সমন্বিত চাষে পিরোজপুরে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার কৃষি বিপ্লব

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর কলারদোয়ানিয়ার কৃষিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছেন হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া। প্রচলিত কৃষির ধারণা বদলে দিয়ে একই জমিতে বহুমুখী চাষাবাদ বা ‘সমন্বিত কৃষি প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে তিনি এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি লাভ করেছেন জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।
হাফেজ ওয়ালিউল্লাহর এই কৃষি বিপ্লবের মূল চাবিকাঠি হলো জমির সঠিক ও বহুমুখী ব্যবহার। তিনি তাঁর জমিতে কোনো অংশই ফেলে রাখেননি। তাঁর খামারে দেখা যায় এক নান্দনিক দৃশ্য: আইলে সবজি: ধানের জমির চারপাশের উঁচু আইল বা পাড়ে চাষ করছেন লাল শাক, পালং শাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাক-সবজি। জলাধারে মৎস্যচাষ: জমির মাঝখানে বা পাশে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা ড্রেন ও ছোট জলাশয়ে চলছে মাছ চাষ।
স্থানীয়রা জানান, হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই পদ্ধতি অত্যন্ত লাভজনক। ধানের জমিতে মাছের বিচরণ থাকায় পোকা-মাকড় দমন হচ্ছে প্রাকৃতিক উপায়ে, আর মাছের বর্জ্য ধানের জমিতে জৈব সার হিসেবে কাজ করছে। ফলে একদিকে যেমন সারের খরচ কমছে, অন্যদিকে বিষমুক্ত সবজি ও মাছ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার বলেন, “পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মাটি থেকে সোনা ফলানো সম্ভব। আমি চেয়েছিলাম অল্প জায়গায় কীভাবে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যায়। আজ যখন জাতীয়ভাবে বিভিন্ন পুরস্কৃত হয়েছি, তখন মনে হচ্ছে আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।”
হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই বহুমুখী চাষাবাদ দেখে এলাকার বেকার যুবক ও সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর খামার দেখতে আসছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অলিউল্লাহ ডাকুয়ার এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় পর্যায়ে এই অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গ্লোবাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন কর্তৃক গ্লোবাল জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড, শেরে বাংলা সাংস্কৃতিক জোট থেকে শেরে বাংলা স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা থেকে মানবাধিকার অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক ট্রাব অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। অত্যন্ত ধার্মিক হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া ছারছিনা দরবার শরীফের মুরিদ ও খাদেম। ছারছিনা দরবার শরীফের প্রতিটি মাহফিলে তিনি উপস্থিত থেকে কাজ করেন। মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (রহঃ) এর ভক্ত হাফেজ অলিউল্লাহ তার প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকতেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সমর্থক হিসেবে অনেক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদির পক্ষে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, গ্লোবাল জার্নালিস্ট এন্ড কালচারাল এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট্স এন্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।




সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ স্মৃতি সম্মাননা পেলেন মঞ্জুর হোসেন ঈসা

সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির সহযোগিতায় ১১ জানুয়ারি বিকেলে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের ভিআইপি লাউঞ্জে উপ-মহাদেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, বাংলাদেশের আইন শাসনের প্রতিষ্ঠাতা, মানবাধিকার আন্দোলনের রূপকার প্রয়াত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ এর ১১২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে “সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ এর কর্মময় জীবন” শীর্ষক আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও গুণীজন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন এইচ এম ইব্রাহিম ভূইয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক তথ্য সচিব এবং সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের সুযোগ্য সন্তান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক ও প্রকাশক কবি অশোক ধর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম (সাবেক ভিপি), ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, বাংলাটিভি৭১ এর চেয়ারম্যান লায়ন সালাম মাহমুদ, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মানবাধিকার নেতা মনিরুল ইসলাম মনির, জাবেদ আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শফিক উদ্দিন অপু। মানবাধিকারে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসাকে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ স্মৃতি সম্মাননা প্রদান করেন। এছাড়াও সামাজিক আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য মোঃ শহিদুল ইসলাম (ভিপি) সহ ৫ জনকে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ এর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয় এবং এসময় পালকি শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা এবিএম বাদল এবং সাংবাদিক হান্নানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

