শ্রমজীবী পেশাজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে- বাংলাদেশ সংযুক্ত ফেডারেশন

আজ সকাল ৯.৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন ও অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ট্রেড ফেডারেশন এর যৌথ আয়োজনে এক বিশাল শ্রমিক র‌্যালি বিজয়নগর কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পল্টন জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে বিজয়নগর কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে এসে বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মোসাদেক হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, আইন শালিশী বিষয়ক সম্পাদক সামসুল আলম জুলফিকার, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সংযুক্ত নির্মাণ ও কাঠ শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল ইবনে কবির, বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মজিবর রহমান, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মো: নূরে আলম, বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ বাহিনী কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাহী চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ রেল পোষ্য   সোসাইটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, সংযুক্ত মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী শেফালী হোসেন  প্রমুখ,  সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মোস্তফা।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন অবিলম্বে ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ৩০ হাজার টাকা, পুলিশের ন্যায় সকল শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, আট ঘন্টা কর্ম দিবস বাস্তবায়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করণ, তাজরীন, রানা প্লাজার শ্রমিকদের স্থায়ী পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ, বন্ধ কলকারখানা চালু, গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন কর্মচারীদের ১৯ ও ২০ গ্রেডে উন্নীতকরণ, পরিবহন, পাদুকা, ঔষধ, স্টিল মিল সহ সকল খাতের শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।




শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ২৫ হাজার টাকা করতে হবে: শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

মহান মে দিবস উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে পুরাতন পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বর্ণাঢ্য শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, “দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এটি কেবল স্লোগান নয়, বাস্তব সত্য।”

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শ্রমিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম। তিনি বলেন, “মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন—‘কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না’। সেই বৈষম্যবিরোধী চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি। আজও বহু মানুষ স্টেশন, ফুটপাত ও ফ্লাইওভারের নিচে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।”

তিনি আরও বলেন, বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতায় জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।

মহাসচিব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনা করলে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বক্তারা বলেন, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সূচনা ঘটে হে মার্কেট আন্দোলন থেকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার আন্দোলন শক্তিশালী হয়। বক্তারা বলেন, সেই ঐতিহাসিক চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক—ন্যায্য মজুরি ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাবুল বিশ্বাস, প্রেসিডিয়াম সদস্য, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও আহ্বায়ক, ভাসানী শ্রমিক পার্টি। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন প্রফেসর হারুনুর রশিদ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বিলকিস খন্দকার, মোশাররফ হোসেন, মুনির হোসেন সরকার, নারী নেত্রী শাহানা, কেন্দ্রীয় নেতা ইমরুল হাসান ওয়াসিম এবং আসিমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।




গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১১টি রাজনৈতিক দল।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দল আয়োজিত ‘চলমানের আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, “আগামী ১৮ এপ্রিল ১১ দলের উদ্যোগে ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল ঢাকা ছাড়া বাকি সব বিভাগীয় শহরে গণমিছিল। আগামী ২ মে সারা দেশে প্রতিটি জেলা শহরে গণমিছিল।”

কর্মসূচির আওতায় আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার জানান, ২ মের পর থেকে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ হবে। ১২টি সিটি করপোরেশনে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এই রাউন্ড শেষ হওয়ার পর রাজধানীতে ১১ দলের সমাবেশ হবে, তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।




মতিঝিল–কমলাপুরে ১৭২ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ উচ্ছেদ না করার আহ্বান

আল মায়ামী: বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্ক সপ মালিক সমিতির আয়োজনে রোববার (১২ এপ্রিল) ১১ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর মতিঝিল–কমলাপুর এলাকায় সমিতির অন্তর্ভুক্ত ১৭২টি অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ উচ্ছেদ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত এবং এফবিসিসিআই-অধিভুক্ত একটি বাণিজ্য সংগঠন। মতিঝিল–কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত সমিতির অন্তর্ভুক্ত ১৭২টি ওয়ার্কশপ হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে হাজারো শ্রমিক ও কর্মচারী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে অটোমোবাইল ওয়ার্কশপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব ওয়ার্কশপ শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে দক্ষ কারিগর তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে। এখান থেকে তৈরি হওয়া অনেক দক্ষ জনশক্তি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে এবং রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

