১৮৭ টাকায় সংসার চলে না, ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে ফটিকছড়িতে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ!

ঢাকা

শুক্রবার
২৮ আগষ্ট ২০২৬ ইং
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: তারারদেশ নিউজ |

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে দৈনিক ন্যূনতম ৫০০ টাকা মজুরি, ভূমির অধিকার ও নিয়মিত নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বারমাসিয়া চা বাগানের শ্রমিকরা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বারমাসিয়া চা বাগানের কালিতলায় চা শ্রমিকদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি অপু কূর্মীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে চা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা ও অধিকার নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা।

সমাবেশে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, চট্টগ্রাম ভ্যালী কমিটির সাবেক সভাপতি প্রদীপ দাশ, বাদল মুন্ডা, তপন কূর্মী, পরেশ মুন্ডা, সিন্ধু বালা কুর্মী, ললিতা কূর্মীসহ বিভিন্ন চা বাগানের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির খরচও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে চা শ্রমিকদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, চা শ্রমিকদের শ্রমে দেশের চা শিল্প এগিয়ে গেলেও শ্রমিকদের জীবনমান সেই তুলনায় উন্নত হয়নি। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় অবিলম্বে দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাগানগুলোতে নিয়মিত ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তা দূর করে চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ শেষে চা শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বারমাসিয়া চা বাগানের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

শ্রমিক নেতারা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।




ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে কঠোর দুই সিটি প্রশাসক 

ঢাকা,

১৮ জুলাই ২০২৬ ইং
০৩ শ্রাবন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,

বিশেষ প্রতিবেদন :

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকা। সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, বিকল হয়ে পড়া যানবাহন ভোগান্তির মাত্রা বাড়ায় কয়েকগুণ। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক বছরে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এরপরও সেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দুই প্রশাসক বলেছেন, নগর ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার অভাবে দীর্ঘদিন এ সমস্যার সমাধান হয়নি। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে দখলমুক্ত হয়নি নগরের খাল-জলাশয়। অথচ, অন্তত খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুললে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব; সে লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা।

গত রোববার (১২ জুলাই) ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পানির নিচে তলিয়ে যায় বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন, কোথাও বিকল হয়ে পড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন। রাজধানীর অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। এই জলাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহপথ হারিয়ে যাওয়া।

নগর পরিকল্পনাবিদেরা জানান, একসময় রাজধানীর অসংখ্য খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক নালা দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে না ওঠায় সেই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি কোন পথে নদী-খালে যাবে সে পথটিই যেন হারিয়ে গেছে! ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি আটকে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।

ঢাকার বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৫৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নগরীর বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার ১৭ দশমিক ৭ মিলিমিটার। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত ও দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সামান্য কমলেও বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত প্রকৃতি এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। একই সময়ে দুদিনে সর্বোচ্চ ৪৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৪৭ বছরে মাত্র তিনবার একদিনে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। অথচ ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাত্র ২৪ বছরে একই মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় তিনবার।

১৯৮৮ সালে ওই জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার ২৬টি খালের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসাকে দেয় সরকার। তারপরও নগরের খালগুলো ক্রমেই বেদখল হয়ে যায়। অনেক খাল ভরাট করে গড়ে ওঠে বহুতল ভবন। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে ২০২১ সালে ওই খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে ওয়াসা। কিন্তু এখন পর্যন্ত খালগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। ফলে বৃষ্টি হলে শহরের পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।

ফলে প্রতিবছর ধানমন্ডি ২৭, নিউ মার্কেট, বংশাল, শান্তিনগর এলাকাসহ দক্ষিণ সিটির শতাধিক স্থানে পানি জমে। এছাড়া একই কারণে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায়ও প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়।

গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা কি জলাবদ্ধতা নিসরনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেছে? করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।— নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব

গত রোববার ও সোমবারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আগে ঢাকার ভেতর অসংখ্য জলাশয় ছিল। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে একে একে তা দখল, ভরাট হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টির পানি যাওয়ার জায়গা নেই। আবার গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা কি জলাবদ্ধতা নিসরনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেছে? করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। তাই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ব্লু নেটওয়ার্ক তৈরির বিকল্প নেই।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির জলাবদ্ধতার হটস্পট
ডিএসসিসিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ। সম্প্রতি তারা ডিএসসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেট এলাকা, মোকাররম ভবনের সামনে, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ এলাকা, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, চানমারির মোড়, শান্তিবাগ, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক অন্যতম।

