শিশু ধর্ষনের অভিযোগে কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতা আটক

ঢাকা

রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের লতিবাবাদ ইউনিয়ন থেকে ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার ও জামায়াত নেতা নজরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। একটি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

​ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ ওঠার পর নজরুল ইসলাম এলাকা থেকে পালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেন। পরে স্থানীয় যুবকরা তাকে জঙ্গল থেকে খুঁজে বের করে ধরে নিয়ে আসে। পথিমধ্যে কয়েকজন বাধা প্রদান ও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মোড়ে নিয়ে এসে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

​আটককৃত নজরুল ইসলাম লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ও জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত।

​এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




হাসপাতালে মজুত স্যালাইন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, রোগীর কেনা স্যালাইনের টাকা ফেরত

ঢাকা

রবিবার

২৩ আগস্ট ২০২৬ ইং

৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট | তারারদেশ নিউজ:

 

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীকে হাসপাতালের মজুত থাকা স্যালাইন না দেওয়ার ঘটনা দেখতে পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নার্সের পরামর্শে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হওয়া এক রোগীর সেই খরচ নিজে পরিশোধ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

 

মজুত থাকা স্যালাইন বাইরে থেকে কেনানোর অভিযোগ

 

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর নজরে আসে, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে তা দেওয়া হয়নি। নার্সের পরামর্শে রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হয়।

 

ঘটনাটি জানার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীর কাছ থেকে স্যালাইন কেনার টাকা জেনে সেই অর্থ নিজেই পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে বিনা মূল্যে সরবরাহযোগ্য স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

চিকিৎসকের দেরিতেও ব্যবস্থা

 

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় একজন চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে কর্মস্থলে আসেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনে এমন অবহেলার অভিযোগে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে রোগীদের কাছ থেকে হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার বিষয়ে বেশির ভাগ প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক ছিল বলে জানান তিনি।

 

২৫০ শয্যার হাসপাতালে খাবার বরাদ্দ ১০০ শয্যার

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে খাবারের বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ শয্যার বিপরীতে। এই অসামঞ্জস্য দূর করতে খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

প্রতি রোগীর জন্য খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে রোগীদের খাবারের মানও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।

 

৯ হাজার ৫০০ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ

 

স্বাস্থ্য খাতে জনবলসংকট মোকাবিলায় বড় পরিসরে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ নার্স এবং ২ হাজার ৫০০ ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবলও এই নিয়োগের আওতায় থাকবে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো এবং রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

 

জেলা পর্যায়ে বাড়বে ডায়ালাইসিস সুবিধা

 

কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে জেলা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস বেড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে এই সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ৬০টি মেশিন তিন শিফটে পরিচালিত হলে প্রতিদিন প্রায় ১৮০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা পেতে পারেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫১ শয্যার

 

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় প্রসূতিদের জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি বিশেষ শয্যা থাকবে। পাশাপাশি নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড, আধুনিক আলট্রাসাউন্ড ও উন্নত প্যাথলজি ল্যাবসহ নয়তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবার মান ও পরিধি বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

 

তারারদেশ নিউজ




মুলাদী উপজেলা সমিতি ঢাকা’র কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৫ জুন সোমবার সন্ধ্যায় রমনা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে মুলাদী উপজেলা সমিতি ঢাকা’র কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাসির উদ্দিন বেপারী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লার সঞ্চালনায় সংগঠনের সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নতুন কমিটি গঠন বিষয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক ও পূর্বের ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন অনুযায়ী উপ-কমিটি গঠন করে সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সাথে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাতের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা সমিতি ঢাকা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আগস্ট অভূত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সমিতির কার্যক্রম কিছুটা স্থবির থাকলেও আগামী দিনে আবার যথাযথভাবে কার্যক্রম চলমান থাকবে সেই ধারাবাহিকতায় এই কার্যনির্বাহী কমিটির সভাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমিতির সদস্য এডভোকেট মোঃ ইউনুস আলী রবি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নী জেনারেল নিযুক্ত হওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।