তারা আরও বলেন, এই খাতের উদ্যোক্তারা নিয়মিত ভ্যাট ও কর পরিশোধের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত এসব ওয়ার্কশপ হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে দেশের চলমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে মানবিক ও বাস্তবতা বিবেচনায় উচ্ছেদ কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত রাখা, পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে খাতটিকে টেকসইভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




নবম পে-স্কেল গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান

বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল এর গেজেট প্রকাশের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ৯ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে দ্রুত নবম পে-স্কেল এর গেজেট প্রকাশের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, দেশের বাজার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নবম পে-স্কেল ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রজাতন্ত্রের কাজের চাকা সচল রাখতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের এই যৌক্তিক দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা দেবেন।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ৫ দফা নিম্নরূপ:
১। দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত সাধারণত প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে।
২। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই তুলনায় নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।
৩। সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
৪। প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি যদি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহ্য ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
৫। সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি মূলত আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজব- আমীর, ইসলামী সমাজ

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে রাজনীতির নামে মানুষে মানুষে প্রতিহিংযার আগুন জ্বলছে। ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মানুষ দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে জড়িয়ে মহা বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরান ও ফিলিস্তিনের সাথে ইজরাইল ও আমেরিকার সংঘর্ষের কারণে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের মানুষ চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জালানি সংকট, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মানুষ হত্যাসহ মানবতা বিরোধী অপরাধের মাত্রা চরম আকার ধারন করেছে। মানুষ মানবতা, মনুষত্ব হারিয়ে হিংস্রতা ও পশুত্বের অতল গহ্বরে নিজজ্জিত হয়ে আছে। মানুষের সার্বভৌমত্ব এবং আলকুরআন বিরোধী সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সমস্যার মূল সমস্যা এ কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলকুরআন বিরোধী সংবিধান মানুষকে মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্যের অধীনে বন্দি করে মহান রবের সাথে শিরক ও কুফরে নিমজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, কুফর এবং শির্ক করার কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজবের অংশ হিসেবেই বিশ্বব্যাপী মানুষে মানুষে সংঘাত ও সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সহকারী দায়িত্বশীল আবু জাফর মোহাম্মাদ সালেহ’র সঞ্চালনায় আজ ৭ এপ্রিল ২০২৬ইং, মঙ্গলবার, সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত ও সংঘর্ষের কারণ, এ থেকে উত্তরণের উপায় এবং সকল প্রকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণার লক্ষ্যে” অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছরে বিভিন্ন সময়ে যারাই ক্ষমতায় এসেছেন তারা সকলেই আল কুরআন বিরোধী মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্র দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনা করেছে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারাও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল কুরআন বিরোধী সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশে রাজনীতির নামে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং মানুষের জীবনে নৈরাজ্য চলছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের চলমান সকল সংকট থেকে বাঁচতে হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের মূলোৎপাটন করে সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট-নির্বাচন কিংবা সশ্রস্ত্র লড়াই ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর নির্দেশিত এবং রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতি নয়। ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে দাওয়াত কবুলকারীদের নিয়ে আমীরের নেতৃত্বে ‘ইসলামী সমাজ’ গঠন আন্দোলন’ই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আলকুরআন ও সুন্নাৎসম্মত একমাত্র পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতেই ‘ইসলামী সমাজ’ আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীন থেকে দেশ ও জাতির মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে সকল প্রকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে- এপ্রিল ও মে ২০২৬ইং ২ মাসব্যাপী শান্তিপূর্ণ ৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
(১) দেশব্যাপী টিম ভিত্তিক গণসংযোগ, পথসভা, প্রচারপত্র বিলি ও মিছিল করা হবে।
(২) আগামী ২৫ এপ্রিল ২০২৬ইং, শনিবার বিকাল ৩ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত, শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনের রাস্তায় “শান্তিপূর্ণ অবস্থান” করা হবে।
(৩) ৫ মে ২০২৬ইং সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় সমাবেশ শেষে ‘ইসলামী সমাজ’ গঠিত বিশেষ টিম সংগঠনের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর সাহেব প্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি প্রথমে রাষ্ট্রপতি বরাবর বঙ্গভবনে, তারপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অতঃপর স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতা এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বরাবর প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল-১ এর দায়িত্বশীল, জনাব মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা ও সিলেট বিভাগ এর দায়িত্বশীল জনাব মোঃ নুরুদ্দিন।




