণ পরীক্ষার ভয় আর অনেক অনেক বইয়ের চাপ শুধু যেন না হয়। বিশাল সিলেবাসের পরীক্ষা আর হবে না। সারা বছরে স্কুলে বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।

রবিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর টিকাটুলিতে শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে দেয়ালিকা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতিধন্য শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মনোয়ার হোসেন প্রমুখ।




১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারে:শিক্ষামন্ত্রী

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং,শুক্রবার,
১৯ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।

বিশেষ প্রতিনিধি:

করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। এরপর চলমান ছুটি আর না বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ফলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

০২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. দীপুমণি জানান, গত সপ্তাহে নেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলমান ছুটি ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। দীর্ঘ ১৭ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কারণে শিশু-কিশোররা স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আজকেও কথা হয়েছে, তারা মনে করছেন আমরা যে সংক্রমণের হার অনেক কম রাখতে পেরেছি, তার অন্যতম কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা। অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি এটিও অনেক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন তারা।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে আরও কমবে। ফলে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে ছুটি রয়েছে তা আর বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে আমরা চাইলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দিতে পারবো। যদি এর মধ্যে আর বড় কোনও সমস্যা না হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে সঠিক মনিটরিংও নিশ্চিত করার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলো নেওয়া সম্ভব হবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী জানান, নভেম্বরের মাঝে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসির ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া প্রসঙ্গে ডা. দীপু মনি জানান, ১৮ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ১২ বছর বয়সী পর্যন্ত টিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




দুই মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে।

২৬ আগস্ট ২০২১ইং, বৃহস্পতিবার,
১১ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমে উন্নতির দিকে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা করছে সরকার। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ (বৃহস্পতিবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথ বৈঠকে বসবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জোর প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা বৈঠক রয়েছে। এখন করোনা সংক্রমণ নিচের দিকে। সব বিষয় আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। করোনা মোকাবিলা সরকারের গঠিত পরামর্শক কমিটি ও দেশের প্রবীণ শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।’ বৈঠকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা- এ দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং তিন সচিব যোগ দেবেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছাড়াও করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের টিকা দেওয়ার অগ্রগতি এবং শিক্ষার ক্ষতি পোষানোর সম্ভাব্য কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত শনি অথবা রোববার সংবাদ সম্মেলন করে জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।




কামরুন নাহার মুকুলের আরেকটি ফোনালাপ ফাঁস

তারিখ: ৩০জুলাই শনিবার,২০২১ইং।
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুলের আরও একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। কয়েকদিন আগেও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর সঙ্গে অধ্যক্ষের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়।

ওই ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেছেন, ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করায় তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করা হচ্ছে। ‘সুপার এডিট’ করে ফোনালাপের একাংশ ফাঁস করা হয়েছে।তবে ওই ফোনালাপের অশালীন কথাবার্তার জন্য নেতিবাচক আলোচনার মুখোমুখি হন শিক্ষা ক্যাডারের সাহসী ও সৎ এই কর্মকর্তা। ফোনালাপে কামরুন নাহার কথা বলছিলেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্য মনিরুজ্জামান খোকনের সঙ্গে।

২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার , সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ২৭ মিনিট ৩ সেকেন্ডের আরও একটি ফোনালাপটি।

আলাপের একপর্যায়ে গভর্নিং বডির সদস্য মনিরুজ্জামান খোকন অধ্যক্ষকে বলেন, ‘আমি কি একবারও বলেছি আমাকে দেন? আমরা যাদের কাছে কৃতজ্ঞ, বিভিন্ন সময় যাদের কাছে আমাদের যেতে হয় তাদের রিকোয়েস্ট রাখার সুযোগ আছে। এরা তো ভালো ফ্যামিলির বাচ্চা, এরা তো প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করবে। এটুকু দায়িত্ব যদি না নেন। আমরা তো আপনার পক্ষেই আছি। ইভেন মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে ফোন গেছে।’

এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ফোনালাপে বলেন, ‘স্যার (গভর্নিং বডির সভাপতি) তো সচিব স্যারের কাছে পাঠিয়েছেন। সচিব স্যার তো হ্যাঁ-না একটা কিছু নির্দেশ দেবেন।’

এ সময়ে খোকন বলেন, ‘আরে সচিব স্যার কিছুই বলবে না। সচিব স্যারকে আমি দেড় বছর কাছ থেকে দেখেছি।’

খোকন আরও বলেন, ‘আমি কাছে থেকে চিনি তো, উনি (সচিব) কোনও দিনই হ্যাঁ বা না বলবেন না।ৃ আমি কিন্তু রেজাল্টটা আপনাকে দিয়ে দিলাম।’

অধ্যক্ষকে খোকন বলেন, ‘আপা আপনার টিঅ্যান্ডটি ফোন আছে না বাসায়? অনেক সময় টিঅ্যান্ডটিতে কথা বলা ভালো।’

কামরু নাহার এ সময় খোকনকে বলেন, ‘শোনেন, আমাকে দেখেছেন আমি কিন্তু মানুষটা দুই নম্বর বা জটিল এই টাইপের কিছু না।’

খোকন অধ্যক্ষকে বলেন, ‘সেটা আমি বুঝছি। আপা আমি বলি, আপনি একটা বাইন্ডিংসের মধ্যে আছেন সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু বিষয়টা হলো কী, আপনি বিষয়টি আমাদের ওপর ফেলাবেন। এটা হলো প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে।’শিক্ষার্থী ভর্তির প্রসঙ্গ টেনে খোকন বলেন, ‘ৃক্লাস নাইনের বাচ্চাগুলোরে আপনি ভর্তি করালেন না, এটা কি ঠিক করছেন, বলেন?’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘এখন তো কোনও ভর্তি করাৃ।

আগের ভর্তি প্রসঙ্গে খোকন বলেন, ‘ক্লাস নাইনের ইংরেজি ভার্সনের কমার্সের সেকশনটা, প্লাস ক্লাস নাই নটায় ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি নেবেন না?

এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা তো স্যার প্রতিবেদন চাইছে, প্রতিবেদন পাঠাইছি।’

খোকন বলেন, ‘ভর্তিটা প্রতিবেদন চাইলে কী হবে?’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘স্যার জানতে চেয়েছে, এখানে অসুবিধা কী?’

খোকন বলেন, ‘কিন্তু এপ্রিল মাস শেষ হয়েছে, কবে দেবেন সার্কুলার?’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘তখনই ভর্তি হয়নি। গত জানুয়ারিতেই ভর্তি হয়নি। তখন আমরা ছাত্র পেলাম না। ..।’

খোকন বলেন, ‘গত বছর দেরি করেছে তো আপনি জানেন না। গত বছর প্যানডেমিক শুরু হয়ে গেলো না?

অধ্যক্ষ বলেন, ‘এবার তো মহাপ্যানডেমিকের মধ্যে আছি?’

খোকন বলেন, ‘এখন না প্যানডেমিক? জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে এই সার্কুলার দিতে পারলে কী হয়ে যেতো না? আপনি ভর্তিকে অ্যাভয়েড করছেন কেন? কারণটা কী?’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘ভর্তি অ্যাভয়েড করবো না। ভর্তি নিয়েই যত বাণিজ্য আপনাদের এখানে।’

খোকন বলেন, ‘ভর্তি আপনি নিজের হাতে করতে পারবেন না, তাহলে তো আপনি যোগ্যতা রাখেন না ভর্তিটা কন্ট্রোল করার। ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছে, তাতে কোথাও কিছু হয়েছে, কোনও সমস্যা হয়েছে?’

অধ্যক্ষ বলেন, ‘যদি সহজ হতো, বৈধ হতো, বৈধ মনে করতো, তাহলে তো কোর্টে যেতে হতো না। কোর্ট থেকে হয়ে তারপর আসতে হয়েছে। এটা একটা হ্যারাজ না?