বনানী কবরস্থানে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

সকালে বনানী কবরস্থানে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের ১১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআনখানী ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয় এবং কবরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মাহবুব মোর্শেদের জ্যেষ্ঠপুত্র সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, ছোট ছেলে ড. সৈয়দ মাখদুন মাহবুব, কাজী সালাউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম মন্টু, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার প্রমুখ।




এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন

মোঃ মামুন:
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ‍্যাসের (এলপিজি) চলমান সংকটে ভুগছে গাড়িতে এলপিজি সরবরাহকারী গ‍্যাসস্টেশনগুলো। তারা বলছে, এক হাজার অটোগ‍্যাস স্টেশন থেকে গাড়িতে এলপিজি সরবরাহ করা হয়। মাসে তাদের চাহিদা ১৫ হাজার টন। নিয়মিত এলপিজি পাচ্ছে না তারা। এতে অনেক স্টেশনের ব‍্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে। ১০ ই জানুয়ারী ২০২৬ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ‘এলপিজি–সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শিরোনামে লিখিত বক্তব‍্য পাঠ করা হয় এতে। সংগঠনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব‍্যে বলা হয়, দেশের চলমান এলপিজি–সংকট এখন আর শুধু একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক সমস্যা নয়। এটি সরাসরি সারা দেশের পরিবহনব্যবস্থা, ভোক্তাস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেড় লাখের বেশি এলপিজিচালিত যানবাহনের ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকেরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না। সংগঠনটি বলছে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহৃত হয় দেশে। এর মধ্যে যানবাহন খাতে মাত্র ১০ শতাংশ এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রতি মাসে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে অনুরোধ করে তারা। এ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাসশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেরা চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে রয়েছেন। দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সংকট সমাধানে তাঁরা সরকারের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ‍্যে আছে অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ।




NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ, সামাজিক অবক্ষয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ মামুন:
NEIR সিস্টেমের মাধ্যমে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ, সামাজিক অবক্ষয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির প্রতিবাদে ৮ই জানুয়ারী ২০২৬, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মোবাইল ব্যবসায়ী ও সচেতন ভোক্তা সমাজ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান সোহেল, আবু সাঈদ, বাবু (চট্টগ্রাম), খন্দকার আক্তার হামিদ পবন, মোঃ গোলাম মাহফুজ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খন্দকার আক্তার হামিদ পবন। তিনি বলেন, আমরা এখানে সমবেত হয়েছি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে। সরকার NEIR সিস্টেম চালু করার যে তোড়জোড় করছে, তা কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের পেটে লাথি মারা এবং দেশের অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় কিছু কর্পোরেট দালালের হাতে তুলে দেওয়ার এক নীল নকশা । ১. সামাজিক অবক্ষয় ও কর্মসংস্থানের সংকট: সরকার কি ভেবে দেখেছে, এই সিস্টেম চালু হলে এই খাতের সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষ যখন রাতারাতি বেকার হয়ে পড়বে, তখন তাদের ভবিষ্যৎ কী? বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের তীব্র সংকটের এই সময়ে, এই দক্ষ জনশক্তি যখন কর্মহীন হয়ে পড়বে, তখন তাদের অপরাধের পথে পা বাড়ানো থেকে কে রক্ষা করবে? এই খাতের কর্মীরা যখন ঋঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়বে, তখন তারা চুরি, ডাকাতি বা মাদকের মতো পথে পা বাড়াবে না—তার গ্যারান্টি কি সরকার দেবে? বেকারত্বের অভিশাপে আমাদের মা-বোনরা যখন অনৈতিক বা সামাজিক অবক্ষয়মূলক কাজে বাধ্য হবে, সেই দায়ভার কি নীতিনির্ধারকরা নেবেন? সামাজিক বিশ্লেষকরা কি সরকারকে এই ভয়াবহ পরিণতির কথা জানাননি? ২. অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও ঋণের বোঝা : মোবাইল ব্যবসায়ী কমিউনিটির ওপর আজ ঋণের পাহাড়। অনেক উদ্যোক্তা এনজিও থেকে লোন নিয়েছেন, কেউ কিস্তিতে ঘর সাজিয়েছেন, কেউ বা বোনের গয়না বন্ধক রেখে ব্যবসায় পুঁজি দিয়েছেন। অনেকে মাসিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে স্বজনদের বিদেশে পাঠিয়েছেন ঋণের টাকায়। NEIR বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে এই মানুষগুলো যখন ঋণের দায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে, তার দায়ভার কে নেবে? অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ ছাড়াই কেন এমন একটি আত্মঘাতী নীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকারের মূল দায়িত্ব জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়া। আজ আমরা আমাদের লক্ষ লক্ষ পরিবারের সেই জান-মালের গ্যারান্টি চাই। ৩. কর্পোরেট মনোপলি ও গোপন অর্থায়ন : গুটিকয়েক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের অতি মুনাফার লোভে এই অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন—এই প্রফিটের টাকা কি কেবল তাদের পকেটেই যাচ্ছে, নাকি এর পেছনে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর কাছে অর্থায়নের কোনো গোপন আঁতাত রয়েছে? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। ৫. ডি-রেজিস্ট্রেশন এবং চোরাই ফোনের সিন্ডিকেট : ডি-রেজিস্ট্রেশন একটি চরম জটিল প্রক্রিয়া। এর ফলে সাধারণ ভোক্তা যদি ফোন হারায় বা চুরি যায়, তবে সে আর কখনোই তা ফিরে পাবে না। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে—এই নীতির পেছনের কুশীলবরা কি বাংলাদেশ থেকে চোরাই ফোন অন্য দেশে পাচারের কোনো বড় আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত? আমরা এর স্বচ্ছ তদন্ত চাই। ৫. অযৌক্তিক প্রযুক্তিগত অজুহাত : বর্তমানে বাংলাদেশে সিম কার্ড এবং আইএমইআই (IMEI) ডাটা সরকারের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে যায়। এই প্রযুক্তি বহু বছর ধরে চালু আছে। তাহলে নতুন করে এই জটিল এবং জনভোগান্তিমূলক NEIR নীতির প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এটি কি কেবল জনরোষ সৃষ্টির একটি ষড়যন্ত্র? প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আমরা নির্যাতিত, আমরা প্রতারিত। এই প্রতারণা কেবল ব্যবসায়ীদের সাথে নয়, পুরো জাতির সাথে করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে ছাত্র সমাজ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ ভোক্তারা আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের শহীদ ওসমান খাতি ভাইয়ের সেই ঐতিহাসিক বাণী মনে করিয়ে দিতে চাই: “এখন আর প্রতিবাদ নয়, এখন থেকে হবে শুধু প্রতিরোধ।” যদি অনতিবিলম্বে এই দেশবিরোধী ও জনবিরোধী NEIR সিস্টেম বাতিল করা না হয়, তবে আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে এমন কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবো, যার পরিনাম শুভ হবে না।