দেশের সব দোকান-শপিং মল বন্ধ নিয়ে মালিক সমিতির নতুন সিদ্ধান্ত

রাজধানীসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল রাত ৮টা মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান, কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে বলেও জানিয়েছে ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

এর আগে, গত ১৫ মার্চ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতাসহ বিভিন্ন মার্কেটের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার শর্তে ৪০ শতাংশ আলোকসজ্জা কম করার প্রতিশ্রুতি দেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস ফেরানো, সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি, হোম অফিসসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।




শাহবাগে ঐতিহাসিক বাংলা অভিযান উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও শরবত বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক বাংলা অভিযান ও ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয় উপলক্ষে আজ শাহবাগের হাদী চত্বরে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল ও শরবত বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওয়ার্ল্ড মুসলিম মুহাজির রাইটস-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড মুসলিম মুহাজির রাইটস-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ। তিনি বলেন, “১২০৪ সালের ২৬শে মার্চ বখতিয়ার খিলজীর হাত ধরে বাংলায় যে বিজয় এসেছিল, তা কেবল মুসলমানদের বিজয় ছিল না; বরং তা ছিল তৎকালীন বর্ণবাদী ও অত্যাচারী শাসন থেকে সাধারণ হিন্দু ও বৌদ্ধদের মুক্তির দিন। বখতিয়ার খিলজী বাংলায় এসে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ইনসাফ ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির প্রেসিডেন্ট মোঃ আব্দুল জব্বার তিনি তাঁর বক্তব্যে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজীকে ‘ইনসাফের অগ্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “ভারতবর্ষে বখতিয়ার খিলজীই প্রথম প্রকৃত ইনসাফ কায়েম করেছিলেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলা তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর জুলুম বন্ধ করেছিলেন এবং হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁর সেই ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।”
মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার আরও বলেন, “বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে মাত্র ১৭ জন বীর সেনানী যেভাবে এক বিশাল সাম্রাজ্য জয় করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই ইনসাফের আদর্শকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা।”
অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয় এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে শরবত বিতরণ করা হয়।




ঈদ পারস্পরিক সৌহার্দ্যতা ও ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে ……লায়ন গনি মিয়া বাবুল

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব বিশিষ্ট সংগঠক লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বলেছেন, ঈদ সমাজে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যতা ও ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই ঈদের তাৎপর্যতা বহন করে। সমাজে মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে ঈদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র রমজানে একমাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিবসে ঈদ উল ফিতর সকলের জন্যে রহমত ও মাগফিরাত নিয়ে আসে।
২১ মার্চ শনিবার গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে টেপিরবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজের পূর্বে সমাবেত মুসুল্লিদের উপস্থিতিতে তিনি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সকলকে ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলা উচিৎ। ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সুবিধা বঞ্চিতদের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্যে তিনি আহবান জানান। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন।




ঈদ আনন্দ – লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

রোজার শেষে ঈদ এসেছে
দেশে দেশে হেসে হেসে,
খুশী আজ বিশ্ব জুড়ে
ঈদ আনন্দ ঘরে ঘরে।

ঈদ আনন্দে জাগে প্রাণ
ভালোবাসার নতুন গান,
ধনী গরীব ভেদাভেদ ভুলে
সম্প্রীতি ঐক্য গড়ে তুলে।

ঈদ আনন্দ নতুন পোশাকে
শিশুর মুখে হাসি ফোটে,
সেমাইয়ের ঘ্রাণ ভেসে আসে
মিষ্টি স্বাদে স্নিগ্ধ বাতাসে।

ঈদ আনন্দ মানবতার সমতার
সম্প্রীতি ঐক্য ভাতৃত্ব জনতার,
আনন্দ থাকুক সবার সবসময়
ঈদ উৎসব হোক আনন্দময়।

লেখক পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কবি,কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)