খোকন বলেন, ‘আরে কোর্টে গেছে, কোর্ট কী আমাদের আটকাতে পেরেছে। আপনি যদি কোর্টের চিন্তা করেন তাহলে আপনি ভিকারুননিসার প্রিন্সিপ্যালগিরি করতে পারবেন না।’




ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপের অডিও ভিত্তিহীন: কামরুন নাহার মুকুল

ঢাকা, ২৮ জুলাই বুধবার, ২০২১ইং, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮।
নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপের অডিওকে ভিত্তিহীন ও সুপার এডিটেড বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুল।

রাজধানীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুল এবং প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া কথোপকথন এখন টক অব দ্যা টাউন। চার মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ধরে চলা ওই ফোনালাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুল বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে আসার তিন দিনের মাথায় তারা আমাকে গালিগালাজ শুরু করেন। তাদের কথা মতো নাকি আমাকে চলতে হবে। এর আগের প্রিন্সিপালকে তারা মোবাইল ছুঁড়ে মেরেছে। আমার বাসায় ঢিল মারে। আমার দরজায় লাথি মেরেছে। লাথি মেরে আমার চেয়ার ফেলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অভিভাবক ফোরাম চায় আমি কিছু আসন ফাঁকা রাখি যাতে তারা ভর্তি বাণিজ্য করতে পারে। আমি বলেছি শিক্ষামন্ত্রী আমাকে এখানে থাকতে বলেছেন। এ প্রতিষ্ঠানকে ঠিক করার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। আমি যদি এদের কথায় ভর্তি বাণিজ্যের অনিয়ম করি, মন্ত্রীর কাছে আমি তখন কী জবাব দেবো। আমার ইতিহাসে অন্যায়ের কোনো দাগ নেই। এর আগের কোনো প্রিন্সিপাল এখানে কেনো থাকতে পারেনি, এখন বুঝতে পেরেছি।’

নীতির সঙ্গে আপোষহীন এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এবারের ভর্তির লটারির সময়ও তারা ১২০টি সিট খালি রেখেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০-৬০ সিট খালি আছে। মূলত সেগুলোতে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে তারা আমাকে অনেক আগে থেকে চাপ দিচ্ছে।’

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘মূলত ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে পেরে না উঠে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ ষড়যন্ত্র করছেন জিবি সদস্য ও অভিভাবক ফোরামের লোকজন। আমি এ প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে চাই। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই। প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করতে এটি তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে চাই। আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন।’ যারা অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের সবাইকে নিয়ে লড়তে চাই। কোনো অনিয়মকে কখনো প্রশ্রয় দেইনি, দেবোও না।’

ফাঁস হওয়া ওই অডিও ভিএনএসসির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হেনেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা।
তারা বলেন, অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এ বছরের প্রথম দিন যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি বললেই চলে। কেউ যদি তাকে প্রতিষ্ঠানে আসার বিষয়ে অনুরোধ করেন, তিনি (কামরুন নাহার) সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন- ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মন্ত্রী, সচিবালয় এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত তার পক্ষে আছে বলেও গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা দাবি করেন।

অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মজিদ সুজন বলেন, যোগদানের পর থেকে কলেজের বাসভবনে থাকলেও কামরুন নাহার কখনো নিজ অফিসে বসেন না। অভিভাবকরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও তিনি কারো সঙ্গে দেখা করেন না। ভিকারুননিসার যেসব শিক্ষার্থীর অভিভাবক মারা গেছেন, তাদের বিনা বেতনে পড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি অধ্যক্ষ। সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার স্কুলের জন্য সময় দিতে পারেন না বলে অধ্যক্ষ বেপরোয়া হয়ে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।




এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা না নেয়ার ইঙ্গিত দীপু মনির

ডেস্ক রিপোর্ট:

চলতি বছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা না নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে চলতি শিক্ষাবর্ষের এ স্তরের পরীক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীরা যাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে কী পদ্ধতিতে তাদের পাস করানো হবে সেই প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

আজ রোববার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ২০টি জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ, ১০টি জেলায় লকডাউন চলছে। অনেক দেশেও লকডাউন চলছে। বর্তমানে ভাইরাসের নানা ধরনের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো নিয়ে ঝুঁকি অনেক বেশি, বিশেষজ্ঞরাও সেসব নিয়ে কথা বলছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা বাধ্য হয়েছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়াতে। এরপরও আমরা পরিস্থিতি কতটা কোন দিকে যায় সেদিকে নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে চালু রেখেছি। নানাভাবে সেটিকে চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা ৮০-৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর বেশি পৌঁছাতে পারিনি। কাজেই এতে ১৫-২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারিনি বলে অ্যাসাইনমেন্ট চালু করেছি। তা দিয়ে আমরা ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। তারপরও শতকরা সাত ভাগ শিক্ষার্থী এখনও শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। আমাদের চেষ্টাগুলো অব্যাহত রয়েছে, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে যারা এবার এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা, উদ্বেগটা মূলত তাদের জন্য বেশি।’

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চিন্তা করেছিলাম স্কুল-কলেজ খুলে দিতে পারলে এসএসসির জন্য ৬০ দিন এবং এইচএসসির জন্য ৮০ দিন ক্লাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা নিতে পারব। এখন যদি সেটি না হয় আমরা তার বিকল্প নিয়ে চিন্তা করছি। আমি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের যেসব পড়া ও অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে তারা যেন সেটি বাসায় বসে শেষ করেন। বাড়িতে বসে স্বাভাবিকভাবে যতটুকু সম্ভব তা যেন করে যায়। এমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না যাতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কীভাবে পুষিয়ে নেয়া যায় তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।’

বর্তমানে আমরা আদৌ পরীক্ষা নিতে পারব কি-না, পরীক্ষা না নিতে পারলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তার সব কিছু নিয়েই আমাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে। আমরা একটি প্রস্তুতির দিকে যাচ্ছি। পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত ও ভুল পথে না যেতে পরামর্শ দেন তিনি। পরীক্ষা দিতে হবে কি-না তা পরের কথা, আগে সুস্থ থাকতে হবে। এক বছর পরীক্ষা দিতে না পারলে জীবনে কোনো বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে না। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকুক। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারেও কী করা যায় সেটি নিয়েও আমরা ভাবছি। ভর্তিচ্ছুদের এটি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।




পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে: দীপু মনি

বিশেষ প্রতিনিধি:

চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত আকারে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

আজ রোববার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হই। এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি রয়েছে, তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে স্কুল-কলেজ খুলে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

দীপু মনি বলেন, চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগটা অনেক বেশি। আমরা চেষ্টা করছি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে তাদের পরীক্ষা নেয়ার। যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে বিকল্প চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ জন্য আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষাব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছি। টিভি, অনলাইন ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তোমরা বাসায় বসে নিয়মিত পড়ালেখা করে সিলেবাস শেষ করবে। তার সঙ্গে সুস্থ থাকতে হবে। জীবন থেকে এক বছর চলে গেলেও কিছু হবে না, তার চাইতে সুস্থ থাকাটা বড় বিষয় বলে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য নানা পদক্ষেপ হাতে নেয়া হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে।




নিষিদ্ধ হচ্ছে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি

নাসিমুল গনি:

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এবার ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো জনপ্রিয় দুই গেম বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশে। দুই গেমের আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এটি বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে পাবজি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও পরে আবার চালু করা হয়।

কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরির ফলে সম্প্রতি ফ্রি ফায়ার ও পাবজি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

