‘অতিরাজনীতি’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করলেন শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা

মঙ্গলবার

১১ আগস্ট ২০২৬ ইং

২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজপথের ঘনঘন আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তাঁর অভিযোগ, সরকার শিক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে কাজ করছে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) মিলনায়তনে ‘এডুকেশন ফর অ্যা রোবাস্ট ইকোনমি: স্কিলস, ল্যাঙ্গুয়েজ, অ্যান্ড গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) সেমিনারটির আয়োজন করে।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আন্দোলনে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত। তবে অকারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

 

দুই দশকের সংকট কাটানোর উদ্যোগ

 

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের শিক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের দুর্বলতার বিষয়টিও উঠে আসে। তাঁর মতে, গত দুই দশকে শিক্ষাব্যবস্থা নানা ক্ষেত্রে পিছিয়েছে।

 

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফলাফলের অবনতিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো পরিস্থিতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এবার পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কঠোরতা আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

শিক্ষা খাতে জিডিপির নিট ২ শতাংশ বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার এবং মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য থাকার তথ্য দেন তিনি।

 

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি জটিলতা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত জমে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করে এনটিআরসিএ ও পিএসসির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

 

৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

 

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

 

অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনিয়ন্ত্রিত অনার্স কোর্স চালু বন্ধ রাখার কথা জানান মন্ত্রী। উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য নিয়েও সতর্ক করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, একটি অসম্পূর্ণ খসড়াকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং এর জেরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগসূত্র

 

সেমিনারে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের বড় জনসংখ্যাকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

 

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি চাকরি ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। শিক্ষকদের গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, শুধু জিডিপির আকার বাড়ালেই শক্তিশালী অর্থনীতি তৈরি হয় না। দক্ষ জনশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।

 

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কী শিখছে এবং সেই জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

প্রাথমিক পর্যায়ে পড়া, লেখা, গণিত ও যুক্তির মতো মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় সেমিনারে।

 

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি ও মান্দারিনসহ বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

 

সেমিনারে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর, মার্কপলো এআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসফিয়া তাসবিন, ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুশান ভাইজসহ শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

 

তারারদেশ নিউজ




অপপ্রচার চালিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী!

ঢাকা,
১৯ জুলাই ২০২৬ ইং,
০৪ শ্রাবন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
সাজ্জাদ মাহমুদ:

তথ্য বিকৃত করে ট্রল ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপতথ্য ও বিভ্রান্তি একটি সুন্দর ও শিক্ষিত জাতি গঠনের পথে বড় অন্তরায়।

শনিবার (১৮ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি আধুনিক, মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। তবে এ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অপতথ্য ছড়িয়ে বিশেষ করে তরুণদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, গুজব ও বিকৃত তথ্যের পরিবর্তে সত্য ও ইতিবাচক তথ্যের চর্চা বাড়াতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর আগে শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক গ্রন্থাগার এবং কম্পিউটার ল্যাব পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




লোকসংগীতে দেশসেরা ১১ বছরের আয়না সরকার, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহন।

ঢাকা,
১৮ জুলাই ২০২৬ ইং,
০৩ শ্রাবণ ১৪৩৩বঙ্গাব্দ,
সাজ্জাদ সদয়:

টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামের ক্ষুদে শিক্ষার্থী অনয়া সরকার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক- ২০২৬ এ লোকসংগীত বিভাগে সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

১৫ জুলাই বুধবার ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনয়া সরকারের হাতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সনদ ও স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) তুলে দেন।

অনয়া সরকার (১১) কিশোরগঞ্জের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনয়া সরকার সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়ি এলাকার শংকর সরকার ও তুলি সরকার দম্পতির সন্তান। শংকর সরকার কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিসট হিসেবে রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগে কর্মরত রয়েছে।

অনয়া সরকারের পিতা শংকর সরকার বললেন, ছোট বেলায় আমার বাবা মারা যায়। আমার বড় বোন টাকার অভাবে গান সঠিকভাবে শিখতে পারে নাই। আমার বড়বোন ও পরিবারে স্বপ্ন অনয়া পড়াশোনার পাশাপাশি কন্ঠশিল্পী হবে।

সখীপুর বাসীর কাছে আমার সন্তান অনয়ার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি। বিশেষ করে এই কৃতিত্বের সিংহভাগ অবদানই আমার স্ত্রী তুলি সরকার এবং অনয়ার গানের শিক্ষক অশোক কুমার বিশ্বাসের।

উনাদের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ও অনুপ্রেরণায় আমার সন্তান কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আজকে লোকগীতিতে দেশ সেরা হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। আমারা অনেক খুশি ও গর্বিত হয়েছে। আমার সন্তান সখীপুরবাসীর সম্মান বৃদ্ধি করেছে, আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। আপনারা সকলেই আমার সন্তানের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন।




‎সিংগাইরে হঠাৎ এসএসসি কেন্দ্র পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী মিলন

‎মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার দুটি কেন্দ্র আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এমপি।গত ‎মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে তিনি জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয় ও সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান।
‎এই পরিদর্শনে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না এবং শিক্ষামন্ত্রীর সফরে প্রচলিত প্রটোকলও অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি সরকারি গাড়ির পতাকাও আড়াল করা ছিল।
‎জয়মন্টপ কেন্দ্রে গিয়ে তিনি দুটি কক্ষের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে তিনি সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করে ৬টি কক্ষ ঘুরে দেখেন।
‎পরিদর্শন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও খায়রুন্নাহার, এসিল্যান্ড মো. হাবেল উদ্দিন, থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং কেন্দ্র সচিব মাহফুজুল আলম।




শীত লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

শীত এসেছে বছর ঘুরে
নবান্ন সব ঘরে ঘরে,
নানা স্বাদের পিঠাপুলি,
আনন্দে আজ কোলাকুলি।

কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে
মেঠো পথ পেরিয়ে,
শহরে শহরে পিঠা উৎসবে
আনন্দে মেতেছে সবে।

দুঃস্থ অসহায় মানুষ যারা
শীতে নিদারুণ কষ্টে তারা,
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে
উষ্ণতার হাত বাড়িয়ে দিতে,
আহ্বান জানাই সবাইকে
মানবতার সেবায় আসুন প্রত্যেকে।

পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কবি,কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)




পরীক্ষার কেন্দ্রে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক

বৃহস্পতিবার,
১২ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
২৬ জুন ২০২৫ ইং,

করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই ২৬ জুন বৃহস্পতিবার , থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এতে অংশ নেবেন সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা করোনা-ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা বোর্ডগুলো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো প্রতিপালনে সব জেলার ডিসি, ইউএনও, শিক্ষা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জনদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

‘অতীব জরুরি’ ওই চিঠিতে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সবার মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, সারাদেশে করোনাভাইরাস এবং ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় পরীক্ষা কেন্দ্রে এবার বিশেষ কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো হলো-
১. কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীসহ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক।

২. পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৩. ডেঙ্গু বিস্তাররোধে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে এবং আশপাশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

৪. পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে।

৫. পরীক্ষা কক্ষের আসন বিন্যাস বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিপালন করতে হবে।

৬. প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের মেডিকেল টিমকে সক্রিয় রাখতে হবে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন/উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে।

৭. জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে অভিভাবকদের জটলা নিরুৎসাহিত করার প্রচারণা চালাতে হবে।

আদেশে আরও বলা হয়, শিক্ষক-পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। দেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী—প্রথম দিনে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬০৫টি কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা বোর্ডের অধীন ৪৫৯টি কেন্দ্রে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন ৭৩৩ কেন্দ্রে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব বোর্ডের প্রথম দিনের পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হবে দুপুর ১টায়।

এবার ঢাকা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন, রাজশাহীতে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন, কুমিল্লায় ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন, যশোর ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭, চট্টগ্রাম ১ লাখ ৩৫ জন, বরিশালে ৬১ হাজার ২৫, সিলেটে ৬৯ হাজার ৬৮৩, দিনাজপুরে ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২, ময়মনসিংহে ৭৮ হাজার ২৭৩ জন।

এছাড়া মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থী ৮৬ হাজার ১০২ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, করোনা ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই এবার এইচএসসি পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস ও নকল প্রতিরোধেও তৎপর আমরা। স্বাস্থ্যবিধিসহ সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেগুলো তদারকি করার জন্য বোর্ডের একাধিক টিম কাজ করবে।




ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে সোমবার ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’

রোববার,
২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
০৬ এপ্রিল ২০২৫,

আল হারুন রাফি :

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আগামীকাল সোমবার ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তারা।

আগামীকাল সোমবার সারা দেশে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ধর্মঘট পালনের পাশাপাশি রাজধানীতে বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে ৭ এপ্রিল সোমবার বিশ্বব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল অ্যান্ড ইসলামিক ফোর্সেস গ্রুপ। ৬ এপ্রিল রোববার, ওয়াফা নিউজের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

গাজার ভয়াবহ দৃশ্য ও নিহতের সংখ্যা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে এই ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে যুদ্ধের অবসানের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা একত্রিত করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলি অপরাধ ও ফিলিস্তিনি অধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উক্ত কর্মসূচি পালনের ব্যপারে কোন নির্দেশনার কথা জানা যায়নি। অন্যদিকে ৬ এপ্রিল রোববার, বিকেলে ঢাবি’র দুই সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং এ বি জোবায়ের এ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দেন। একই সঙ্গে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মার্চ ফর প্যালেস্টাইন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যা ও ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বাকস্বাধীনতার ওপর দমনপীড়নের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউজের সামনের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনিদের অধিকারে সমর্থনকারী শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাছাড়া ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

মূলত অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের। গত ১২ ঘণ্টায় যে হামলা চালানো হয়েছে তার অধিকাংশই খান ইউনিসে। সেখানে শিশু ও নারীসহ কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও খারাপ হচ্ছে। পরিবারকে খাওয়ানোর জন্য যে কোনো ধরনের খাবার খুঁজছে ফিলিস্তিনিরা। গত এক মাসে গাজায় একটিও ট্রাক প্রবেশ করেনি। তাই খাবার নেই, জ্বালানি নেই, রান্নার গ্যাস নেই। এমনকি ওষুধও নেই, আশ্রয় বা তাঁবুও নেই।




পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ না করায় অধ্যক্ষ বরখাস্ত

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের এইচএসসি ব্যবসা শাখার ৩৬ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অবশেষে কলেজ অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভায় কলেজ সভাপতি ও রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান এ সিদ্ধান্ত নেন বলে নিশ্চিত করেন। তবে ওই শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, এইচএসসি (বিএম) শাখার শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। রৌমারী টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ৩৬ জন শিক্ষার্থী প্রথমবর্ষ পরীক্ষায় অটোপাশ না পাওয়ায় দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণের টাকা দিয়েও তারা প্রবেশপত্র পায়নি। এ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অন্য শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং শিক্ষামন্ত্রী বরাবর ইউএন’র মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সংবাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়। পরে ওই অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করেন কলেজ সভাপতি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের গাফিলতির কারনে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরে দ্বিতীয় বর্ষ চূড়ান্ত পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য সময়ে দিতে পারবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুক্রবার দুপুরে নিশ্চিত করেন।




বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি হামিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে এগিয়ে আসতে হবে।’ 

রাষ্ট্র প্রধান আজ দুপুরে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালী যুক্ত হন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ‘রূপকল্প-২০৪১’ অভিযাত্রাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি তৈরি করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আশা প্রকাশ করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ যাত্রাপথে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে।
বিশ্বব্যাপী তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের সফলতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে তথ্য প্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিশ্বব্যাপী সফলতার সাথে এগিয়ে যেতে পারে, সেভাবে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে এর অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিযোগিতারও আন্তর্জাতিকীকরণ হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন তাই একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও  পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পাঠ দানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কথা বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেন।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এগিয়ে চলছে। কয়েক বছর পরই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ঢেউ বইতে শুরু করবে। তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুুতি নিতে হবে, রাষ্ট্রপতি অনুধাবন করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য মাতা-পিতা, অভিভাবক, দেশ ও জনগণের যথেষ্ট বিনিয়োগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে পবিবার, দেশ ও জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে বর্তমান শতাব্দীতে উন্নয়নশীল বিশ্বে উচ্চশিক্ষার গতি-প্রকৃতি, বিশ্বায়ন ও তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারে সৃষ্ট ডিজিটাল বিভক্তি, উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের ব্যবধান মোকাবেলা এবং পুঁজি ও শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান নির্ভর-অর্থনীতিতে উত্তরনে এ গুলোকে শিক্ষার প্রধান বিবেচ্য ভাবার ও তাগিদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজ্ঞানের সঙ্গে ব্যক্তিক ও সামষ্টিক চেতনার সমন্বয় ঘটানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

হামিদ উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, গবেষণা-উদ্ভাবন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, প্রগতিশীল ভাবনা, জাতি-গঠন ও দেশাত্মবোধের চেতনার এক তেজোদীপ্ত আলোকবর্তিকা; বাঙালির আশা-আকাঙ্খার এক অনন্য বাতিঘর।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ১৯১৭ সালে গঠিত ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন’ এর সুপারিশের ভিত্তিতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯২০’ আইনের ভিত্তিতেই ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের। সে দিন ১২টি বিভাগ ও ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ৮৪টি বিভাগ ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার সূতিকাগার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অসাম্প্রদায়িক ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের গৌরবময় বিদ্যাপীঠ। সূচনা লগ্ন থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে মুক্তবুদ্ধির চর্চা শুরু হয়।

তিনি বলেন, ‘মাত্র দুইজন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ছাত্রীর সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি। এটা দেশের নারীর ক্ষমতায়নের একটি বিশাল সাফল্য।’

একুশে ফেব্রুয়ারীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্বের সকল জাতিসত্তার ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়া নিঃসন্দেহে একটি খুশির খবর।

রাষ্ট্রপতি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকেই সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করার আদেশ দেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশি বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যাদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশ ও স্বাধীন জাতিসত্তা।

রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদ হয়েছেন তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি, শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী শহীদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ ও বক্তব্য রাখেন।-বাসস




ঢাবি ‘গ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ কাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রকাশ করা হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবেন।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাতটি বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ইউনিটে ১২৫০ আসনের বিপরীতে লড়েছেন ২৭ হাজার ৩৭৪ জন। প্রতি আসনের বিপরীতে লড়ছেন ২১ দশমিক ৯০ জন।