সিন্ডিকেটের কবলে কুয়েতের ভিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেট মাষ্টার আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে প্রতিযোগীতা কমিশন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে কাজের ভিসা (শ্রমিক ভিসা) প্রসেসিংয়ে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অন্তত ৭ গুন বেশি টাকা আদায় ও গ্রুপ টিকিট মজুদ করে উচ্চ মূল্যে তা বিক্রির অভিযোগে এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে সরকারি সংস্থাটি। ওই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে বক্তব্য দিতে আগামি বৃহস্পতিবার তাকে প্রতিযোগীতা কমিশনে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্র জানায়, আব্দুস সালাম আরেফ সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে কুয়েতে কাজের ভিসা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কয়েক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে ওই সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তথ্যানুসারে, কুয়েত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। তবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বলছে, মাত্র ১৪ থেকে ১৫ রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেট করে দেশটির ভিসা প্রসেসিং করে আসছে। যদিও দেশে প্রায় দুই হাজার ৯শ’ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং ফি মাত্র পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। তবে সিন্ডিকেট নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছে। এভাবে গত ৮ বছরে তারা শত শত কোটি টাকা হাতিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী কাজের ভিসা নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছেন। সিন্ডিকেট নির্ধারিত ভিসা ফি’র বাইরে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে। আরেফ মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেড এয়ার স্পীড প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন এসোসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) এর সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। সর্বশেষ সংগঠনটির সভাপতিও হন। যদিও অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে সরকার আরেফের নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক বসিয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আটাবের শীর্ষ পদ ব্যবহার করে আরেফ সিন্ডিকেট কুয়েতের ভিসা প্রসেসিংয়ের নিয়ন্ত্রন নেন। এরপর ৫ হাজার ৩০০ টাকার ভিসা ফি আদায় করতে থাকেন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে।‘কুয়েত এম্বাসী সিন্ডিকেটের প্রধান মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আরেফের বাজার প্রতিযোগীতা পরিপন্থী কর্মকান্ডের বিষয়ে অভিযোগ’ শিরোনামে আরেফকে পাঠানো প্রতিযোগীতা কমিশনের নোটিশে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগীতা আইন, ২০১২ এর বিধান লংঘনের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা ওই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং যেহেতু বিষয়টির উপর কমিশন প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেহেতু আপনাকে স্বয়ং বা মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয় অনুসন্ধান কাজে সহায়তা করতে বক্তব্য দিতে ৮ জানুয়ারী প্রতিযোগীতা কমিশনের হাজির থাকার নোটিশ দেওয়া হল।’ গত ৪ জানুয়ারী পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়, ধার্য তারিখে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। প্রতিযোগীতা কমিশন সূত্র জানায়, একজন রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের প্রধানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও আব্দুস সালাম আরেফের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রিরও একটি অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনা তদন্তে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের আহবায়ক করা হয়েছে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে।




আব্দুল করিম সরকার হেলথ কেয়ার সেন্টারের বর্ষপূর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মঙ্গলবার,
২২ পৌষ ১৪৩২বঙ্গাব্দ,
০৬ ডিসেম্বর ২০২৬ ইং।

স্থানীয় প্রতিনিধি : সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো আব্দুল করিম সরকার হেলথ কেয়ার সেন্টারের বর্ষপূর্তী আলোচনা সভা। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নুরুজ্জামান মুন্না, চেয়ারম্যান জাতীয় এনজিও রিজডা। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নকলা, শেরপুর।

আব্দুল করিম সরকার হেলথ কেয়ার সেন্টার গণপদ্দি, নকলা,শেরপুর এর উদ্যোগে উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে নুরুজ্জামান মুন্না বলেন. মানব জীবনে দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত একজন মানুষের প্রথম অগ্রাধিকার তার নিজের সুস্থতা।
তিনি বলেন কারো হয়তো কোটি কোটি টাকা আছে কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ তার ওই টাকা অর্থ বৈভব মূল্যহীন। আর সুস্থতার জন্য প্রয়োজন শরিরের চাহিদা অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহন করা। আর সুচিকিৎসা গ্রহন যা আব্দুল করিম সরকার হেলথ কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে নকলার জনগন পেয়ে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো বলেন উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের সান্নিধ্যে কাজের গতি বহু গুন বেড়ে যায়। আব্দুল করিম সরকার হেলথ কেয়ার সেন্টার এর উত্তর উত্তর সফলতা কামনা করেন। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে সাধ্যমত সার্বিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, সভাপতি শেরপুর ডায়াবেটিকস সমিতি ও জেনারেল হাসপাতাল, অধ্যাপক তাসলিমা বেগম সাবেক চেয়ারম্যান ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, খন্দকার রাকিবুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব (সওজ)। এবং পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।