দুই মন্ত্রণালয় থেকে এমন সুপারিশ পেয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আলোচনায় ওই দুই গেমের আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম দুটি বন্ধে দুই মন্ত্রণালয় থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি সত্য যে ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে বন্ধ করতে গেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। তাই ধীরে সুস্থে বিকল্প পদ্ধতিতে গেম দুটি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হবে। বন্ধ করলেও তরুণরা ভিপিএন দিয়ে গেমটি খেলবে এমন প্রশ্নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হ্যা, যারা এ ধরনের গেমে আসক্ত তারা ভিপিএনসহ নানা বিকল্প উপায়ে গেমটি খেলতে পারে। আমরা সেসবও বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করব।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সম্প্রতি গেম দুটিতে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি বেড়েছে শিক্ষার্থীদের। এমন মন্তব্য জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেম দুটির ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

গত বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে অনলাইনভিত্তিক ক্লাসের জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের হাতে ল্যাপটপ, মোবাইল ডিভাইস তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ সুযোগে তরুণ প্রজন্ম এ গেম দুটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফ্রি ফায়ার ও পাবজি আসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরতে উদাহরণ দেন মহিউদ্দিন আহমেদ, গত ২১ মে চাঁদপুরে মামুন (১৪) নামে এক তরুণ মোবাইলের ডেটা কেনার টাকা না পেয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করে।

তিনি বলেন, আমরা যখন আগামীর তরুণ প্রজন্মকে সহজলভ্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রাপ্তির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি, ঠিক তখন আগামী তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিপথগামী হয়েছে, যা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রক কমিশনকে দ্রুত এবং দ্রুততার সহিত এ গেমগুলোর অপব্যবহার বন্ধ এবং প্রযুক্তির ভালো দিক তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা গড়তে আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও আরো কিছু কারণ দেখানো হয়েছে গেম দুটি বন্ধের বিষয়ে। এসব গেম কোমলমতিদের ওপর মনস্তাত্বিক প্রভাব ফেলছে এবং তরুণদের আগ্রাসী করে তুলছে বলে মত দিয়েছেন মন বিজ্ঞানীরা।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুক দিয়ে মসজিদে মুসলমানদের হত্যা এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভের বিষয়টি অনেকেই পাবজির সঙ্গে তুলনা করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের গেম খেলার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। অনলাইনে গেম খেলার পাশাপাশি ভার্চ্যুয়ালে অর্থ লেনদেন হচ্ছে এমএমএস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। আর এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি ও পরিবার। সম্প্রতি নেপালে পাবজি নিষিদ্ধ করে দেশটির আদালত। একই কারণে ভারতের গুজরাটেও এ গেম খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এমনকি গেমটি খেলার জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও পাবজি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, পরে আবার চালু করা হয়।




ছাত্র-ছাত্রী ২ ডোজ টিকা দেয়ার পর খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়

বিশেষ প্রতিনিধি:

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘দেশের যেসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল রয়েছে, সেখানে হলের শতভাগ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে হল নেই, সেগুলো আগামী ১৩ জুন থেকে খোলা হতে পারে।’

দীপু মনি বলেন, ‘আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার পরই তাদেরকে হলে প্রবেশের ব্যবস্থা করব।’

আজ ২৬ মে বুধবার, দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল রয়েছে, সেখানে ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই টিকা নিশ্চিত না আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হলে বড় ধরণের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতে পারে। করোনা সংক্রমণ আর না ঊর্ধ্বমুখী না হলে আগামী ১২ জুনের পর আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল-কলেজ খুলে দিতে পারি। আবাসিক হল না থাকলে বিশেষ ব্যবস্থায় সেসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। বর্তমানে টিকার সঙ্কট কেটে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়া হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছি। তালিকা পাওয়ার পর সেটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠিয়ে দেয়া হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টিকা প্রদান করা হবে।’

দীপু মনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শে আমরা সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা যেভাবে আমাদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, আমরা তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এর বাইরে মানুষ নানা ধরণের দাবি তুলে আন্দোলন ও মানববন্ধন করতে পারে। কিন্তু ঝুঁকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।’