গুগল, মেটা ও টিকটকের বিনিয়োগ প্রস্তাব, সম্ভাবনার নতুন দুয়ার কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে

ঢাকা

শনিবার

৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি | তারারদেশ নিউজ:

 

বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। গুগল, মেটা ও টিকটকসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

 

শনিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান তিনি। দেশের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বর্তমান অবস্থা, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ সরেজমিনে পর্যালোচনা করতেই মন্ত্রীর এই সফর।

 

মন্ত্রী জানান, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে বর্তমানে ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বা প্রস্তুত স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে ৪০টি কোম্পানি ব্যবসা বা উৎপাদন শুরু করেছে। আরও ২৮টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলছে এবং ১৭টি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই নির্মাণে যাবে।

 

পার্কটিতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার এখন পর্যন্ত ব্যয় করেছে ৫০০ কোটি টাকার বেশি।

 

বিদেশি বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা

 

চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

তাঁর মতে, এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক শুধু দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎপাদন, সংযোজন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানির জন্য এটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

 

পার্কে বর্তমানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ফাইবার অপটিক্যাল কেবল, গাড়ি, এটিএম ও ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন হচ্ছে। আইওটি ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র, রেফ্রিজারেটর, বিভিন্ন হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির সরঞ্জামও তৈরি হচ্ছে সেখানে।

 

দুটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ডেটা সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানির প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পে গুগল, মেটা ও টিকটকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আগ্রহ রয়েছে।

 

কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ

 

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাইটেক পার্কের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও অবকাঠামো যথাযথভাবে গড়ে উঠলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

 

প্রযুক্তি খাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তিপণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও দেখছে সরকার।

 

এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসেবায় ভ্যাট সুবিধা এবং প্রযুক্তিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে।

 

একই সঙ্গে শুধু উৎপাদনকারী নয়, অ্যাসেম্বলিং প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ইভি ব্যাটারি, সৌর ব্যাটারি, ইউপিএস ব্যাটারি ও ই-বাইকের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের জন্য আলাদা প্রণোদনা কাঠামোর কথাও জানিয়েছে সরকার।

 

অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব

 

বিনিয়োগের সম্ভাবনার পাশাপাশি হাইটেক পার্কের কিছু সীমাবদ্ধতাও চিহ্নিত করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ অবকাঠামো দ্রুত শেষ করা, নিরাপত্তা ও সিসিটিভি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্বৈত সংযোগ স্থাপন এবং গ্যাসলাইন সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য কাস্টমস সেবা, নিয়মিত রেল যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সামাজিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা দিতে জনবল ঘাটতি পূরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় নীতিগত সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের গতি আরও বাড়বে। এর ফলে দেশে প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

 

পরিদর্শনকালে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সফরের শুরুতে মন্ত্রী কালিয়াকৈরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।




বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন

ঢাকা
বৃহস্পতিবার
৬ আগষ্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিমুল মাহমুদ | তারারদেশ নিউজ:

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক কাজী জেসিন। সরকার এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দিয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক (গ্রেড-১)পদে সাংবাদিক কাজী জেসিনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কাজী জেসিন দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপনা, সাংবাদিকতা ও টকশো সঞ্চালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন, যমুনা টিভি এবং দৈনিক আমার দেশ-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।গণমাধ্যমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে বিটিভির আধুনিকায়ন, সংবাদ পরিবেশনের মানোন্নয়ন এবং দর্শকসেবা বৃদ্ধিতে তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।




অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় এমপি বাচ্চুকে শোকজ

ঢাকা,

১৯ জুলাই ২০২৬ ইং
০৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
ডেস্ক রিপোর্ট :

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শোকজ করেছে বিএনপি।

আজ শনিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে এই নোটিশ পাঠানো হয়। এতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে ফখর উদ্দিন আহমেদের কাছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালে ছাত্র–গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে। তখন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এবারের চিঠিতে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, ‘৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে আপনাকে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