তারেক রহমানের একান্ত সচিব হলেন সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার: সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন

তারেক রহমানের একান্ত সচিব হলেন সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার: সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন
অদ্য ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবং বৈষম্য বিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি জনাব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর একান্ত সচিব নিযুক্ত করায় বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানানো হয়।

শনিবার এক অভিনন্দন বার্তায় সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আপনার ভবিষ্যৎ কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন দেশের কল্যানে সাফল্যে-কৃতিত্বে পরিপূর্ণ থাকুক এ প্রত্যাশায় আমরাও আপনার সাথে আছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকতে চাই।

সচিবালয় সংযুক্ত পরিষদের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, তাঁর এই নিয়োগ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।




বেগম খালেদা জিয়ার কবরে মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশনের শ্রদ্ধা

ঢাকা : বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বিআরজেএ)-এর উদ্যোগে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআরজেএ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী ও মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইমরান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজ উদ্দিন আহমেদ, মিডিয়া ও তথ্য সচিব মজলুম সাংবাদিক শাহারুল ইসলাম রকি, নির্বাহী সদস্য রেজাউল করিম, বেলাল উদ্দিন আহমেদ,আজিজুল হক মিন্টু, মোহাম্মদ মাসুদুল প্রমুখ।

এসময় বিআরজেএ নেতৃবৃন্দ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক এবং আপসহীন নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে, যা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। সাংবাদিক সমাজ তাঁর এই শূন্যতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। নেতৃবৃন্দ মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁর আদর্শ ধারণ করে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।




বিদ্রোহী নজরুল-বিপ্লবী ওসমান হাদী স্মরণ কমিটি গঠিত

আগামী ৬ জানুয়ারী ২০২৬ বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের ১০৪ বছর উদযাপনের লক্ষ্যে এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর আদর্শ, সংগ্রাম ও সাহিত্যচেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে “বিদ্রোহী নজরুল-বিপ্লবী ওসমান হাদী স্মরণ কমিটি” গঠন করা হয়েছে।
২ জানুয়ারি ২০২৬ বাদ জুমা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর কবর জেয়ারত  শেষে  এক  প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সর্বসম্মতভাবে লেখক, কবি ও কলামিস্ট ও রাষ্ট্র চিন্তক আব্দুল্লাহ আল মামুন-কে আহ্বায়ক, কবি,  নজরুল গবেষক ও রাস্ট্র্রচিন্তক খোন্দকার মাওলানা শহীদুল হক-কে যুগ্ম আহ্বায়ক, দৈনিক দেশগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মাহাদী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষানুরাগী ফজলুর রহমান পলাশ কে যুগ্ম আহ্বায়ক (অর্থ) ও শিক্ষানুরাগী ও মানবাধিকার ব্যাক্তিত্ব আব্দুল্লাহ শাহীন -কে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষক, লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, গবেষক ও রাস্ট্র চিন্তক উপাধাক্ষ মোঃ নুরুজ্জামান হীরা, শিক্ষাবিদ ও রাস্ট্র চিন্তক আবদুর রহিম  চৌধুরী, নাট্যকার রাস্না হিমেল, ফজলুর রহমান পলাশ, আল আমিন রনি প্রমূখ।
কমিটির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই স্মরণ কমিটির মাধ্যমে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা ও বিপ্লবী ওসমান হাদীর আত্মত্যাগের ইতিহাস দেশব্যাপী নতুনভাবে আলোচিত হবে।  এই সংগটন ও কমিটি গবেষণা, আলোচনা সভা, স্মরণ অনুষ্ঠান ও প্রকাশনার মাধ্যমে জাতির সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা  করবে।
কমিটির পক্ষ থেকে আগামী ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ সকাল ১০ ঘটিকায় বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের ১০৪ বছর উদযাপন উপলক্ষে, নজরুল প্রেমী সকল সাংস্কৃতিক, সাহিত্য, সামাজিক, মানবাধিকার, রাজনৈতিক সংগঠন এর সম্মিলিত আয়োজনে জাতীয় কবি ও বিপ্লবী হাদীর সমাধি প্রাঙ্গনে জমজমাট নজরুল উৎসব অনুষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উৎসবে সমবেত কন্ঠে বিদ্রোহী কবিতা  আবৃত্তি, স্মরণ, জেয়ারত, শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, দোয়া ও আধিপত্যবাদ রুখতে সমবেত শপথ গ্রহণ। 
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদী এর চেতনা ও বিশ্বাসের অনুরাগী, নজরুল গবেষক, শিল্পী, আবৃত্তিকার সহ সংস্কৃতজনেরা উপস্থিত হতে  সদয় সম্মতি দিয়েছেন।
সকলের সানুগ্রহ উপস্থিতি ও পরামর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।




