বাচসকস এর পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা; ১১ বছর পে-স্কেল নেই, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি কর্মচারীদের ঈদ যেন ‘চোখের জলে’

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি কর্মচারীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তবে শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
শনিবার (১৫ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মোঃ আজিম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তার হোসেন এই শুভেচ্ছা জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “দীর্ঘ ১১ বছর যাবত বহু প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল না পাওয়ায় এবং বর্তমানে বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের ঈদ আনন্দ এখন কেবল দুঃখে পরিণত হয়েছে। বেতন ও বোনাস দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকের ঘরে ঈদ মানেই এখন চোখের জলে।”
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান বেতন কাঠামোর কোনো সামঞ্জস্য নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও কর্মচারীদের বেতন বাড়েনি। ফলে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে ঈদের আনন্দ উদযাপন করা নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আজিম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তার হোসেন সরকারি কর্মচারীদের এই চরম আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে এবং জীবনযাত্রা উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। তারা অবিলম্বে ‘নবম পে স্কেল’ এর গেজেট প্রকাশ করে কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটানোর জোরালো দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে আগামীতে সরকারি কর্মচারীরা সপরিবারে সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।




অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিনের দৃষ্টিতে এলো অসহায় তিন শিশুর পরিবারের জীবনসংগ্রাম-উপহার পেলো নতুন ঘর ও দুধেল গরু

সালাম মাহমুদ: আমরা হয়তো অনেক কিছু নিয়েই অভিযোগ করি, কিন্তু কারও কারও জীবনে বিলাসিতা তো দূরের কথা—বেঁচে থাকাটাই প্রতিদিনের যুদ্ধ। এমনই এক অসহায় তিন শিশুর পরিবারের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হয় হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ-এর সিনিয়র পরিচালক (উন্নয়ন, পরিকল্পনা এবং বিক্রয় ও বিপণন) অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিনের।
পোস্টে পরিবারটির করুণ অবস্থার কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে সঠিক ঠিকানা ছিল না। কমেন্টের মাধ্যমে ঠিকানা জানতে চেয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি তাঁর নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী টিমকে বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে টিমের মাধ্যমে জানা যায়, পরিবারটির ঠিকানা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সিন্দুরনা নদী পাড়া গ্রাম।
ঠিকানা পাওয়ার পর অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিন সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। সবকিছু যাচাই শেষে এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিবারটির জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দুধ দেওয়া গরু এবং এক মাসের বাজার সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়।
এর আগেও অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিন মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বহু অসহায় পরিবারকে ঘর উপহার দিয়েছেন। মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাঁর নিজস্ব একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম রয়েছে, যারা নিয়মিতভাবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁর দৃষ্টিতে এলেই পাশে দাঁড়ানোই যেন তাঁর নীরব অঙ্গীকার—যেখানে মানবিকতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় পরিচয়।




মওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই গণভোটকে হ্যাঁ বলতে হবে। —-শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

২২ জানুয়ারি ২০২৬ ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৫৪ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় এবং চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডক্টর মাহবুব উল্লাহ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন সম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি রাজনীতির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের ক্ষমতা রাখতেন, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি নেতাদের নেতা ছিলেন।নিজে কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেননি কিন্তু ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী জাফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া সহ যাদেরকে নেতা বানিয়েছিলেন তাদের অনেকই বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করেছেন। মওলানার মৃত্যুর ৪৯ বছরেও মওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। তিনি বলেন রাজনীতিবিদদের উচিত মওলানার জীবন এবং দর্শনকে ভালোভাবে স্টাডি করা,যুবসমাজের মাঝে মাওলানা ভাসানীর আদর্শ এবং চিন্তা চেতনাকে উপস্থাপন করা।মাওলানা ভাসানী যুদ্ধকালীন সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ৮সেপ্টেম্বর১৯৭১ সালে ভারতে উপদেষ্টা পরিষদের মিটিং হয়। সেই মিটিংএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মওলানা ভাসানী বিভিন্ন রাষ্ট প্রধানের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি চেয়ে পত্র লেখেন।ভাসানীকে ইন্ডিয়া সরকার গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন। তিনি মুক্ত অবস্থায় থাকলে বাংলাদের রাজনীতির ইতিহাস অন্যরকম হোত। তিনি সবাইকে মাওলানা ভাসানীর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট এড. নজমুল হক নান্নু বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান, তার চিন্তা দর্শন কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র, তার সাথে অন্য কারো তুলনা চলে না। তিনি নিজেই নিজের তুলনা। মওলানা ভাসানী গ্রামের মানুষের বিশেষ করে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য জীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন বিলাসিতা কখনো তাকে স্পর্শ করেনি তিনি ছিলেন অত্যন্ত আতিথিয়পরায়ণ টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার কুড়ে ঘরে দেশি এবং বিদেশি অতিথিরা হাজির হতো, সবাইকে তিনি স্বাভাবিক রান্নাবান্না করা খাবার দিয়েই আতিথিয়তা করতেন।স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের তিনি প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। সে সময় তিনিই একমাত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন যাকে সমগ্র বিশ্বের নেতৃবৃন্দ চিনতেন। মাওলানা ভাসানীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানদের কাছে পত্র পাঠাতে হয়েছে এবং সমর্থন চাইতে হয়েছে।ইন্ডিয়া সরকারের নিকট গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে ২২ শে জানুয়ারী দেশে ফিরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন মাওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন মাওলানা ভাসানী। মাওলানা ভাসানীর হাতেগড়া নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা ভাসানী যথাযোগ্য মর্যদা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন স্বাধীনতার ৫৪বছর পরেও আমরা মাওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়তে পারিনি। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরী এবং স্বাক্ষর করেছি, আগামী নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতেই হবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে মওলানা ভাসানীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে তার আদর্শ ধারন করতে হবে।
কারো বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, ভাসানী জনশক্তি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান তপন, রিকশা ভ্যান শ্রমিক পার্টির সভাপতি রতন দেওয়ান,ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির সদস্য সচিব শাহানা বেগম, বংশাল থানা সভাপতি ইমরুল হাসান ওয়াসিম প্রমুখ ।




সাবেক এমপি আলহাজ্ব এস এ খালেকের পুত্র আব্দুল লতিফ পাপ্পু সানজিদা ইসলাম তুলিকে সমর্থন জানিয়েছেন

সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব এস এ খালেকের পুত্র সৈয়দ আব্দুল লতিফ পাপ্পুর বাসায় মতবিনিময় সভা, সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা। ঢাকা-১৪ আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা–১৪ আসনের বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য এস এ খালেকের সুযোগ্য সন্তান সৈয়দ আব্দুল লতিফ পাপ্পুর আমন্ত্রণে তাঁর নিজ বাসভবনে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্পোকসপার্সন ড. মাহদী আমিনসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, ঢাকা-১৪ আসন বিএনপির একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। এই আসনে দলীয় ঐক্য, তৃণমূলের সংযোগ এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণ উন্নয়ন বঞ্চিত ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি গ্রহণযোগ্য, শিক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
এ সময় সৈয়দ আব্দুল লতিফ পাপ্পু বলেন, “আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই আসনের মানুষের পাশে রয়েছে। আমার পিতা এস এ খালেক সাহেব সবসময় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরাও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই। দল মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি একজন যোগ্য, শিক্ষিত ও পরিশ্রমী নেতৃত্ব। তাঁর বিজয়ের জন্য আমি সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবো এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।”
বিএনপির স্পোকসপার্সন মাহদী আমিন বলেন, “ঢাকা-১৪ এ জনগণ পরিবর্তন চায়। একটি সুশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।”
মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি সভায় উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমি রাজনীতিকে মানুষের সেবা হিসেবে দেখি। ঢাকা-১৪ এর নাগরিক সমস্যা—যানজট, জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবো। আপনাদের সহযোগিতাই আমার শক্তি।” সভা শেষে নেতাকর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে দলীয় ঐক্য সুসংহত করে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সমন্বয় ও ঐক্যের বার্তা ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং নির্বাচনী মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে ঢাকা-১৪ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে দারুস সালাম থানার সামনে থেকে প্রচার মিছিল বের হয়, এতে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাবতলিতে এসে শেষ হয়। বক্তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য ঢাকা-১৪ বাসীকে আহ্বান জানান।




জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটকে লেবার পার্টির সমর্থন

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটকে লেবার পার্টির সমর্থন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনকল্যাণ মূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। দলীয় গঠনতন্ত্রের ১৪-২ (গ) ধারার আলোকে নির্বাহী কমিটির পরামর্শে সংগঠনের চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী ও মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন যৌথ বিবৃতিতে এ সমর্থনের কথা জানান। লেবার পার্টি মনে করে চাঁদাবাজি, লুটপাট, দখলদারিত্ব থেকে জাতিকে মুক্ত এবং আইনের শাসন, জবাবদিহি ও জনকল্যাণ মূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অতীতের ব্যর্থদের প্রত্যাখ্যান করে দেশপ্রেমিক ও নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। সে লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখতে ও ভোট প্রদান করার আহবান জানান। নেতৃদ্বয় আশা পোষন করেন জনগণের ভোটে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে ১০ দলীয় জোট সরকার ধর্ম কর্ম সাম্যবাদের ভিত্তিতে শোষণমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে




মায়ের ডাক — গুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক গণ-প্রতিবাদের পথচলা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে “গুম” শব্দটি কেবল একটি অপরাধের সংজ্ঞা নয়; এটি একেকটি ভাঙা পরিবার, অসহায় মা-বাবা, চোখ ভরা অপেক্ষা আর এক অনন্ত যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সবচেয়ে ঐতিহাসিক প্ল্যাটফর্ম হলো “মায়ের ডাক”। এই আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকে ধাপে ধাপে বিকাশ, সংগ্রাম, প্রতিবাদ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিধ্বনিত হওয়ার ধারাবাহিকতা আজ দেশের ইতিহাসের অমোচনীয় অধ্যায়। যাত্রা শুরু: ৮ পরিবার নিয়ে এক লড়াই। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর। তেজগাঁও থানার সাবেক ৩৮ বর্তমান ২৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর প্রার্থী সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ মোট ৮ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। মাত্র ৬ দিন পর ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এর আগে একইভাবে র্নিঘোষিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রিয় কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলী ও তাঁর ড্রাইভার আনসার আলী। এই ভয়ঙ্কর গুমের ধারায় রীতিমতো আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে শহর ও রাজনীতি। সাধারণ মানুষ তো বটেই, বিরোধী দলও প্রতিবাদ করতে সাহস পেত না সেই সময়। প্রথম প্রতিবাদ: প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন। গুমের বিরুদ্ধে প্রথম সংগঠিত প্রতিবাদ আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনের নেতৃত্বে ছিলেন সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা। উপস্থিত ছিলেন: জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ গুম হওয়া ৮ জনের ছবি দিয়ে ব্যানার তৈরির নেতৃত্ব, কর্মসূচির প্রস্তুতি ও গণমাধ্যম প্রচার করেন মঞ্জুর হোসেন ঈসা। গুমের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বড় হতে থাকে গুম হওয়া পরিবারও, ২০১৪ সালে প্রেসক্লাবের সামনে আবারও মানববন্ধন হয়—এবার নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে। ৪ ডিসেম্বর ২০১৪-তে গুমের এক বছর পূর্তিতে হাজেরা খাতুনের সভাপতিত্বে গুম হওয়া সুমনসহ প্রথম ৮ পরিবারের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ পরিবারে। নেতৃত্বে ছিলেন হাজেরা খাতুন (সুমনের মা), আফরোজা ইসলাম আঁখি, সানজিদা ইসলাম তুলি, এভাবেই শুরু হয় “মায়ের ডাক” নামের ঐতিহাসিক আন্দোলন। মায়ের ডাক কেবল বিএনপি বা ছাত্রদল–যুবদলের পরিবার নয়। এখানে যুক্ত হয়েছেন জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীদের পরিবার, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কুষ্টিয়ার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, ঢাকা রামপুরা ছাত্রলীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন তপু, গুমের শিকার সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাষ্ট্রদূত, সাধারণ মানুষ—যেই নিখোঁজ হন তাদের পরিবার এসে দাঁড়ায় এই প্ল্যাটফর্মের পাশে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুমের বিষয়টি পৌঁছে দেন সানজিদা ইসলাম তুলি মায়ের ডাকের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি গুমের তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিটি কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করেন প্রতিষ্ঠাতা হাজেরা খাতুন, তার পরিবার, এভাবেই ৮ পরিবার থেকে শত-শত পরিবার যুক্ত হয়ে যায় মায়ের ডাক-এ। ২০১৪ সাল থেকে গুমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হতে থাকে দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, নিউ এজ। তাঁরা একাধিক রিপোর্ট ও ছবিসহ গুমের বিস্তারিত তুলে ধরে। মায়ের ডাক তথ্য সরবরাহ করে ও পরিবারের কাছে সাংবাদিকদের নিয়ে যায়। গণঅভ্যুত্থান ২৪ জুলাইয়ের অংশগ্রহণ, মায়ের ডাক সরাসরি অংশগ্রহণ করে ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে। সাহসের প্রতীক হয়ে ওঠে গুম হওয়া সন্তানদের মায়েরা। তাদের সংগ্রামে পাশে দাঁড়ান বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তাঁদের অবদান স্মরণ করে মায়ের ডাক।, গুম থেকে ফিরে আসা নেতাদের সাক্ষ্য ও সমর্থন, যাঁরা নিজেরাই গুমের শিকার ছিলেন এবং ফিরে এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিএনপির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, গুম থেকে ফিরে আসা হুম্মান কাদের চৌধুরী ও আনিসুর রহমান খোকন, এম ইলিয়াস আলীর পরিবার, চৌধুরী আলমের পরিবারও মায়ের ডাকের আন্দোলনে যুক্ত। গত এক যুগে মায়ের ডাক হারিয়েছে বহু সহযোদ্ধা। অনেক মা-বাবা অপেক্ষার প্রহর শেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। আন্দোলন আরও শক্ত হয়েছে প্রতিটি মৃত্যু দিয়ে। তারেক রহমানের প্রতি মায়ের ডাকের কৃতজ্ঞতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়মিত গুমের পরিবারগুলোর খোঁজ নিয়েছেন, সাহস, সান্ত্বনা ও সহযোগিতা দিয়েছেন এ কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর প্রত্যাশিত ফল না পেলেও আশার আলো দেখা যায় যখন সানজিদা ইসলাম তুলি ঢাকা-১৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মনোনীত হন। মায়ের ডাক বিশ্বাস করে তিনি জাতীয় সংসদে গুমের শিকার পরিবারের কথা তুলে ধরবেন। ঐতিহাসিক দুটি দিন: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ও ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫। তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের দিন। মায়ের ডাক রাজপথে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ মায়ের ডাকের সবচেয়ে কষ্টের দিন ১৮ কোটি মানুষের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মায়ের ডাক তাঁর জানাজা ও দোয়ায় অংশ নেয়। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারেক রহমান মায়ের ডাক পরিবারের সদস্যদের বিশেষ আমন্ত্রণ জানান। এ দিনটি মায়ের ডাক পরিবারে “শ্রেষ্ঠ দিন” হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে। “মায়ের ডাক” এখন শুধু একটি মানবাধিকার প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি এক ঐতিহাসিক আন্দোলন, এক মায়ের শোক থেকে জন্ম নেওয়া সাহস, এক গণ-প্রতিরোধের নাম। এই সংগঠন গুমের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা, আইনি পরামর্শ, আন্তর্জাতিক প্রচার, গণমাধ্যম যোগাযোগ, প্রতিবাদ কর্মসূচি, সবকিছুতে নেতৃত্ব দিয়েছে। ৮ পরিবার থেকে শুরু হয়ে আজ শতশত পরিবারের হৃদয়ের ভরসা মায়ের ডাক।

মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি
এবং মায়ের ডাক




“গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা, আল-কুরআন বিরোধী সকল সংবিধান এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করুন- আমীর, ইসলামী সমাজ।

আজ ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ইং, শনিবার, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত, ‘ইসলামী সমাজ’ এর কেন্দ্র: কুমিল্লার দাউদকান্দি থানাধীন, কুশিয়ারা খানবাড়ী বালুর মাঠে- “গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা, আল-কুরআন বিরোধী সকল সংবিধান এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে”— শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচিতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষের সমাগম শুরু হয়।
ঠিক সকাল ১০টায় আলকুরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে “শান্তিপূর্ণ অবস্থান” কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। অবস্থান কর্মসূচির সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন ‘ইসলামী সমাজ’ এর সম্মানিত আমীর, হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর সাহেব। তিনি অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষকে ঈমান ও ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, মানুষের কল্যাণ ও প্রয়োজনে সমাজ এবং রাষ্ট্র। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংবিধান। পবিত্র আল-কুরআন’ই মানব জাতির জন্য কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র সংবিধান। আল-কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা- আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র ব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যবস্থা মেনে চললে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে দুনিয়ার জীবনে নেমে আসবে বিভিন্ন ধরনের আযাব-গজব, চরম দুর্ভোগ ও অশান্তি আর আখিরাতের জীবনে রয়েছে নিশ্চিত জাহান্নাম। সুতরাং, গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা ও মতবাদ’ই ইসলাম বিরোধী ব্যবস্থা তথা জাহিলিয়্যাত- যা মূলতঃ দুনিয়ায় অকল্যাণ ও অশান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নামের পথ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশেরও মূল সমস্যা- প্রধান সমস্যা গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে মানব রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান। মূল রোগাক্রান্ত রেখে গাছের পরিচর্যা যেমন নিষ্ফল ঠিক এ সমস্যার মূলোৎপাটন ব্যতীত কোন সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট ও নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক পরিবর্তন হলেও জাতীয় জীবনের সমস্যাবলীর সমাধান হবে না; বরং সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআন বিরোধী সংবিধান পরিবর্তন করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আল-কুরআন নির্দেশিত সংবিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী শরীয়াহর আইন-বিধান বাস্তবায়িত হলেই সকল সমস্যার সমাধান হবে। এ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় ঈমানদারগণের নিজ অর্থ (মাল) ও সময় (জান) কুরবানীর মাধ্যমে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আল-কুরআন নির্দেশিত ইসলামী শরীয়াহ্র আইন-বিধান প্রতিষ্ঠিত হলেই সকল মানুষের জীবনে সুশাসন, ন্যায় বিচার ও ইনসাফ কায়েম হবে, সকল ধর্মের মানুষ যার যার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে। ফলে সকলের কাঙ্খিত দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে।
এ লক্ষ্যেই ‘ইসলামী সমাজ’ সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আল-কুরআন নির্দেশিত সংবিধান প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি “গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা, আলকুরআন বিরোধী সকল সংবিধান এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহাসত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আন্তরিক আহবান জানান।




“ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিনের মৃত্যুতে বিআরজেএ’র শোক”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই সহকর্মীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বিআরজেএ)-এর চেয়ারম্যান ও মহাসচিব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী ও মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক যৌথ শোক বিবৃতিতে বলেন, জসিম উদ্দিন ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও পেশাদার সাংবাদিক। সাংবাদিকতা অঙ্গনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




আইন, সংবিধান ও নাগরিক অধিকার ও একটি মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় গ্রন্থদ্বয়ের মোড়ক উন্মোচন

১৫ জানুয়ারি ২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার, বিকাল ৩.০০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাব তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আমাদের প্রকাশিত বিশিষ্ট লেখক-কলামিস্ট, ব্রিটেনের উচ্চ আদালতের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার নাজির আহমদ রচিত আইন, সংবিধান ও নাগরিক অধিকার ও একটি মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় গ্রন্থদ্বয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রীম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল বিচারক ইকতেদার আহমেদ এর সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক সিনিয়র বিচারপতি এএফএম আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, লন্ডন প্রবাসী ডা. এম আজিজ, বিশিষ্ট প্রকাশক আমিনুল ইসলাম, বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট এটিএম মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট আইনজীবী বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের এডভোকেট পারভেজ হোসাইন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুজাক্কের হোসাইন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ধ্রুবতারা প্রকাশনীর প্রকাশক মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, জাতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি আইন, সংবিধান ও নাগরিক অধিকার এবং একটি মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ২টি বই উপহার দিলাম। আশাকরি দেশবাসী কাজে লাগাবে। এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দাড়িয়ে বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন।




নাজিরপুরে চাঁদা না পেয়ে কৃষি উদ্যোক্তার স্ত্রী-কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন, স্বর্ণালংকার লুট

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে এক কৃষি উদ্যোক্তার কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) বিকেলে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট কৃষি উদ্যোক্তা হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মৎস্য ঘের ও কৃষি খামার পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত মামুন ডাকুয়া এবং তাঁর সহযোগীরা বেশ কিছুদিন ধরে ওই ঘের ও খামার নির্বিঘ্নে চালাতে হলে অলিউল্লাহর কাছে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মামুন ডাকুয়া তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
গত ১২ জানুয়ারি অলিউল্লাহ ডাকুয়া তাঁর লিজ নেওয়া ঘেরের নারিকেল ও ডাব ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেন। ডাবগুলো দেখানোর জন্য তাঁর কন্যা তানজিলা খাতুন ব্যাপারীদের নিয়ে ঘেরের কাছে যান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ডাকুয়ার নেতৃত্বে মন্টু ডাকুয়া, নজরুল ইসলাম ডাকুয়া, হেলাল ডাকুয়াসহ ৮-৯ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ডাব পাড়তে বাধা দেয়।
এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তানজিলা খাতুনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। সন্ত্রাসীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাঁর পরনে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
কন্যার চিৎকার শুনে মা তাসলিমা বেগম তাঁকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপরও হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠির আঘাতে তাসলিমা বেগমকে গুরুতর জখম করা হয়। সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনে মা ও মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে কালশিটে দাগ ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজিরপুর থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে গরিমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।