গত সপ্তাহের রোববার ও সোমবার টানা বৃষ্টিতে ওই ২৯টি হটস্পট ছাড়া আরও শতাধিক জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।

আজিমপুরের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই আজিমপুর-নিউ মার্কেট এলাকা ডুবে যায়। পানির পরিমাণ এতটাই বেশি থাকে যে নৌকা চলবে। তিনি বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। কিন্তু তা নিরসনে সিটি করপোরেশনকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

‘নিউমার্কেটের সামনে জলাবদ্ধতা যেন আমাদের নিয়তি’ গত ৬ জুন রাজধানীর এক হোটেলে ‘ঢাকা দক্ষিণের জলাবদ্ধতা: বাস্তবতা ও করণীয়’, শিরোনামে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসসিসি আয়োজিত ওই সেমিনারে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার কারণ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানায় ডিএসসিসি। কিন্তু তারপরও এ জলাবদ্ধতা নিরসে শুধু ড্রেন-নালা পরিষ্কার ছাড়া তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায়ও প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।

বর্ষাকালে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পুরোপুরি জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অধিকাংশ খাল-বিল ভরাট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ কমে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি সরাতে সময় লাগে।

গত রোববারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পরদিন ১৩ জুলাই বনানীসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় জলাবদ্ধতা। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহোলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয়
ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির হিসাব বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিবছর গড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে বাজেট ঘোষণা করে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। এ বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেসব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়, তার মধ্যে একটি জলাবদ্ধতা নিরসন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ এক দশকে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি নালা নির্মাণ ও সংস্কার, খাল পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যান্য কাজে ব্যয় করেছে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালের আগে ঢাকার ২৬টি খাল পরিষ্কার বা পানি প্রবাহ ঠিক করতে আরও শত শত কোটি টাকা খরচ করেছে ঢাকা ওয়াসা। এরপরও শেষ হয়নি জলাবদ্ধতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে নদী বা জলাশয়ে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো ক্যানেল বা ড্রেন। কিন্তু ঢাকার খালগুলো বহু আগেই দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুই দিনের ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা।

ঢাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে খাল ও জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম নালা যুক্ত করে সমন্বিত পানিনিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প নেওয়া হলে কোনো সুফল মিলবে না।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটিতে খাল রয়েছে ২৯টি। এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৫ কিলোমিটার। খোলা নালা-নর্দমা ও পাইপ-নালা মিলিয়ে রয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার। দক্ষিণ সিটিতে রয়েছে ২৬টি খাল এবং এক হাজার ৩০০ কিলোমিটারের বেশি নালা-নর্দমা। কিন্তু কাগজে খাল থাকলেও সেগুলোতে পানি প্রবাহ নেই। অধিকাংশ খালের জায়গা ভরাট করে বেদখল হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারে না।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির পানি প্রথমে সড়ক থেকে নালায়, পরে কালভার্ট ও খাল হয়ে ‘আউটলেট’ দিয়ে নদীতে যাওয়ার কথা। এই পথের কোনো একটি অংশ বন্ধ, সরু বা বিচ্ছিন্ন হলে পুরো ব্যবস্থার সক্ষমতা কমে যায়। এমন অবস্থায় কোথাও নালার মুখ বর্জ্য ও পলিতে বন্ধ, কোথাও কালভার্ট সরু, আবার কোথাও খালের সঙ্গে নালার সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পানি নদীতে যেতে পারে না। তখনই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নাগরিক দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, বর্ষাকালে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পুরোপুরি জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অধিকাংশ খাল-বিল ভরাট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ কমে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি সরাতে সময় লাগে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বৃষ্টির পানি নদীতে নামার পথ সীমিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেই পথ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি বছরে পুরো সুফল না-ও মিলতে পারে, তবে আগামী বছর পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের মতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বেদখল খালগুলো উদ্ধার না করা পর্যন্ত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দখলমুক্তকরণ ও পুনঃখননের কাজ অব্যাহত থাকবে। নগরকে বাসযোগ্য রাখতে খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।




চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাজেট: এনডিপি

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) বর্তমান সরকারের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা এবং মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থপাচার, লুটপাট এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটের মুখে পড়ে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই বর্তমান সরকার নতুন জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদ ও বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে বলে তারা মনে করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি কল্যাণমুখী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে বাজেট বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
এনডিপি নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। তারা সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের দেশের স্বার্থে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
খোন্দকার গোলাম মোর্তজা ও মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, “বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার রাজনীতি পরিহার করে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”
তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তি, ব্যবসায়ী সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাজেটের লক্ষ্যসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে আরও এগিয়ে যাবে।




নজরুল স্মৃতি পদক পেলেন লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি ও লেখক লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ‘নজরুল স্মৃতি পদক ২০২৬’ এ ভূষিত হয়েছেন। ১৩ জুন (শনিবার) বিকালে ঢাকাস্থ বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণার এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত। সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মাইন উদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পবিত্র কোরআন গবেষক সোসাইটির সভাপতি ড. এম মোশাররফ হোসেন এফসিএ, ঢাকা স্পেশালাইজড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একারামুল ইসলাম। নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব কবি মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-কে নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে গবেষণা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রবন্ধ, কবিতা ও ছড়া লিখে আসছেন। তাঁর রচিত প্রবন্ধ ও কবিতা ইতিমধ্যে যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জাতীয় কবিকে নিয়ে লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল এর গবেষণা ও গবেষণালব্ধ প্রবন্ধের জন্যে তাঁকে ‘নজরুল স্মৃতি পদক ২০২৬’ পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয় এবং নির্ধারিত উত্তরীয় তাঁকে পরিয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ৮০’র দশক থেকে জাতীয় সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ ও কলাম লিখে ইতিমধ্যে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছোটদের শিক্ষামূলক ছড়া ও গল্প, শুভ্রতা চলে গেছে নীড়ে, একটি কবিতা, ভালোবাসতে বাসতে, সিডর বিধ্বস্ত বকুলতলা, নীলজলে প্রেম, একটি বক্তৃতার পংক্তিমালা, নবম শ্রেণীর কৃষি শিক্ষা সহায়ক বই, কিছু কথা, কৃষি ডিপ্লোমা ভর্তি সহায়ক বই উল্লেখযোগ্য।
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ১৯৭১ সালের ৬ মে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ ইসমাইল হোসেন এর ঔরসে ও মহীয়সী নারী আয়েশা খাতুন এর গর্ভের গৌরবান্বিত সন্তান তিনি। তাঁর নিজ এলাকায় তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুলকলেজ, শিশু গণশিক্ষা কেন্দ্র, পাঠাগার প্রভৃতি জনহিতকর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাঁর পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত ইসমাইল হোসেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ফাউন্ডেশেনের মাধ্যমে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরে অসহায় মানুষকে সহায়তাসহ নানা ধরণের জনহিতকর কাজ করে আসছেন।
তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। সংবাদপত্র ও সংবাদকর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতায় তার রয়েছে বিশেষ অবদান। তিনি গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা, গাজীপুর প্রেসক্লাবের অন্যতম দাতা সদস্য, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাথে তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন। তিনি এই সংস্থার কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি, স্থায়ী পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন সময়ে প্রশংসার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নিরাপদ নিউজের যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ সংবাদ এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর যুগ্মমহাসচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন যাবত প্রশংসার সাথে স্বীয় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশ-এর সাথে প্রায় ২৬ বছর যাবত নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কবি সংসদ বাংলাদেশের স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে স্বীয় দায়িত্ব প্রশংসার সাথে পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশের স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি লেখক উন্নয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রদত্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেলভিন জোন ফেলো- এমজেএফ সম্মাননা পদক, ভিন্নমাত্রা লেখক সম্মাননা ২০২৫, কবিসংসদ বাংলাদেশ সম্মাননা পদক, আরজেএফ আজীবন সম্মাননা পদক, কবি শামসুর রাহমান স্মৃতি পদকসহ শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে দুই শতাধিক সম্মাননা পদকে ভূষিত হয়েছেন। শিক্ষা বিস্তারে তার রয়েছে বিশেষ অবদান। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের সহায়তায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি উক্ত পদকে ভূষিত হওয়ায় বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।




ঝিলমিল প্রকল্পে দ্রুত সময়ে বাড়ি করার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে – গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

ঢাকা, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১০ জুন, বিশেষ প্রতিনিধি: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, মানুষ যেন এক বছরের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পে বাড়ি ঘর করতে পারেন, সেই সুবিধা করে দিতে কাজ করা হচ্ছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আজ ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় রাজউক বাস্তবায়িত ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অনেক বছর এ প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি ছিল না। ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প অভ্যন্তরে থানা, স্কুল, হাসপাতাল ও ইটিপি সেন্টার নির্মাণের কাজ চলমান আছে। অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এই প্রকল্প এলাকা আলোকিত করার জন্য স্ট্রিট লাইট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী ঝিলমিল প্রকল্পে নির্মাণাধীন স্কুল, হাসপাতাল, থানা ভবন এলাকা ঘুরে দেখেন। প্রকল্পের সাইট অফিসে প্রকল্প পরিচালক মো: আমিনুর রহমান এই প্রকল্পের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। এ সময় ঝিলমিল সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মো: মোশারফ হোসেন সোসাইটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম ও রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।




জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

২৫ মে সোমবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে গ্লোবাল জার্নালিস্ট কাউন্সিল পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাংবাদিক খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান। পরে কাজী নজরুল ইসলাম এর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ আরো অনেকে।
উল্লেখ্য খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান- বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির দাবি পরিষদ, হত্যার বিচার দাবি পরিষদ, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি পরিষদ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবাসী সমর্থক গোষ্ঠী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকন উদ্দিন জামান স্মৃতি পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আঞ্জুমান আরা বেগম স্মৃতি পরিষদ, গ্লোবাল জার্নালিস্টস কাউন্সিল পরিষদ, খন্দকার রবি-উজ-জামান সিপার স্মৃতি পরিষদ, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, তারা নিউজ বিডি ডটকম, কে.এ.জে.আর.আর.আর ফাউন্ডেশন। অনলাইন পোর্টাল: সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান। ইউটিউব চ্যানেলসমূহ- Tara news bd tnb, ssjr tv, terana tv, khbd tv, mb bangla tv, blpptv, jjs tv, bmbp tv, abc tv, nnd tv, kjar tv,সংযুক্ত টিভি।

বার্তা প্রেরক
মোঃ আহাদ আলী




ট্রাফিককে ঢেলে সাজাতে পারলে সড়কে যানজট ও চাঁদাবাজিমুক্ত হবে ……….আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশন

১২ মে মঙ্গলবার, বেলা ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আযহার আগে যানজট নিরসনে ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের করণীয় শীর্ষক নাগরিক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হারুন-অর-রশিদ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, জিয়া সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, নবোদয় প্রি ক্যাডেট এন্ড হাই স্কুলের অধ্যক্ষমোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, যানজট ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে হলে পুলিশ বিভাগের শৃঙ্খলা আনতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশকে ঢেলে সাজাতে হবে। রাজনীতিবিদদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং পরিবহনে মাফিয়াদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা আরো বলেন, দেশের বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থায় যখন দক্ষ জনবলের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) এবং টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) পদমর্যাদার সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বৈষম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাহিনীর অন্যান্য পদে পদোন্নতির হার সন্তোষজনক হলেও ট্রাফিকের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি একেবারেই নগণ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪ হাজার এএসআই (নিরস্ত্র) শূন্য পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার পদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে এবং বাকি ২ হাজার পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে আরও ৪ হাজার এসআই সরাসরি নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২৪-২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুলিশের বিভিন্ন শাখায় পদোন্নতির হার ছিল চোখে পড়ার মতো। কনস্টেবল বা নায়েক থেকে এএসআই (নিরস্ত্র) এবং নায়েক থেকে এএসআই (সশস্ত্র) পদে প্রায় শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাফিক বিভাগে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো।
তথ্যমতে, এটিএসআই পদে ৫৫৯ জন এবং টিএসআই পদে ৬০ জন সদস্য বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক সদস্য উত্তীর্ণ হলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র ৩০ জন এটিএসআই এবং ৫ জন টিএসআই-কে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট উত্তীর্ণ পদের তুলনায় অতি সামান্য। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থাকায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অসন্তোষ বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এটিএসআই জানান, “সব বিভাগে শতভাগ পদোন্নতি হলেও আমাদের কেন বঞ্চিত রাখা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। আমরা দিনরাত রাজপথে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করি, অথচ প্রাপ্য সম্মান ও পদোন্নতি থেকে আমরা পিছিয়ে আছি।”
বক্তারা আরো বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দক্ষ জনবল যেমন প্রয়োজন, তেমনি কর্মরতদের কাজের স্পৃহা বজায় রাখতে সময়মতো পদোন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। এই বৈষম্য দূর করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে ট্রাফিক বিভাগ দক্ষ নেতৃত্ব সংকটে পড়তে পারে।




শ্রমজীবী পেশাজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে- বাংলাদেশ সংযুক্ত ফেডারেশন

আজ সকাল ৯.৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন ও অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ট্রেড ফেডারেশন এর যৌথ আয়োজনে এক বিশাল শ্রমিক র‌্যালি বিজয়নগর কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পল্টন জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে বিজয়নগর কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে এসে বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মোসাদেক হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, আইন শালিশী বিষয়ক সম্পাদক সামসুল আলম জুলফিকার, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সংযুক্ত নির্মাণ ও কাঠ শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল ইবনে কবির, বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মজিবর রহমান, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মো: নূরে আলম, বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ বাহিনী কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাহী চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ রেল পোষ্য   সোসাইটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, সংযুক্ত মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী শেফালী হোসেন  প্রমুখ,  সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মোস্তফা।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন অবিলম্বে ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ৩০ হাজার টাকা, পুলিশের ন্যায় সকল শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, আট ঘন্টা কর্ম দিবস বাস্তবায়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করণ, তাজরীন, রানা প্লাজার শ্রমিকদের স্থায়ী পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ, বন্ধ কলকারখানা চালু, গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন কর্মচারীদের ১৯ ও ২০ গ্রেডে উন্নীতকরণ, পরিবহন, পাদুকা, ঔষধ, স্টিল মিল সহ সকল খাতের শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।




নবম পে-স্কেল গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান

বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল এর গেজেট প্রকাশের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ৯ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে দ্রুত নবম পে-স্কেল এর গেজেট প্রকাশের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, দেশের বাজার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নবম পে-স্কেল ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রজাতন্ত্রের কাজের চাকা সচল রাখতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের এই যৌক্তিক দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা দেবেন।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ৫ দফা নিম্নরূপ:
১। দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত সাধারণত প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে।
২। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই তুলনায় নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।
৩। সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
৪। প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি যদি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহ্য ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
৫। সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




শাহবাগে ঐতিহাসিক বাংলা অভিযান উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও শরবত বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক বাংলা অভিযান ও ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয় উপলক্ষে আজ শাহবাগের হাদী চত্বরে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল ও শরবত বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওয়ার্ল্ড মুসলিম মুহাজির রাইটস-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড মুসলিম মুহাজির রাইটস-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ। তিনি বলেন, “১২০৪ সালের ২৬শে মার্চ বখতিয়ার খিলজীর হাত ধরে বাংলায় যে বিজয় এসেছিল, তা কেবল মুসলমানদের বিজয় ছিল না; বরং তা ছিল তৎকালীন বর্ণবাদী ও অত্যাচারী শাসন থেকে সাধারণ হিন্দু ও বৌদ্ধদের মুক্তির দিন। বখতিয়ার খিলজী বাংলায় এসে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ইনসাফ ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির প্রেসিডেন্ট মোঃ আব্দুল জব্বার তিনি তাঁর বক্তব্যে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজীকে ‘ইনসাফের অগ্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “ভারতবর্ষে বখতিয়ার খিলজীই প্রথম প্রকৃত ইনসাফ কায়েম করেছিলেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলা তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর জুলুম বন্ধ করেছিলেন এবং হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁর সেই ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।”
মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার আরও বলেন, “বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে মাত্র ১৭ জন বীর সেনানী যেভাবে এক বিশাল সাম্রাজ্য জয় করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই ইনসাফের আদর্শকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা।”
অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয় এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে শরবত বিতরণ করা হয়।