ঢাকা-৭ আসনে কবি সাহানা সুলতানার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা

আজ বেলা ১১টায় ঢাকা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী যাচাই বাছাই করে ১৮০, ঢাকা-৭ আসনে শাহানা সেলিম (কবি সাহানা সুলতানা) কে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই সময় প্রার্থী শাহানা সেলিম এবং হৃদয়ে পতাকা ২ মার্চের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা উপস্থিত ছিলেন।
কবি শাহানা সেলিমের পরিচিতি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি কবি সাহানা সুলতানা নামে। তিনি একাধারে কবি,রন্ধন শিল্পী,নারী উদ্দোক্তা, সমাজসেবী,মানবাধিকার কর্মী,সাংবাদিক এবং একজন সংগঠক। রন্ধন শিল্পী হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত, বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে রান্নার প্রোগ্রাম দেখানো হয়। একজন নারী উদ্যোক্তা উদ্দ্যমী নারীদের প্লাটফর্মে তার বিচরণ। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নিজেকে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। এছাড়া কবি সাহানা সুলতানা সাহিত্য জগতে বিরাট অংশ জুড়ে আছেন। বিভিন্ন সময়ে তার নিজস্ব আইডিতে তার লেখা প্রকাশিত হয়।২০২৫ এ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ বিলম্বিত প্রহরে প্রকাশিত হয়। অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদে সদস্য হিসেবে কাজ করছেন এবং নজরুল গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শাহানা সেলিম বিজেইউসি এর নারী বিষয়ক সম্পাদিকা এবং “হৃদয়ে পতাকা ২ মার্চ” নামক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সামাজিক সংগঠনের সভাপতি। তার সংগঠন ২ মার্চকে জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এই লক্ষ্যে ৫৩ বছরের ইতিহাস ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বরাবর আবেদনের ভিত্তিতে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক, জাতীয় বীর আ স ম আবদুর রবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যা গত ৫৩ বছরে কখনোই ২ মার্চের আ স ম আবদুর রবকে দাওয়াত করা হয়নি। তার সভাপতিতে তার সংগঠনের আবেদনের ভিত্তিতে ৫৩ বছর পর প্রথম আসম আব্দুর রবকে ২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় আমন্ত্রণ করেন। এছাড়া তিনি এবং তার সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন সভা সেমিনার মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ের সোচ্চার।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় হৃদয় পতাকা দুই মার্চ সংগঠনকে নিয়ে লেখা প্রকাশ করে। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য পুরস্কার, নারী দিবসে সম্মাননা পেয়েছেন। রিন নিজের নামে নামকরা নারী ক্যটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ঢাকা-৭ আসনের সর্বস্তরের জনগণের কাছে দোয়া এবং সম্মানিত ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন।