জুমার দিন আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়

শুক্রবার,
৯ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
২৪ অক্টোবর ২০২৫ইং ,

ধর্ম ও জীবনঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিন শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ: ১০৮৪) তাই ইসলামে জুমাদিন একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন। এ দিন আসরের পরে দোয়া কবুল হয়। এটি মুমিন মুসলমানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে আরও এসেছে-

‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম ৮৫৪) হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী জুমার দিনের আসরের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মুমিনদের জন্য বিশেষ কিছু আমলের কথা এসেছে হাদিসে। আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে- দোয়া, জিকির ও ইস্তেগফার ইত্যাদি। এছাড়াও আরেকটি আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। সেটি হলো- বিশেষ নিয়মে দরুদ পাঠ

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন আসর নামাজের পর ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরিফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে।’ (আফদালুস সালাওয়াত ২৬)

দরুদটি হলো-

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আ’লা আলিহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।’

জুমার দিন একটি সময় রয়েছে যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাদিসে ওই সময়ে দোয়া কবুলের কথা বলা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন।’ (বুখারি ৬৪০০)

হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, জুমার দিন এমন একটি সময় আছে, যেটাতে বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন।’ (মুসান্নাফ ৫৫৮৮)

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।’ (আবু দাউদ ১০৪৮)

আসরের শেষ সময় বলতে সূর্য ডোবার আগ-মুহূর্তে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থে জাদুল মাআদে এসেছে, ‘জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন দরুদের ব্যাপারে বেশি মনোনিবেশ করার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত নিয়মের আসর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সময়ে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।




রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঙ্গার চেষ্টাকারীরা অমানুষ!

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং,
১০কার্তিক , ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,
ডেস্ক নিউজ:

২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার, দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর অফিস কক্ষে সম্প্রতি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং হতাহতদের পুনর্বাসন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান রানা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা দাঙ্গা, হাঙ্গামার চেষ্টা করে তারা কোনো দলের হতে পারে না, এমনকি তারা মানুষ হতে পারে না, তারা অমানুষ। আগামীতে যাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারে সেই পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে হয়তো এসব কাজে তারা লিপ্ত হয়েছে। আমরা চাই বিচারটা যাতে ভিন্নখাতে প্রবাহিত না হয়। সঠিক পথে গিয়ে প্রকৃত ব্যক্তিকে দ্রুত বিচার আইনে আনা হয়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সভায় সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেবালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও হতাহতদের পনর্বাসন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে মৌলবাদীদের দ্বারা সংগঠিত পূর্বপরিকল্পিত এই সহিংসতায় হিন্দু ধর্মীয় ব্যক্তিদের মনোবল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথমে তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে যাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনোবল দ্রুত ফিরে আসে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতারা, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও নেতাদের উদ্যোগ নিতে হবে। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং হতাহতদের তালিকা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে এসেছে। কিন্তু কেউ যেন বাদ না পড়ে। কেউ যাতে আড়ালে না থেকে যায়। সরকারি উদ্যোগে আমরা তাদের জন্য যদি করণীয় থাকে তা করার চেষ্টা করবো। যে তালিকা এসেছে সেখানে ত্রুটি আছে। প্রকৃত তালিকা নেবো।’

তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসন রাজনৈতিক নেতারা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে দ্রুত আলোচনা সভার আয়োজন করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা দ্রুত বিচার আইনে বিচার করতে হবে। কেন্দ্রীভাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটি, ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি, ইসকন, বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করবেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি নানাভাবে চেষ্টা করছে নির্বাচনের আগে যাতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করা হয়, তারা ভীত হয়ে দেশ ত্যাগ করে। আমরা আজ দৃঢ় কণ্ঠে বলছি, কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তারা নিজের দেশ ছেড়ে কখনোই যাবে না। জাতির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি- তারা যেন ভিত না হয়, সরকার কঠোর অবস্থান নিয়ে এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা নেবে। এবং তাদের যে ক্ষতি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবেন। তারা যেন সামন্য এই ঘটনার পরে যেন দেশ ত্যাগ করার মতো কোনো হতাশার মধ্যে না পড়ে। এ দেশ আমাদের সবার, সব বাধাবিপত্তি প্রতিহত করেই আমরা এদেশে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকবো।