বরগুনা জেলা আরজেএফ’র কমিটি অনুমোদন

রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর বরগুনা জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত ০৫ মে আরজেএফ’র গঠনতন্ত্রের ১০ (ক) ধারা মোতাবেক পরীক্ষামূলকভাবে দুই বছরের জন্য এ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে ঢাকা প্রতিদিনের সাইফুল ইসলাম রাফিল সভাপতি, বিপ্লবী জনতার ইসহাক (জুয়েল) সহ সভাপতি, দি ডেইলি বাংলাদেশ টুডে’র মোঃ জহিরুল হক সাধারণ সম্পাদক, দেশ প্রতিদিনের মোঃ শাহাদাত হোসেন যুগ্ম সম্পাদক, গণমানুষের আওয়াজ’র নাসির উদ্দিন মিলন অর্থ সম্পাদক, বাংলাদেশ সমাচার’র মোঃ ইলিয়াস প্রচার সম্পাদক, বিপ্লবী জনতার মোঃ রেদওয়ান সাংগঠনিক সম্পাদক, আগামী নিউজডটকম’র মোঃ আরিফ বিল্লাহ, বরিশাল সময়ের মোঃ মিজানুর রহমান কার্যকরী সদস্য মনোনীত হয়েছেন।

বরগুনা জেলা আরজেএফ গঠনতন্ত্র মোতাবেক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতিক্রমে সাংবাদিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে কর্মসূচি পালন করবেন।




বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি মূলত আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজব- আমীর, ইসলামী সমাজ

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে রাজনীতির নামে মানুষে মানুষে প্রতিহিংযার আগুন জ্বলছে। ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মানুষ দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে জড়িয়ে মহা বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরান ও ফিলিস্তিনের সাথে ইজরাইল ও আমেরিকার সংঘর্ষের কারণে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের মানুষ চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জালানি সংকট, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মানুষ হত্যাসহ মানবতা বিরোধী অপরাধের মাত্রা চরম আকার ধারন করেছে। মানুষ মানবতা, মনুষত্ব হারিয়ে হিংস্রতা ও পশুত্বের অতল গহ্বরে নিজজ্জিত হয়ে আছে। মানুষের সার্বভৌমত্ব এবং আলকুরআন বিরোধী সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সমস্যার মূল সমস্যা এ কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মানুষকে মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্যের অধীনে বন্দি করে মহান রবের সাথে শিরক ও কুফরে নিমজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, কুফর এবং শির্ক করার কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজবের অংশ হিসেবেই বিশ্বব্যাপী মানুষে মানুষে সংঘাত ও সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সহকারী দায়িত্বশীল আবু জাফর মোহাম্মাদ সালেহ’র সঞ্চালনায় আজ ৭ এপ্রিল ২০২৬ইং, মঙ্গলবার, সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত ও সংঘর্ষের কারণ, এ থেকে উত্তরণের উপায় এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণার লক্ষ্যে” অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছরে বিভিন্ন সময়ে যারাই ক্ষমতায় এসেছেন তারা সকলেই আল কুরআন বিরোধী মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্র দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনা করেছে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারাও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল কুরআন বিরোধী সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশে রাজনীতির নামে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং মানুষের জীবনে নৈরাজ্য চলছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের চলমান সকল সংকট থেকে বাঁচতে হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের মূলোৎপাটন করে সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট-নির্বাচন কিংবা সশ্রস্ত্র লড়াই ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর নির্দেশিত এবং রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতি নয়। ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে দাওয়াত কবুলকারীদের নিয়ে আমীরের নেতৃত্বে ‘ইসলামী সমাজ’ গঠন আন্দোলন’ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আলকুরআন ও সুন্নাৎসম্মত একমাত্র পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতেই ‘ইসলামী সমাজ’ আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীন থেকে দেশ ও জাতির মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে সকল প্রকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে- এপ্রিল ও মে ২০২৬ইং ২ মাসব্যাপী শান্তিপূর্ণ ৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
(১) দেশব্যাপী টিম ভিত্তিক গণসংযোগ, পথসভা, প্রচারপত্র বিলি ও মিছিল করা হবে।
(২) আগামী ২৫ এপ্রিল ২০২৬ইং, শনিবার বিকাল ৩ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত, শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনের রাস্তায় “শান্তিপূর্ণ অবস্থান” করা হবে।
(৩) ৫ মে ২০২৬ইং সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় সমাবেশ শেষে ‘ইসলামী সমাজ’ গঠিত বিশেষ টিম সংগঠনের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর সাহেব প্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি প্রথমে রাষ্ট্রপতি বরাবর বঙ্গভবনে, তারপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অতঃপর স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতা এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বরাবর প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল-১ এর দায়িত্বশীল, জনাব মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা ও সিলেট বিভাগ এর দায়িত্বশীল জনাব মোঃ নুরুদ্দিন।