কৃত অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত বহিষ্কারাদেশ গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রত্যাহার করে আপনার প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি ও আপনার ঘনিষ্ঠ লোকজন আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নানা ধরনের অনৈতিক অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

‘আপনার বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ কারণ দর্শিয়ে আগামী ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টার মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।’

ফখর উদ্দিন আহমেদ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।




ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে কঠোর দুই সিটি প্রশাসক 

ঢাকা,

১৮ জুলাই ২০২৬ ইং
০৩ শ্রাবন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,

বিশেষ প্রতিবেদন :

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকা। সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, বিকল হয়ে পড়া যানবাহন ভোগান্তির মাত্রা বাড়ায় কয়েকগুণ। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক বছরে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এরপরও সেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দুই প্রশাসক বলেছেন, নগর ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার অভাবে দীর্ঘদিন এ সমস্যার সমাধান হয়নি। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে দখলমুক্ত হয়নি নগরের খাল-জলাশয়। অথচ, অন্তত খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুললে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব; সে লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা।

গত রোববার (১২ জুলাই) ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পানির নিচে তলিয়ে যায় বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন, কোথাও বিকল হয়ে পড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন। রাজধানীর অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। এই জলাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহপথ হারিয়ে যাওয়া।

নগর পরিকল্পনাবিদেরা জানান, একসময় রাজধানীর অসংখ্য খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক নালা দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে না ওঠায় সেই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি কোন পথে নদী-খালে যাবে সে পথটিই যেন হারিয়ে গেছে! ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি আটকে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।

ঢাকার বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৫৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নগরীর বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার ১৭ দশমিক ৭ মিলিমিটার। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত ও দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সামান্য কমলেও বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত প্রকৃতি এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। একই সময়ে দুদিনে সর্বোচ্চ ৪৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৪৭ বছরে মাত্র তিনবার একদিনে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। অথচ ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাত্র ২৪ বছরে একই মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় তিনবার।

১৯৮৮ সালে ওই জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার ২৬টি খালের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসাকে দেয় সরকার। তারপরও নগরের খালগুলো ক্রমেই বেদখল হয়ে যায়। অনেক খাল ভরাট করে গড়ে ওঠে বহুতল ভবন। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে ২০২১ সালে ওই খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে ওয়াসা। কিন্তু এখন পর্যন্ত খালগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। ফলে বৃষ্টি হলে শহরের পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।

ফলে প্রতিবছর ধানমন্ডি ২৭, নিউ মার্কেট, বংশাল, শান্তিনগর এলাকাসহ দক্ষিণ সিটির শতাধিক স্থানে পানি জমে। এছাড়া একই কারণে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায়ও প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়।

গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা কি জলাবদ্ধতা নিসরনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেছে? করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।— নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব

গত রোববার ও সোমবারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আগে ঢাকার ভেতর অসংখ্য জলাশয় ছিল। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে একে একে তা দখল, ভরাট হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টির পানি যাওয়ার জায়গা নেই। আবার গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা কি জলাবদ্ধতা নিসরনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেছে? করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। তাই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ব্লু নেটওয়ার্ক তৈরির বিকল্প নেই।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির জলাবদ্ধতার হটস্পট
ডিএসসিসিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ। সম্প্রতি তারা ডিএসসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেট এলাকা, মোকাররম ভবনের সামনে, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ এলাকা, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, চানমারির মোড়, শান্তিবাগ, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক অন্যতম।

গত সপ্তাহের রোববার ও সোমবার টানা বৃষ্টিতে ওই ২৯টি হটস্পট ছাড়া আরও শতাধিক জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।

আজিমপুরের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই আজিমপুর-নিউ মার্কেট এলাকা ডুবে যায়। পানির পরিমাণ এতটাই বেশি থাকে যে নৌকা চলবে। তিনি বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। কিন্তু তা নিরসনে সিটি করপোরেশনকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