সংসদ সদস্য পঙ্গজ দেবনাথ বলেন, সভার অভিমত হচ্ছে দ্রুত বিচার করা। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে কত টাকা লাগতে পারে তা নির্ধারণ করা।
এ সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার ও সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল উপস্থিত ছিলেন।




যথাযোগ্য মর্যাদায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উৎসব সম্পন্ন

মোঃ জাকির:

আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান এটি। গৌতম বুদ্ধের শুভ জন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ এই তিন ঘটনার স্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বিশ্বের সব স্থানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছেই বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। বুদ্ধপূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দিনটি সরকারি ছুটির দিন। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দেন। বাণীতে তারা বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

আজ বুধবার, ২৬ মে, বুদ্ধপূর্ণিমা । ৫৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এই দিনে তিনি মহানির্বাণ লাভ করেন এবং ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এই দিনে বুদ্ধদেব সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভও এই দিনে করেন। তিন ঘটনার স্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বিশ্বের সব স্থানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছেই বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত । তাই বৈশাখ মাসের এই পূর্ণিমা ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’ নামে খ্যাত।

জেনে নিন শুভ সময় ও পূর্ণিমা শুরু ও শেষের সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট–পূর্ণিমা তিথি আরম্ভ–বাংলা– ১০ জ্যৈষ্ঠ, মঙ্গলবার। ইংরেজি– ২৫ মে, মঙ্গলবার। সময়– রাত ৮টা ৩১ মিনিট। পূর্ণিমা তিথি শেষ – বাংলা– ১১ জ্যৈষ্ঠ, বুধবার। ইংরেজি– ২৬ মে, বুধবার। সময়- বিকেল ৪টে ৪৪ মিনিট।

এই দিন পড়েছে অত্যন্ত শুভ যোগ । এই শুভ মুহূর্তে যদি কোনও কাজ করা যায় তা হলে তা সফল হয় । এমনকি কোনও নির্দিষ্ট শুভ কাজ করার নির্দিষ্ট দিন না পেলে এই শুভ যোগে তা সম্পন্ন করা যায় । আজ রয়েছে সেই সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ । বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে রাত ১০টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত শিব যোগ থাকবে। এর পর সিদ্ধযোগ শুরু হবে।

এই দিন সংসারে শান্তি আনতে ও বিপর্যয় দূর করতে অনেকেই কয়েকটি টোটকা পালন করে থাকেন । এতে পরিবারের শ্রীবৃদ্ধি হয় বলে মনে করেন। এ দিন চেষ্টা করুন বাড়িতে আমিষ রান্না না করতে । পারলে সারা দিন উপবাসে থাকেন ।

উপবাস ভঙ্গ করার সময় চন্দ্রদেবের আরাধনা করে, তাঁর কাছে মনের বাসনা জানানোর পর তাঁর উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করুন ।

অনেকেই এই দিন বাড়িতে পাঁচটা ৯ বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের খাওয়ানো অত্যন্ত শুভ বলে মানেন। এ দিন সন্ধেয় ছাদের চার কোনায় চারটি সরষের তেলের প্রদীপ জ্বেলে রাখেন ।

এই দিন নিজের রাশি, লগ্ন অনুযায়ী অনেকেই রঙিন পাথর ভাল করে গঙ্গাজলে ধুয়ে ঠাকুরের কাছে রেখে পুজো করেন। তারপর টাকা রাখার জায়গায় রাখেন ।




এ বছর ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৭০ টাকা

মোঃ শফিকুল ইসলাম:

এ বছর সাদাকাতুল ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ এপ্রিল বুধবার, সকালে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ইসলামি শরিয়াহ মতে গম, আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনির ইত্যাদি পণ্যগুলোর যেকোনও একটি দিয়ে ফিতরা প্রদান করা যায়। উন্নতমানের গম বা আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা’ বা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৭০ (সত্তর) টাকা প্রদান করতে হবে। যব দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৮০ টাকা, কিশমিশ দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৩২০ টাকা, খেজুর দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৬৫০ টাকা, পনির দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ৩১০ টাকা ফিতরা প্রদান করতে হবে।

দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত গম, আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনিরের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে এই ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এই পণ্যগুলোর যেকোনও একটি পণ্য বা এর বাজার মূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, উল্লিখিত পণ্যগুলোর স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। তদানুযায়ী স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। সভায় ফিতরা সংক্রান্ত কমিটির উপস্থিত সদস্যরা উল্লেখ করেন, নেছাব পরিমাণ মালের মালিক হলে মুসলমান নারী পুরুষের ওপর ঈদের দিন সকালে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম ও জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর ড. মাওলানা মুহাম্মদ কাফিলুদ্দীন সরকার, মুফতি মোহাম্মদ রুহূল আমীন, মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. আনিছুর রহমান সরকার, উপ-পরিচালক ড. মাওলানা আবদুল জলীল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ূর রহমান খান ও মুফাসসির ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবু সালেহ পাটোয়ারীসহ দেশের বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।




আজ পবিত্র জুমআতুল বিদা।

দিনবদল ডেস্ক:

আজ রমজান মাসের শেষ জুমআ। পবিত্র জুমআতুল বিদা। এ দিনকে ইবাদতের মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমআর দিনের গুরুত্ব, ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। আর রমজানের কারণে জুমআর দিনের মর্যাদা আরও বেড়ে যায়। রমজান মাসের শেষ জুমআ হিসেবে এদিন ‘আল-কুদস দিবস’ পালিত হওয়ায় এর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। মানুষ দলে দলে জুমআ আদায় করতে মসজিদের দিকে ধাবিত হবে। মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে মুসলিম উম্মাহ আজ জুমআর নামাজ শেষে মহান আল্লাহ’র কাছে বিশেষ দোয়া করবেন।

গত ৬ মে বৃহস্পতিবার এ বিশেষ দিনটিতে মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে মসজিদে মসজিদে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়।

১৪৪২ হিজরির রমজান মাসে মুসলিম উম্মাহ ইতিমধ্যে তিনটি জুমআ অতিবাহিত করেছেন। আজ রমজানের বিদায়ী জুমআ। তাই কুরআন নাজিলের মাসের মর্যাদা ও বরকতের সঙ্গে জুমআর মর্যাদা ও ফজিলতে মুমিন রোজাদারের আমল ও হৃদয় হোক আলোকিত।

জুমআর নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে- হজরত সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা জুমআর নামাজে উপস্থিত হও এবং ইমামের কাছাকাছি হয়ে দাঁড়াও। কেননা যে ব্যক্তি জুমআর নামাজে সবার পেছনে উপস্থিত হবে, জান্নাতে প্রবেশ ক্ষেত্রেও সে সবার পিছনেই পড়ে থাকবে।’ (মুসনাদে আহমদ)

জুমআর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে আরও এসেছে- ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সূর্যোদয় হওয়ার সবগুলো দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হলো জুমআর দিন। এই জুমআর দিনেই হজরত আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন এবং জুমআর দিনই তাকে জান্নাত দান করেন এবং জুমআর দিনেই তাকে জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় প্রেরণ করেন এবং কেয়ামতও এই জুমআর দিনেই অনুষ্ঠিত হবে।’ (মুসলিম)

৬ মে বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুরোধ জানানো হয়েছে যে, করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব হতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের সুরক্ষা, অসুস্থদের দ্রুত আরোগ্য লাভ, মহামারি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে আজ ২৪ রমজান ১৪৪২ হিজরি পবিত্র জুমাতুল বিদা নামাজ শেষে দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করতে দ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমাম, মুসল্লিদের ও মসজিদ কমিটিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে দেশের অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্ম মতে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শেষ জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের বিগত জীবনের সব গোনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার তাওফিক দান করুন। মহামারি করোনাভাইরাস থেকে বিশ্ববাসীকে হেফাজত করুন। জুমআর ফজিলত ও মর্যাদাকে রমজনের ফজিলতের সঙ্গে বাড়িয়ে মুমিনের সব আমলকে কবুল করার মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে হেদায়েতের আলোতে ভরপুর করে দিন। আমিন।