ঈদ পারস্পরিক সৌহার্দ্যতা ও ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে ……লায়ন গনি মিয়া বাবুল

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব বিশিষ্ট সংগঠক লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বলেছেন, ঈদ সমাজে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যতা ও ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই ঈদের তাৎপর্যতা বহন করে। সমাজে মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে ঈদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র রমজানে একমাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিবসে ঈদ উল ফিতর সকলের জন্যে রহমত ও মাগফিরাত নিয়ে আসে।
২১ মার্চ শনিবার গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে টেপিরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজের পূর্বে সমাবেত মুসুল্লিদের উপস্থিতিতে তিনি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সকলকে ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলা উচিৎ। ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সুবিধা বঞ্চিতদের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্যে তিনি আহবান জানান। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন।




মওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই গণভোটকে হ্যাঁ বলতে হবে। —-শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

২২ জানুয়ারি ২০২৬ ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৫৪ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় এবং চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডক্টর মাহবুব উল্লাহ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন সম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি রাজনীতির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের ক্ষমতা রাখতেন, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি নেতাদের নেতা ছিলেন।নিজে কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেননি কিন্তু ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী জাফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া সহ যাদেরকে নেতা বানিয়েছিলেন তাদের অনেকই বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করেছেন। মওলানার মৃত্যুর ৪৯ বছরেও মওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। তিনি বলেন রাজনীতিবিদদের উচিত মওলানার জীবন এবং দর্শনকে ভালোভাবে স্টাডি করা,যুবসমাজের মাঝে মাওলানা ভাসানীর আদর্শ এবং চিন্তা চেতনাকে উপস্থাপন করা।মাওলানা ভাসানী যুদ্ধকালীন সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ৮সেপ্টেম্বর১৯৭১ সালে ভারতে উপদেষ্টা পরিষদের মিটিং হয়। সেই মিটিংএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মওলানা ভাসানী বিভিন্ন রাষ্ট প্রধানের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি চেয়ে পত্র লেখেন।ভাসানীকে ইন্ডিয়া সরকার গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন। তিনি মুক্ত অবস্থায় থাকলে বাংলাদের রাজনীতির ইতিহাস অন্যরকম হোত। তিনি সবাইকে মাওলানা ভাসানীর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট এড. নজমুল হক নান্নু বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান, তার চিন্তা দর্শন কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র, তার সাথে অন্য কারো তুলনা চলে না। তিনি নিজেই নিজের তুলনা। মওলানা ভাসানী গ্রামের মানুষের বিশেষ করে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য জীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন বিলাসিতা কখনো তাকে স্পর্শ করেনি তিনি ছিলেন অত্যন্ত আতিথিয়পরায়ণ টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার কুড়ে ঘরে দেশি এবং বিদেশি অতিথিরা হাজির হতো, সবাইকে তিনি স্বাভাবিক রান্নাবান্না করা খাবার দিয়েই আতিথিয়তা করতেন।স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের তিনি প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। সে সময় তিনিই একমাত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন যাকে সমগ্র বিশ্বের নেতৃবৃন্দ চিনতেন। মাওলানা ভাসানীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানদের কাছে পত্র পাঠাতে হয়েছে এবং সমর্থন চাইতে হয়েছে।ইন্ডিয়া সরকারের নিকট গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে ২২ শে জানুয়ারী দেশে ফিরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন মাওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন মাওলানা ভাসানী। মাওলানা ভাসানীর হাতেগড়া নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা ভাসানী যথাযোগ্য মর্যদা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন স্বাধীনতার ৫৪বছর পরেও আমরা মাওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়তে পারিনি। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরী এবং স্বাক্ষর করেছি, আগামী নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতেই হবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে মওলানা ভাসানীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে তার আদর্শ ধারন করতে হবে।
কারো বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, ভাসানী জনশক্তি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান তপন, রিকশা ভ্যান শ্রমিক পার্টির সভাপতি রতন দেওয়ান,ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির সদস্য সচিব শাহানা বেগম, বংশাল থানা সভাপতি ইমরুল হাসান ওয়াসিম প্রমুখ ।




“ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিনের মৃত্যুতে বিআরজেএ’র শোক”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই সহকর্মীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বিআরজেএ)-এর চেয়ারম্যান ও মহাসচিব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী ও মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক যৌথ শোক বিবৃতিতে বলেন, জসিম উদ্দিন ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও পেশাদার সাংবাদিক। সাংবাদিকতা অঙ্গনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




নাজিরপুরে চাঁদা না পেয়ে কৃষি উদ্যোক্তার স্ত্রী-কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন, স্বর্ণালংকার লুট

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে এক কৃষি উদ্যোক্তার কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) বিকেলে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট কৃষি উদ্যোক্তা হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মৎস্য ঘের ও কৃষি খামার পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত মামুন ডাকুয়া এবং তাঁর সহযোগীরা বেশ কিছুদিন ধরে ওই ঘের ও খামার নির্বিঘ্নে চালাতে হলে অলিউল্লাহর কাছে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মামুন ডাকুয়া তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
গত ১২ জানুয়ারি অলিউল্লাহ ডাকুয়া তাঁর লিজ নেওয়া ঘেরের নারিকেল ও ডাব ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেন। ডাবগুলো দেখানোর জন্য তাঁর কন্যা তানজিলা খাতুন ব্যাপারীদের নিয়ে ঘেরের কাছে যান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ডাকুয়ার নেতৃত্বে মন্টু ডাকুয়া, নজরুল ইসলাম ডাকুয়া, হেলাল ডাকুয়াসহ ৮-৯ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ডাব পাড়তে বাধা দেয়।
এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তানজিলা খাতুনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। সন্ত্রাসীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাঁর পরনে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
কন্যার চিৎকার শুনে মা তাসলিমা বেগম তাঁকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপরও হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠির আঘাতে তাসলিমা বেগমকে গুরুতর জখম করা হয়। সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনে মা ও মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে কালশিটে দাগ ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজিরপুর থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে গরিমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।




সমন্বিত চাষে পিরোজপুরে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার কৃষি বিপ্লব

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর কলারদোয়ানিয়ার কৃষিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছেন হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া। প্রচলিত কৃষির ধারণা বদলে দিয়ে একই জমিতে বহুমুখী চাষাবাদ বা ‘সমন্বিত কৃষি প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে তিনি এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি লাভ করেছেন জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।
হাফেজ ওয়ালিউল্লাহর এই কৃষি বিপ্লবের মূল চাবিকাঠি হলো জমির সঠিক ও বহুমুখী ব্যবহার। তিনি তাঁর জমিতে কোনো অংশই ফেলে রাখেননি। তাঁর খামারে দেখা যায় এক নান্দনিক দৃশ্য: আইলে সবজি: ধানের জমির চারপাশের উঁচু আইল বা পাড়ে চাষ করছেন লাল শাক, পালং শাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি। জলাধারে মৎস্যচাষ: জমির মাঝখানে বা পাশে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা ড্রেন ও ছোট জলাশয়ে চলছে মাছ চাষ।
স্থানীয়রা জানান, হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই পদ্ধতি অত্যন্ত লাভজনক। ধানের জমিতে মাছের বিচরণ থাকায় পোকা-মাকড় দমন হচ্ছে প্রাকৃতিক উপায়ে, আর মাছের বর্জ্য ধানের জমিতে জৈব সার হিসেবে কাজ করছে। ফলে একদিকে যেমন সারের খরচ কমছে, অন্যদিকে বিষমুক্ত সবজি ও মাছ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার বলেন, “পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মাটি থেকে সোনা ফলানো সম্ভব। আমি চেয়েছিলাম অল্প জায়গায় কীভাবে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যায়। আজ যখন জাতীয়ভাবে বিভিন্ন পুরস্কৃত হয়েছি, তখন মনে হচ্ছে আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।”
হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই বহুমুখী চাষাবাদ দেখে এলাকার বেকার যুবক ও সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর খামার দেখতে আসছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় পর্যায়ে এই অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গ্লোবাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন কর্তৃক গ্লোবাল জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড, শেরে বাংলা সাংস্কৃতিক জোট থেকে শেরে বাংলা স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা থেকে মানবাধিকার অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক ট্রাব অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। অত্যন্ত ধার্মিক হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া ছারছিনা দরবার শরীফের মুরিদ ও খাদেম। ছারছিনা দরবার শরীফের প্রতিটি মাহফিলে তিনি উপস্থিত থেকে কাজ করেন। মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (রহঃ) এর ভক্ত হাফেজ অলিউল্লাহ তার প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকতেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক হিসেবে অনেক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদির পক্ষে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, গ্লোবাল জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট্স এন্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।