‘নিউমার্কেটের সামনে জলাবদ্ধতা যেন আমাদের নিয়তি’ গত ৬ জুন রাজধানীর এক হোটেলে ‘ঢাকা দক্ষিণের জলাবদ্ধতা: বাস্তবতা ও করণীয়’, শিরোনামে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসসিসি আয়োজিত ওই সেমিনারে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার কারণ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানায় ডিএসসিসি। কিন্তু তারপরও এ জলাবদ্ধতা নিরসে শুধু ড্রেন-নালা পরিষ্কার ছাড়া তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায়ও প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।

বর্ষাকালে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পুরোপুরি জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অধিকাংশ খাল-বিল ভরাট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ কমে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি সরাতে সময় লাগে।

গত রোববারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পরদিন ১৩ জুলাই বনানীসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় জলাবদ্ধতা। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহোলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয়
ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির হিসাব বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিবছর গড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে বাজেট ঘোষণা করে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। এ বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেসব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়, তার মধ্যে একটি জলাবদ্ধতা নিরসন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ এক দশকে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি নালা নির্মাণ ও সংস্কার, খাল পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যান্য কাজে ব্যয় করেছে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালের আগে ঢাকার ২৬টি খাল পরিষ্কার বা পানি প্রবাহ ঠিক করতে আরও শত শত কোটি টাকা খরচ করেছে ঢাকা ওয়াসা। এরপরও শেষ হয়নি জলাবদ্ধতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে নদী বা জলাশয়ে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো ক্যানেল বা ড্রেন। কিন্তু ঢাকার খালগুলো বহু আগেই দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুই দিনের ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা।

ঢাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে খাল ও জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম নালা যুক্ত করে সমন্বিত পানিনিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প নেওয়া হলে কোনো সুফল মিলবে না।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটিতে খাল রয়েছে ২৯টি। এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৫ কিলোমিটার। খোলা নালা-নর্দমা ও পাইপ-নালা মিলিয়ে রয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার। দক্ষিণ সিটিতে রয়েছে ২৬টি খাল এবং এক হাজার ৩০০ কিলোমিটারের বেশি নালা-নর্দমা। কিন্তু কাগজে খাল থাকলেও সেগুলোতে পানি প্রবাহ নেই। অধিকাংশ খালের জায়গা ভরাট করে বেদখল হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারে না।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির পানি প্রথমে সড়ক থেকে নালায়, পরে কালভার্ট ও খাল হয়ে ‘আউটলেট’ দিয়ে নদীতে যাওয়ার কথা। এই পথের কোনো একটি অংশ বন্ধ, সরু বা বিচ্ছিন্ন হলে পুরো ব্যবস্থার সক্ষমতা কমে যায়। এমন অবস্থায় কোথাও নালার মুখ বর্জ্য ও পলিতে বন্ধ, কোথাও কালভার্ট সরু, আবার কোথাও খালের সঙ্গে নালার সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পানি নদীতে যেতে পারে না। তখনই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নাগরিক দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, বর্ষাকালে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পুরোপুরি জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অধিকাংশ খাল-বিল ভরাট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ কমে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি সরাতে সময় লাগে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বৃষ্টির পানি নদীতে নামার পথ সীমিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেই পথ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি বছরে পুরো সুফল না-ও মিলতে পারে, তবে আগামী বছর পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের মতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বেদখল খালগুলো উদ্ধার না করা পর্যন্ত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দখলমুক্তকরণ ও পুনঃখননের কাজ অব্যাহত থাকবে। নগরকে বাসযোগ্য রাখতে খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।




মুলাদী উপজেলা সমিতি ঢাকা’র কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৫ জুন সোমবার সন্ধ্যায় রমনা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে মুলাদী উপজেলা সমিতি ঢাকা’র কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাসির উদ্দিন বেপারী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লার সঞ্চালনায় সংগঠনের সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নতুন কমিটি গঠন বিষয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক ও পূর্বের ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন অনুযায়ী উপ-কমিটি গঠন করে সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সাথে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাতের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা সমিতি ঢাকা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আগস্ট অভূত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সমিতির কার্যক্রম কিছুটা স্থবির থাকলেও আগামী দিনে আবার যথাযথভাবে কার্যক্রম চলমান থাকবে সেই ধারাবাহিকতায় এই কার্যনির্বাহী কমিটির সভাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমিতির সদস্য এডভোকেট মোঃ ইউনুস আলী রবি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নী জেনারেল নিযুক্ত হওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।