২৮ শে জানুয়ারি দেশে আসবে করোনা টিকার প্রথম চালান।

দিনবদল ডেস্ক:

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা জন্য ২০ লক্ষ টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে মোতাবেক ২০ শে জানুয়ারি ভারত সরকার বাংলাদেশকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন প্রদান করবে। সোমবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘প্রেস মিট’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন যে সেরামের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ২৮ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে।

মন্ত্রী আরো বলেন এই টিকা ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে । তিনি বলেছিলেন যে চিঠিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা জন্য ২০ লক্ষ টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।




কোরআনের প্রতি মানুষের দায়িত্ব

রহমত হয়।’ সুরা আল আরাফ, আয়াত ২০৪। শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াত করা। যথাযথ নিয়মে পড়া। অশুদ্ধতা পরিহার করা। এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি যাদের গ্রন্থ দান করেছি তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তার প্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১২১। কোরআন মুখস্থ করা। সব না পারলেও জায়গা-বিশেষ মুখস্থ করা। কোরআনে এ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে এটা (কোরআন) তো স্পষ্ট আয়াত। কেবল বেইনসাফরাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।’ সুরা আনকাবুত, আয়াত ৪৯।

কোরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। গবেষণা করা। তার গভীরতা অনুধাবনের চেষ্টা করা। এ বিষয়ে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানরা যেন তা অনুধাবন করে।’ সুরা সোয়াদ, আয়াত ২৯।




ওমরাহ এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা বাড়লো

আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওমরাহ এজেন্সিগুলোর তালিকা প্রকাশ ও লাইসেন্স নবায়নের জন্য সময়সীমা বর্ধিত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আমিনুর রহমান সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ নভেম্বর জারি করা ওমরাহ কার্যক্রমে এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ও নবায়ন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী বহাল রেখে সময়সীমা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।’

অন্যদিকে, এ বছর ওমরাহ পালনের জন্য প্রায় ১০ হাজার মুসল্লিকে অনুমতি দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। করোনা মহামারির কারণে গত ৭ মাস ধরে ওমরাহ বন্ধ থাকার পর এ অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এ অনুমতি দেওয়ার পেঁছনে কিছু নিয়ম-কানুন ও বেধে দেয় সৌদি সরকার।




বাবার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার রয়েছে

আমাদের দেশে সাধারণত বাবার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার দেওয়া হয় না। দিলেও অনেক কম দেওয়া হয়, যা একেবারেই নগণ্য। অথচ বাবার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১১ নম্বর আয়াত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহ বিশেষভাবে আদেশ দিচ্ছেন যে, দুই মেয়ের সমান অংশ এক ছেলে পাবে।…’ একজন মেয়ের জীবনে কোনো আর্থিক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। মেয়েদের আর্থিক খরচ জন্ম থেকে বিয়ে পর্যন্ত বাবার দায়িত্বে। বিয়ের দিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব খরচ স্বামীর দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসলামী আইন অনুযায়ী বিয়ের যাবতীয় খরচ বরের, কনের বাবার নয়। নারীর জীবনে কোনো অর্থনৈতিক দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও নারী তার স্বামী থেকে নগদ দেনমোহর পায়। বাবা মারা গেলে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়। স্বামী মারা গেলে তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয়। আপন ভাই মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতেও ওয়ারিশ হয়। নিজের ছেলে মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদেরও মালিক হয়। ইসলাম এসব অধিকার নারীকে দিয়েছে।