প্রবাসী স্বামী শওকত কর্তৃক নির্যাতিত জেসমিনকে অপহরণ করে এবং তার দুই সন্তানকে জিম্মি করে রাখার প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন

আগামীকাল ১৭ জুন রোজ বুধবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ‘(ডিআরইউ’) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উদ্যোগে কুমিল্লার চৌদ্দ গ্রামের কাতার প্রবাসী মোঃ শওকত হোসেন, পিতা মৃত: মীর আহম্মদ, মাতা: মাছুমা আহমেদ, ঠিকানা: গ্রাম: আগদিয়া, পো: গুনবতি-৩৫৮৩, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা কর্তৃক নির্যাতিত জেসমিন আক্তারকে অপহরণ এবং তার দুই সন্তানকে জিম্মি করে রাখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সভাপতিত্বে ও জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো : মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করবেন পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার হওয়া নির্যাতিত ভিকটিম জেসমিন। ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। অসহায় ভিকটিমদের সার্বিকভাবে সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি ও ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের পক্ষ থেকে সবরকমের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

অসহায় নির্যাতিত ও নিপীড়নের শিকার জেসমিন ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভিকটিম পরিবারের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন – জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপি আহ্বায়ক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জনাব হাবিবুর রহমান হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন, বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, রুর‌্যাল জার্নালস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ রমিজ উদ্দিন রুমি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রজনতা আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি – নাজমুল হাসান।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দ গ্রাম উপজেলার কাতার প্রবাসী শওকত হোসেন পারিবারিকভাবে বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার লস্করপুর গ্রামের মোঃ ইব্রাহিম মাস্টার ও রাবেয়া বেগমের কন্যা জেসমিন আক্তারকে ১ মার্চ ২০১৯ সালে বিবাহ করেন এবং তাদের ঘরে দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, আরহী ইসলাম সাফা (৪), আব্দুল্লাহ আল সাফা (১৮ মাস)। করোনাকালীন সময়ে প্রবাসে যেতে না পারায় ব্যবসার জন্য আমার বাবার বাড়ী থেকে ৯ লক্ষ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে তাকে দেয় হয়। পরবর্তীতে সে ব্যবসায় লস খেয়ে প্রবাসে চলে যায়। এবং বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই আমার শ্বাশুরী মাসুমা, চাচী শ্বাশুরী পারভীন আক্তার, ননাশ নিলুফার, চাচা শ্বশুর আক্তার হোসেন এবং তার ছেলে নানাভাবে নির্যাতন ও নিপীড়ন করতে থাকে। আমাকে ও আমার সন্তানকে খাবার কষ্ট দেয় এবং ৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখে তাদেরই নির্দেশে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আমাকে অপহরণ করে এবং আমার ফোন ও কাগজপত্র সবকিছু নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার ভাতিজী সুমাইয়া আক্তার ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের মাধ্যমে আমাকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় নারী, শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, মামলা নং-১৫, তাং-০৮/০৬/২০২৬। মামলার ১নং আসামী মাসুমাসহ সকলে জামিনে এসে আবারও আমার উপর নির্যাতন শুরু করেছে এবং আমি বাড়ীতে বসবাস করার কোন অবস্থা এখন আর নেই। যে কোন মুহুর্তে আমাকে ও আমার দুই সন্তানকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এখন প্রতি মুহুর্তে আতঙ্কিত অবস্থায় জীবন-যাপন করছি। উল্লেখ্য ০৬/০৫/২০২৫ইং তারিখে ৩নং চর এককরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ বরাবর তালাক নোটিশ প্রেরণ করে। আমার স্বামী শওকত হোসেন কাতারে অবস্থান করে কিভাবে তালাক নোটিশ পাঠালো তা আমার বোধগম্য নয়, আমি মনে করি আমার শ্বাশুরি গংরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আমার নিকট তালাক নামা প্রেরণ করার খবর পেয়ে আমি একটি মামলা কুমিল্লা আদালতে দায়ের করি, মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।




চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাজেট: এনডিপি

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) বর্তমান সরকারের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা এবং মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থপাচার, লুটপাট এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটের মুখে পড়ে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই বর্তমান সরকার নতুন জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদ ও বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে বলে তারা মনে করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি কল্যাণমুখী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে বাজেট বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
এনডিপি নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। তারা সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের দেশের স্বার্থে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
খোন্দকার গোলাম মোর্তজা ও মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, “বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার রাজনীতি পরিহার করে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”
তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তি, ব্যবসায়ী সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাজেটের লক্ষ্যসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে আরও এগিয়ে যাবে।




নজরুল স্মৃতি পদক পেলেন লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি ও লেখক লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ‘নজরুল স্মৃতি পদক ২০২৬’ এ ভূষিত হয়েছেন। ১৩ জুন (শনিবার) বিকালে ঢাকাস্থ বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণার এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত। সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মাইন উদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পবিত্র কোরআন গবেষক সোসাইটির সভাপতি ড. এম মোশাররফ হোসেন এফসিএ, ঢাকা স্পেশালাইজড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একারামুল ইসলাম। নজরুল চর্চা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব কবি মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-কে নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে গবেষণা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রবন্ধ, কবিতা ও ছড়া লিখে আসছেন। তাঁর রচিত প্রবন্ধ ও কবিতা ইতিমধ্যে যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জাতীয় কবিকে নিয়ে লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল এর গবেষণা ও গবেষণালব্ধ প্রবন্ধের জন্যে তাঁকে ‘নজরুল স্মৃতি পদক ২০২৬’ পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয় এবং নির্ধারিত উত্তরীয় তাঁকে পরিয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ৮০’র দশক থেকে জাতীয় সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ ও কলাম লিখে ইতিমধ্যে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছোটদের শিক্ষামূলক ছড়া ও গল্প, শুভ্রতা চলে গেছে নীড়ে, একটি কবিতা, ভালোবাসতে বাসতে, সিডর বিধ্বস্ত বকুলতলা, নীলজলে প্রেম, একটি বক্তৃতার পংক্তিমালা, নবম শ্রেণীর কৃষি শিক্ষা সহায়ক বই, কিছু কথা, কৃষি ডিপ্লোমা ভর্তি সহায়ক বই উল্লেখযোগ্য।
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ১৯৭১ সালের ৬ মে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ ইসমাইল হোসেন এর ঔরসে ও মহীয়সী নারী আয়েশা খাতুন এর গর্ভের গৌরবান্বিত সন্তান তিনি। তাঁর নিজ এলাকায় তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুলকলেজ, শিশু গণশিক্ষা কেন্দ্র, পাঠাগার প্রভৃতি জনহিতকর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাঁর পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত ইসমাইল হোসেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ফাউন্ডেশেনের মাধ্যমে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরে অসহায় মানুষকে সহায়তাসহ নানা ধরণের জনহিতকর কাজ করে আসছেন।
তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। সংবাদপত্র ও সংবাদকর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতায় তার রয়েছে বিশেষ অবদান। তিনি গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা, গাজীপুর প্রেসক্লাবের অন্যতম দাতা সদস্য, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাথে তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন। তিনি এই সংস্থার কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি, স্থায়ী পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন সময়ে প্রশংসার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নিরাপদ নিউজের যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ সংবাদ এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর যুগ্মমহাসচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন যাবত প্রশংসার সাথে স্বীয় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশ-এর সাথে প্রায় ২৬ বছর যাবত নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কবি সংসদ বাংলাদেশের স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে স্বীয় দায়িত্ব প্রশংসার সাথে পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি কবি সংসদ বাংলাদেশের স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি লেখক উন্নয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রদত্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেলভিন জোন ফেলো- এমজেএফ সম্মাননা পদক, ভিন্নমাত্রা লেখক সম্মাননা ২০২৫, কবিসংসদ বাংলাদেশ সম্মাননা পদক, আরজেএফ আজীবন সম্মাননা পদক, কবি শামসুর রাহমান স্মৃতি পদকসহ শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে দুই শতাধিক সম্মাননা পদকে ভূষিত হয়েছেন। শিক্ষা বিস্তারে তার রয়েছে বিশেষ অবদান। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের সহায়তায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি উক্ত পদকে ভূষিত হওয়ায় বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।