একজন নারী তার ব্যক্তিগত আয়, নিজের সম্পদ বা গচ্ছিত টাকা-পয়সা নিজের পরিবারের জন্য, স্বামীর জন্য বা সন্তানদের জন্য খরচ করতে বাধ্য নয়। অথচ একজন পুরুষ নিজের সব ধরনের আয় ও সম্পদ স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য ব্যয় করতে বাধ্য। তাই আল্লাহ নারীকে তার বাবার সম্পত্তিতে ভাইয়ের তুলনায় অর্ধেক অংশের মালিক বানিয়েছেন।
সুরা নিসার ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারের কোন সদস্য কত অংশ পাবে। সব সম্পত্তি সুন্দরভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে লক্ষণীয়, নারী যেমন তার বাবার রেখে যাওয়া জায়গা-জমিতে অংশ পাবে, তেমনি অস্থাবর সম্পত্তিতেও অংশ পাবে। যেমন বাবার রেখে যাওয়া নগদ টাকা-পয়সা, ঘরের আসবাবপত্র, দোকানের মাল, বিভিন্ন জিনিসেও অংশ পাবে। বাবার বাড়ির ভিটিতেও অংশ পাবে।

প্রিয় পাঠক! আমরা যারা নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ করি, জাকাত দিই তারাও মেয়ে ও বোনদের প্রতি এ জুলুম করি। তাদের ঠকাই। দেশের শিক্ষিত সমাজের বড় অংশও এ বড় অপরাধে লিপ্ত। বোনকে ঠকানোর জন্য যারপরনাই চেষ্টা করে। অনেক এলাকার মানুষ মনে করে মেয়েরা যদি বাবার বাড়ির সম্পদ আনে তাহলে তাদের জীবনে অশান্তি নেমে আসে। এসব ধারণা ভুল। এগুলো কুসংস্কার। ইসলাম নারীকে সম্মান দিয়েছে। ঘরে, সংসারে, সমাজে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। বাবার সম্পত্তিতেও অধিকার দিয়েছে। আমরা যেন নারীদের সে অধিকার প্রতিষ্ঠা করি। মহান আল্লাহ তৌফিক দান করুন।




করোনার মহামারীতে মুসলিমদের করণীয়

করোনাভাইরাসের এ মহামারী দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এ মহামারী আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পরীক্ষা। মহান আল্লাহ মাঝে-মধ্যে তাঁর বান্দাদের ভয়, মুসিবত ও বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। এ সময় মুমিনরা আক্ষেপ, বিচলিত আচরণ করবে না। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে বলেছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জানমাল ও ফল-ফলারির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর হে নবী! আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৫।

প্রথমত মনে রাখতে হবে, জমিনে যত ধরনের বিপদ ও সংকট দেখা দেয়, তার সবই মানুষের কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে; যার ফলে তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তিনি তাদের আস্বাদন করান, যাতে তারা (তাদের কৃতকর্ম থেকে) ফিরে আসে।’ সুরা রুম, আয়াত ৪১। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগের (মহামারী) প্রাদুর্ভাব ঘটে। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।’ ইবনে মাজাহ।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্লেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আল্লাহর নবী তাঁকে জানালেন, এটি হচ্ছে এক ধরনের শাস্তি। আল্লাহ যার ওপর তা পাঠাতে ইচ্ছা করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ মহামারীকে মুমিনের জন্য রহমত বানিয়েছেন। অতএব প্লেগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে এবং এ বিশ্বাস নিয়ে নিজ শহরে অবস্থান করতে থাকে যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারিত করে রেখেছেন, তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না, তাহলে সেই বান্দা শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।’ বুখারি। অতএব মহামারীতে ভয়ে বিহ্বল না হয়ে ধৈর্য ও আল্লাহর রহমত কামনার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা মুমিনের কর্তব্য।
মহামারীতে করণীয় : যে কোনো বিপদ-আপদে বান্দা তার পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে ও শেষ আশ্রয় হিসেবে তাঁরই দিকে ফিরে আসবে- এটাই মহান প্রতিপালকের প্রত্যাশা। আল কোরআনের একাধিক স্থানে বিপদে আল্লাহমুখী হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তাই মহামারীর সময় মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের গুনার জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আসুন, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। মাস্ক পরি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি। আল্লাহ এ মহামারী থেকে বিশ্ববাসীকে হিফাজতে সালামাতে রাখুন।