অবিলম্বে ৯ম পেস্কেলের গেজেট ও বেসিক ১০০% কার্যকরের দাবি ৪র্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির

অবিলম্বে জাতীয় নবম পেস্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং বেসিক (মূল বেতন) ১০০% কার্যকরের দাবিতে ১১ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি (১৭-২০ গ্রেডভুক্ত) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতি মোঃ আজিম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তার হোসেন এর সঞ্চালনায় বক্তারা দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন না বাড়ায় বর্তমানে সবচেয়ে অবহেলিত ও কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এবং নিম্নআয়ের কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে অবিলম্বে জাতীয় নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবি।
সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যেন দ্রুত নতুন পেস্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং একই সাথে আমাদের মূল বেতন (বেসিক) ১০০% কার্যকর করা হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে বলেও সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন কার্যকরী সভাপতি মোঃ মোজাফফর হোসেন বাবুল, সহ-সভাপতি মোঃ মুনছুর আলী, হুমায়ুন কবির, মোঃ হেলাল উদ্দিন, আবুল হাশেম শান্তি, অজিউল্লাহ, কামাল মল্লিক, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ মনিরুল ইসলাম, মোঃ মোজাম্মেল হক, মোঃ রিপন মিয়া, যুগা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আক্কাস, শিপন মিয়া, মোঃ মনির হোসেন, আব্দুর রব, মোঃ সেলিম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলমগীর, মোঃ মামুন মোল্লা, মোঃ মাহবুব হোসেন সিকদার, মোঃ শাহ আলম, রুহুল কুদ্দুছ, শামীম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম মিন্টু, মোঃ তোফাজ্জল হোসেন নাজির, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ সজিব মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবুল হাসেম, আবুল কাশেম, মনোহর আলী, অর্থ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আউয়াল লিটন, মোঃ সেলিম, প্রচর সম্পাদক মোঃ লিটন, মোঃ রিয়াদ, সোহানুজ্জামান তুহিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মীনা আক্তার, নাসরিন আক্তার, কার্যকরী সদস্য মোঃ শিপন-২, আঈনুল ইসলাম, ওবায়দুর রহমান, মোঃ রমজান আলী রনি সহ প্রমুখ। এসময় বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দফতরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে-স্কেল ঘোষণা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নবম পে-স্কেলের প্রথম ধাপে ১০০% কার্যকরের দাবি জানান।




ঝিলমিল প্রকল্পে দ্রুত সময়ে বাড়ি করার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে – গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

ঢাকা, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১০ জুন, বিশেষ প্রতিনিধি: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, মানুষ যেন এক বছরের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পে বাড়ি ঘর করতে পারেন, সেই সুবিধা করে দিতে কাজ করা হচ্ছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আজ ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় রাজউক বাস্তবায়িত ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, অনেক বছর এ প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি ছিল না। ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প অভ্যন্তরে থানা, স্কুল, হাসপাতাল ও ইটিপি সেন্টার নির্মাণের কাজ চলমান আছে। অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এই প্রকল্প এলাকা আলোকিত করার জন্য স্ট্রিট লাইট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী ঝিলমিল প্রকল্পে নির্মাণাধীন স্কুল, হাসপাতাল, থানা ভবন এলাকা ঘুরে দেখেন। প্রকল্পের সাইট অফিসে প্রকল্প পরিচালক মো: আমিনুর রহমান এই প্রকল্পের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। এ সময় ঝিলমিল সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মো: মোশারফ হোসেন সোসাইটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম ও রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।